ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরানে বিক্ষোভ, নিহত অন্তত ১৯২


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানে বিক্ষোভ, নিহত অন্তত ১৯২

 ইরানে সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছে নরওয়ে ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন Iran Human Rights। সংগঠনটি জানিয়েছে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনে এই পর্যন্ত এটি যাচাইযোগ্য সংখ্যা, তবে ইন্টারনেট নিষ্ক্রিয়তার কারণে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

বিক্ষোভ শুরু হয় অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার বিরুদ্ধে, যা দ্রুত সরকারের বিরোধী চাপের স্লোগানে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজধানী তেহরানসহ মাশহাদ, তাবরিজ, উরমিয়া, ইসফাহান, কারাজ ও ইয়াজ্দসহ বিভিন্ন শহরের রাজপথে বিক্ষোভকারীরা অংশ নিচ্ছেন।

সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমাতে লাইভ গোলাবারুদ, টিয়ার গ্যাস ও কঠোর অভিযান চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। এই ঘটনায় বহু সাধারণ মানুষ আহত ও নিহত হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যার সম্মত তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইরান কর্তৃপক্ষ দেশব্যাপী ইন্টারনেট ও ফোন যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে, ফলে আহত ও নিহতের পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য যাচাই করা কঠিন হচ্ছে। এই ব্ল্যাকআউট পদক্ষেপটি সংবাদ ও প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সরকারি পক্ষ বিক্ষোভকারীদের “নাশকতা ও অশান্তি সৃষ্টি করা” বলে অভিহিত করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষা’ এবং শাসনব্যবস্থার স্থায়িত্ব ধরে রাখার অঙ্গীকার জানিয়ে বিক্ষোভ প্রতিহত করছে।

একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করেছে যে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হচ্ছে না, এবং ইতিমধ্যেই শনাক্ত হওয়া সংখ্যাটিকেই সবচেয়ে কম নিশ্চিত সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্মীরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো নিহত ও আহত বিক্ষোভকারীদের ভিড়ে বিপর্যয়ে পড়ছে। রোগীদের মধ্যে অনেকের শরীরে সরাসরি গুলির আঘাতের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যদিও সরকার পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ দিচ্ছে বলে দাবি করছে, বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ও তীব্রতা কমেনি।

এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বা কোন সরকারী তদন্ত কমিশন ঘটনাগুলো পূর্ণভাবে যাচাই করতে পারেনি। ইন্টারনেট ও যোগাযোগ সীমাবদ্ধ থাকায় বিক্ষোভ প্রসারের ভিডিও, ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ সংগ্রহ সীমিত। ফলে বিভিন্ন সংস্থার দেয়া নিহতের সংখ্যা ও সময়ভিত্তিক তথ্যের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ইরানে সরকারের বিরুদ্ধে দুই সপ্তাহ ধরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষে বিক্ষোভ চলছে এবং এতে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছে — তবে প্রকৃত সংখ্যা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও যোগাযোগবাধার কারণে অনিশ্চিত। বিক্ষোভ ব্যাপক, নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর, ও তথ্য সংগ্রহ কঠিন। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইরানে বিক্ষোভ, নিহত অন্তত ১৯২

প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

 ইরানে সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছে নরওয়ে ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন Iran Human Rights। সংগঠনটি জানিয়েছে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনে এই পর্যন্ত এটি যাচাইযোগ্য সংখ্যা, তবে ইন্টারনেট নিষ্ক্রিয়তার কারণে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

বিক্ষোভ শুরু হয় অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার বিরুদ্ধে, যা দ্রুত সরকারের বিরোধী চাপের স্লোগানে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজধানী তেহরানসহ মাশহাদ, তাবরিজ, উরমিয়া, ইসফাহান, কারাজ ও ইয়াজ্দসহ বিভিন্ন শহরের রাজপথে বিক্ষোভকারীরা অংশ নিচ্ছেন।

সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমাতে লাইভ গোলাবারুদ, টিয়ার গ্যাস ও কঠোর অভিযান চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। এই ঘটনায় বহু সাধারণ মানুষ আহত ও নিহত হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যার সম্মত তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইরান কর্তৃপক্ষ দেশব্যাপী ইন্টারনেট ও ফোন যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে, ফলে আহত ও নিহতের পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য যাচাই করা কঠিন হচ্ছে। এই ব্ল্যাকআউট পদক্ষেপটি সংবাদ ও প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সরকারি পক্ষ বিক্ষোভকারীদের “নাশকতা ও অশান্তি সৃষ্টি করা” বলে অভিহিত করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষা’ এবং শাসনব্যবস্থার স্থায়িত্ব ধরে রাখার অঙ্গীকার জানিয়ে বিক্ষোভ প্রতিহত করছে।

একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করেছে যে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হচ্ছে না, এবং ইতিমধ্যেই শনাক্ত হওয়া সংখ্যাটিকেই সবচেয়ে কম নিশ্চিত সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্মীরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো নিহত ও আহত বিক্ষোভকারীদের ভিড়ে বিপর্যয়ে পড়ছে। রোগীদের মধ্যে অনেকের শরীরে সরাসরি গুলির আঘাতের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যদিও সরকার পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ দিচ্ছে বলে দাবি করছে, বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ও তীব্রতা কমেনি।

এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বা কোন সরকারী তদন্ত কমিশন ঘটনাগুলো পূর্ণভাবে যাচাই করতে পারেনি। ইন্টারনেট ও যোগাযোগ সীমাবদ্ধ থাকায় বিক্ষোভ প্রসারের ভিডিও, ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ সংগ্রহ সীমিত। ফলে বিভিন্ন সংস্থার দেয়া নিহতের সংখ্যা ও সময়ভিত্তিক তথ্যের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ইরানে সরকারের বিরুদ্ধে দুই সপ্তাহ ধরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষে বিক্ষোভ চলছে এবং এতে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছে — তবে প্রকৃত সংখ্যা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও যোগাযোগবাধার কারণে অনিশ্চিত। বিক্ষোভ ব্যাপক, নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর, ও তথ্য সংগ্রহ কঠিন। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ