দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতকালে রক্তচাপের পরিমাপ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হয়ে যাচ্ছেতেই চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক বার্তা দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ থেকে বৃদ্ধ, হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বিশেষ করে রক্তচাপের ওঠা‑নামা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা সময়মতো মনিটরিং না করলে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের ঠান্ডা আবহাওয়া শরীরের রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে (vasoconstriction), ফলে রক্ত সঞ্চালনে প্রতিরোধ সৃষ্টি হয় এবং হার্টকে রক্ত সার্কুলেশনে বেশি চাপ দিতে হয়। এটি রক্তচাপকে প্রায় ৫‑১০ mmHg পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে, বিশেষত হঠাৎ কুয়াশা বা তাপমাত্রা কমলে। সেই সঙ্গে ঠান্ডায় শরীরের স্ট্রেস হরমোন যেমন অ্যাড্রেনালিন ও নোরঅ্যাড্রেনালিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা হার্টের কাজ ও রক্তচাপ উভয়কেই বাড়িয়ে দেয়।
শুধু ঠান্ডাই নয়, শীতকালে কম সূর্যালোকের কারণে ভিটামিন D-এর পরিমাণ কমে যায়, যা রক্তনালীর শিথিলতা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বায়ুর অগভীরতা, আবহাওয়ার অস্থিরতা বা আর্দ্রতার দ্রুত পরিবর্তনও রক্তচাপের ওঠা‑নামার সঙ্গে যুক্ত থাকে।
শীতের সময় লাইফস্টাইল পরিবর্তন ও রক্তচাপ বৃদ্ধিকে আরও জোরদার করছে। অনেকে বাইরে কম হাঁটাচলার ফলে শারীরিক কার্যকলাপ কমছে, ফলে ওজন বাড়ছে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হচ্ছে। শীতকালের খাবারের মধ্যে লবণ ও ক্যালরি বেশি থাকা, কম পানি খাওয়া এবং কম সক্রিয় থাকার কারণে রক্ত আরও ঘন হয়ে যেতে পারে—এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
চিকিৎসাব্যবস্থায় দেখা যাচ্ছে শীতকালে হৃদরোগ এবং রক্তচাপ‑সম্পর্কিত জরুরি চিকিৎসার সংখ্যাও বাড়ছে। যেমন, উত্তর ভারতের লুধিয়ানায় শীতের কুয়াশা ও তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য হার্ট সংক্রান্ত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৫ % বাড়তে দেখা গেছে। এতে কর্মরত ডাক্তাররা শীতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জীবনধারণের পরিবর্তন, খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো, পর্যাপ্ত পানি খাওয়া, ওষুধ ঠিকঠাক নেওয়া এবং ঘর উষ্ণ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
চিকিৎসকরা বিশেষভাবে সতর্ক করছেন যে, যারা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন বা হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য শীতকাল অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় বাড়তি নজরদারি, নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং প্রয়োজনে ঔষধের মাত্রা চিকিৎসকের পরামর্শমতো সামঞ্জস্য করা জরুরি। চিকিৎসকেরা বলেন, শীতকালে রক্তচাপ বাড়লে তা ‘স্বাভাবিক’ বলে উপেক্ষা করা উচিত নয়—বরং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, শীতের অত্যধিক চাপ এড়াতে ঘর ও শরীর উষ্ণ রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া, লবণ ও ভারি খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং রক্তচাপ নিয়মিত পরিমাপ করা উচিত।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতকালে রক্তচাপের পরিমাপ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হয়ে যাচ্ছেতেই চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক বার্তা দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ থেকে বৃদ্ধ, হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বিশেষ করে রক্তচাপের ওঠা‑নামা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা সময়মতো মনিটরিং না করলে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের ঠান্ডা আবহাওয়া শরীরের রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে (vasoconstriction), ফলে রক্ত সঞ্চালনে প্রতিরোধ সৃষ্টি হয় এবং হার্টকে রক্ত সার্কুলেশনে বেশি চাপ দিতে হয়। এটি রক্তচাপকে প্রায় ৫‑১০ mmHg পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে, বিশেষত হঠাৎ কুয়াশা বা তাপমাত্রা কমলে। সেই সঙ্গে ঠান্ডায় শরীরের স্ট্রেস হরমোন যেমন অ্যাড্রেনালিন ও নোরঅ্যাড্রেনালিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা হার্টের কাজ ও রক্তচাপ উভয়কেই বাড়িয়ে দেয়।
শুধু ঠান্ডাই নয়, শীতকালে কম সূর্যালোকের কারণে ভিটামিন D-এর পরিমাণ কমে যায়, যা রক্তনালীর শিথিলতা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বায়ুর অগভীরতা, আবহাওয়ার অস্থিরতা বা আর্দ্রতার দ্রুত পরিবর্তনও রক্তচাপের ওঠা‑নামার সঙ্গে যুক্ত থাকে।
শীতের সময় লাইফস্টাইল পরিবর্তন ও রক্তচাপ বৃদ্ধিকে আরও জোরদার করছে। অনেকে বাইরে কম হাঁটাচলার ফলে শারীরিক কার্যকলাপ কমছে, ফলে ওজন বাড়ছে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হচ্ছে। শীতকালের খাবারের মধ্যে লবণ ও ক্যালরি বেশি থাকা, কম পানি খাওয়া এবং কম সক্রিয় থাকার কারণে রক্ত আরও ঘন হয়ে যেতে পারে—এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
চিকিৎসাব্যবস্থায় দেখা যাচ্ছে শীতকালে হৃদরোগ এবং রক্তচাপ‑সম্পর্কিত জরুরি চিকিৎসার সংখ্যাও বাড়ছে। যেমন, উত্তর ভারতের লুধিয়ানায় শীতের কুয়াশা ও তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য হার্ট সংক্রান্ত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৫ % বাড়তে দেখা গেছে। এতে কর্মরত ডাক্তাররা শীতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জীবনধারণের পরিবর্তন, খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো, পর্যাপ্ত পানি খাওয়া, ওষুধ ঠিকঠাক নেওয়া এবং ঘর উষ্ণ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
চিকিৎসকরা বিশেষভাবে সতর্ক করছেন যে, যারা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন বা হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য শীতকাল অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় বাড়তি নজরদারি, নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং প্রয়োজনে ঔষধের মাত্রা চিকিৎসকের পরামর্শমতো সামঞ্জস্য করা জরুরি। চিকিৎসকেরা বলেন, শীতকালে রক্তচাপ বাড়লে তা ‘স্বাভাবিক’ বলে উপেক্ষা করা উচিত নয়—বরং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, শীতের অত্যধিক চাপ এড়াতে ঘর ও শরীর উষ্ণ রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া, লবণ ও ভারি খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং রক্তচাপ নিয়মিত পরিমাপ করা উচিত।

আপনার মতামত লিখুন