ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কৃষক দল নেতা : গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে বিসমিল্লাহ পরাজিত হবে, আমরা ‘না’ ভোট দেব


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

 কৃষক দল নেতা : গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে বিসমিল্লাহ পরাজিত হবে, আমরা ‘না’ ভোট দেব

 আগামী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে সংবিধানে থাকা ধর্মীয় বাক্য ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহর নামে শুরু করিলাম’ পরাজিত হবে—এমন মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা কৃষক দলের আহ্বায়ক জুয়েল আরমান। তিনি বলেছেন, তাই তার দল ও সমর্থকরা গণভোটে ‘না’ ভোট দেবেন, এমনটাই ভিডিও বার্তায় জানান তিনি।

 রবিবার (১১ জানুয়ারি) ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিভ মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জুয়েল আরমান জনগণে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে সংবিধানের ‘বিসমিল্লাহ ও আল্লাহর নামে শুরু করিলাম’ পরাজিত হবে”, এবং তাই সবাইকে ‘না’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

জুয়েল আরমান একথা উচ্চারণের সময় একটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যা করেন, যেখানে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ভোটাররা লক্ষ্য করে শুনুন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে ‘না’ ভোট দেয়া উচিত। তিনি ভিডিও বার্তায় যোগ করেন, “যদি ‘না’ ভোট জিতে যায়, তাহলে সংবিধানে ধর্মীয় বাক্য জয়ী হবে”—এমন প্রতিশ্রুতি দেন।

এই মন্তব্যের ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকের মধ্যে এতে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সমালোচকেরা বলছেন, সংবিধানে ধর্মীয় বাক্য সংরক্ষণের মতো মৌলিক বিষয় সরাসরি এই গণভোট প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং এর মতো বক্তব্য বিভ্রান্তিকর।

এদিকে, চলতি সময় দেশের রাজনীতিতে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের জন্য আয়োজিত এই গণভোট কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির মতভেদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারণা চালানো হচ্ছে যাতে ভোটাররা পরিবর্তনের সুফল সম্পর্কে জানে এবং অংশগ্রহণ বাড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, গণভোটটি শুধু একটি প্রশ্নে ভোট নয়, বরং দেশের সংবিধানে উল্লেখিত পরিবর্তনগুলোর ভোক্তা বা বিপক্ষ মতামত যাচাইয়ের একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও ব্যক্তির বক্তব্য নিয়েও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছ।

এ বিষয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের অবস্থান জানাচ্ছেন—কিছু দল ‘হ্যাঁ’ ভোটে অংশগ্রহণের পক্ষে, আবার অনেকে এই নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। বিষয়টি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিতর্ক ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কৃষক দল নেতা : গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে বিসমিল্লাহ পরাজিত হবে, আমরা ‘না’ ভোট দেব

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

 আগামী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে সংবিধানে থাকা ধর্মীয় বাক্য ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহর নামে শুরু করিলাম’ পরাজিত হবে—এমন মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা কৃষক দলের আহ্বায়ক জুয়েল আরমান। তিনি বলেছেন, তাই তার দল ও সমর্থকরা গণভোটে ‘না’ ভোট দেবেন, এমনটাই ভিডিও বার্তায় জানান তিনি।

 রবিবার (১১ জানুয়ারি) ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিভ মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জুয়েল আরমান জনগণে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে সংবিধানের ‘বিসমিল্লাহ ও আল্লাহর নামে শুরু করিলাম’ পরাজিত হবে”, এবং তাই সবাইকে ‘না’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

জুয়েল আরমান একথা উচ্চারণের সময় একটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যা করেন, যেখানে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ভোটাররা লক্ষ্য করে শুনুন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে ‘না’ ভোট দেয়া উচিত। তিনি ভিডিও বার্তায় যোগ করেন, “যদি ‘না’ ভোট জিতে যায়, তাহলে সংবিধানে ধর্মীয় বাক্য জয়ী হবে”—এমন প্রতিশ্রুতি দেন।

এই মন্তব্যের ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকের মধ্যে এতে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সমালোচকেরা বলছেন, সংবিধানে ধর্মীয় বাক্য সংরক্ষণের মতো মৌলিক বিষয় সরাসরি এই গণভোট প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং এর মতো বক্তব্য বিভ্রান্তিকর।

এদিকে, চলতি সময় দেশের রাজনীতিতে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের জন্য আয়োজিত এই গণভোট কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির মতভেদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারণা চালানো হচ্ছে যাতে ভোটাররা পরিবর্তনের সুফল সম্পর্কে জানে এবং অংশগ্রহণ বাড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, গণভোটটি শুধু একটি প্রশ্নে ভোট নয়, বরং দেশের সংবিধানে উল্লেখিত পরিবর্তনগুলোর ভোক্তা বা বিপক্ষ মতামত যাচাইয়ের একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও ব্যক্তির বক্তব্য নিয়েও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছ।

এ বিষয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের অবস্থান জানাচ্ছেন—কিছু দল ‘হ্যাঁ’ ভোটে অংশগ্রহণের পক্ষে, আবার অনেকে এই নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। বিষয়টি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিতর্ক ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ