ঢালিউডে কৌতুক অভিনেতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও যাঁরা নিজেদের প্রতিভায় আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে দিলদার অন্যতম। প্রকৃত নাম দেলোয়ার হোসেন। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শকের হাসির রোল। আশি ও নব্বই দশকের সিনেমায় কৌতুক চরিত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তাঁর। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে হাস্যরসের অভিনেতা হয়েও ‘আব্দুল্লাহ’ ছবিতে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রিকে চমকে দেন দিলদার, যা বাণিজ্যিকভাবেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে।
প্রায় পঁচিশ বছর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত ‘আব্দুল্লাহ’ ছবিতে কেন্দ্রীয় নায়ক চরিত্রে কাজের প্রস্তাব পান দিলদার। প্রস্তাব শুনে তিনি নিজেই ছিলেন দ্বিধায়। নির্মাতাকে তখন দিলদার বলেছিলেন, ‘আপনি কি আমার পেটে লাথি দিতে আসছেন? এই সিনেমা করার পর তো আমার কৌতুকের জায়গাটাও হারিয়ে যাবে। আমার তো আর কাজই থাকবে না। বৌ-বাচ্চা নিয়ে তখন কই যাব?’ নায়ক চরিত্রে অভিনয় করলে নিজের পরিচিত অবস্থান হারানোর শঙ্কাই ছিল তাঁর প্রধান উদ্বেগ।
নির্মাতা বকুলের অনুরোধ ও আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত রাজি হন দিলদার। তবে নতুন করে দেখা দেয় নায়িকা সংকট। ছবিটিতে দিলদারের বিপরীতে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন সে সময়ের জনপ্রিয় ও ব্যস্ত নায়িকা মৌসুমী, শাবনূরসহ আরও কয়েকজন অভিনেত্রী। কে হবেন নায়িকা—এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে প্রস্তাব যায় অভিনেত্রী নূতনের কাছে। সব আলোচনা শেষে তিনি ছবিটিতে অভিনয়ে সম্মতি দেন।
দিলদারের বিপরীতে অভিনয় প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নূতন বলেন, দিলদার চলচ্চিত্রে আসার আগ থেকেই তিনি তাকে চিনতেন এবং পরবর্তী সময়ে একসঙ্গে অনেক কাজ করেছেন। ‘আব্দুল্লাহ’ ছবিতেই প্রথম নায়ক হিসেবে দিলদারকে পেয়েছিলেন তিনি। নূতনের ভাষায়, ছবিটিতে কাজ করতে রাজি হওয়ার পর প্রায় সবাই তাকে নিষেধ করেছিলেন। তবে তিনি মনে করতেন, একজন নায়িকা হিসেবে নির্মাতা যাকে তার বিপরীতে দাঁড় করাবেন, তার সঙ্গে অভিনয় করা তার পেশাগত দায়িত্ব। কাজ শেষ হওয়ার পরই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, দর্শক তাকে কতটা ভালোবাসেন।
‘আব্দুল্লাহ’ ছবিতে দিলদারের বিপরীতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নূতনের কাছে অনেকেই ফোন করে কাজটি না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সব নিষেধ উপেক্ষা করেই তিনি অভিনয় করেন। পরবর্তীতে এই সিনেমাটি নূতনের অভিনয় জীবনের অন্যতম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে পরিণত হয়।
দিলদার-নূতন জুটির এই সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর দর্শকদের ঢল নামে। সিনেমাপ্রেমীরা হুমড়ি খেয়ে হলে আসেন এবং ছবিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আব্দুল্লাহ’ সে সময় প্রায় ৫ কোটি টাকার ব্যবসা করে, যা তৎকালীন চলচ্চিত্র শিল্পে ছিল বড় সাফল্যের উদাহরণ।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
ঢালিউডে কৌতুক অভিনেতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও যাঁরা নিজেদের প্রতিভায় আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে দিলদার অন্যতম। প্রকৃত নাম দেলোয়ার হোসেন। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শকের হাসির রোল। আশি ও নব্বই দশকের সিনেমায় কৌতুক চরিত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তাঁর। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে হাস্যরসের অভিনেতা হয়েও ‘আব্দুল্লাহ’ ছবিতে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রিকে চমকে দেন দিলদার, যা বাণিজ্যিকভাবেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে।
প্রায় পঁচিশ বছর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত ‘আব্দুল্লাহ’ ছবিতে কেন্দ্রীয় নায়ক চরিত্রে কাজের প্রস্তাব পান দিলদার। প্রস্তাব শুনে তিনি নিজেই ছিলেন দ্বিধায়। নির্মাতাকে তখন দিলদার বলেছিলেন, ‘আপনি কি আমার পেটে লাথি দিতে আসছেন? এই সিনেমা করার পর তো আমার কৌতুকের জায়গাটাও হারিয়ে যাবে। আমার তো আর কাজই থাকবে না। বৌ-বাচ্চা নিয়ে তখন কই যাব?’ নায়ক চরিত্রে অভিনয় করলে নিজের পরিচিত অবস্থান হারানোর শঙ্কাই ছিল তাঁর প্রধান উদ্বেগ।
নির্মাতা বকুলের অনুরোধ ও আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত রাজি হন দিলদার। তবে নতুন করে দেখা দেয় নায়িকা সংকট। ছবিটিতে দিলদারের বিপরীতে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন সে সময়ের জনপ্রিয় ও ব্যস্ত নায়িকা মৌসুমী, শাবনূরসহ আরও কয়েকজন অভিনেত্রী। কে হবেন নায়িকা—এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে প্রস্তাব যায় অভিনেত্রী নূতনের কাছে। সব আলোচনা শেষে তিনি ছবিটিতে অভিনয়ে সম্মতি দেন।
দিলদারের বিপরীতে অভিনয় প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নূতন বলেন, দিলদার চলচ্চিত্রে আসার আগ থেকেই তিনি তাকে চিনতেন এবং পরবর্তী সময়ে একসঙ্গে অনেক কাজ করেছেন। ‘আব্দুল্লাহ’ ছবিতেই প্রথম নায়ক হিসেবে দিলদারকে পেয়েছিলেন তিনি। নূতনের ভাষায়, ছবিটিতে কাজ করতে রাজি হওয়ার পর প্রায় সবাই তাকে নিষেধ করেছিলেন। তবে তিনি মনে করতেন, একজন নায়িকা হিসেবে নির্মাতা যাকে তার বিপরীতে দাঁড় করাবেন, তার সঙ্গে অভিনয় করা তার পেশাগত দায়িত্ব। কাজ শেষ হওয়ার পরই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, দর্শক তাকে কতটা ভালোবাসেন।
‘আব্দুল্লাহ’ ছবিতে দিলদারের বিপরীতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নূতনের কাছে অনেকেই ফোন করে কাজটি না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সব নিষেধ উপেক্ষা করেই তিনি অভিনয় করেন। পরবর্তীতে এই সিনেমাটি নূতনের অভিনয় জীবনের অন্যতম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে পরিণত হয়।
দিলদার-নূতন জুটির এই সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর দর্শকদের ঢল নামে। সিনেমাপ্রেমীরা হুমড়ি খেয়ে হলে আসেন এবং ছবিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আব্দুল্লাহ’ সে সময় প্রায় ৫ কোটি টাকার ব্যবসা করে, যা তৎকালীন চলচ্চিত্র শিল্পে ছিল বড় সাফল্যের উদাহরণ।

আপনার মতামত লিখুন