ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে ১০ কোটি ২০ লাখ টাকার অনুদান


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে ১০ কোটি ২০ লাখ টাকার অনুদান

ঢাকার উত্তরা এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে সরকার মোট ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া নিশ্চিত তথ্যে জানা যায়, নিহত ও আহতদের পরিবারকে সহায়তার জন্য প্রণীত এই প্রস্তাব ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদন পেলে আগামী জুন ২০২৬ সালের মধ্যেই অর্থ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

গত ২১ জুলাই ২০২৫ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় স্কুলে শ্রেণিকাজ চলমান থাকায় ঘটনাস্থলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় ৩৫–৩৬ জনের মৃত্যু এবং ৫০–৭০ জনের মতো আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিচ্ছেন।

দুর্ঘটনার পরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‌্যাব যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত ব্লকে আগুনে দগ্ধ বেশ কিছু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা আহতদের বের করতে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালান। এসময় পুরো ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করে।

নিহত ও আহতদের পরিবার–পরিজনের পাশে দাঁড়াতে সরকার বিশেষ অনুদান প্রস্তাব করেছে। এতে প্রতিটি নিহতের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা এবং প্রতিটি আহতের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী মোট ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবটি অনুমোদনের পর সরকারি কোষাগারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি, গুরুতর আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য আলাদা তহবিল গঠনের কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত দুই নারী শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্কুল প্রাঙ্গণে এখনো শোকাহত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আগমন দেখা যায়। ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুনর্গঠন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

 বিমান দুর্ঘটনার কারণ জানতে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ করছে এবং যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের রুট পরিবর্তনসহ একাধিক সুপারিশ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দেশের ইতিহাসে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা মানুষকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বেসামরিক এলাকায় সামরিক উড্ডয়নের ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র।

নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে ১০ কোটি ২০ লাখ টাকার অনুদান

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ঢাকার উত্তরা এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে সরকার মোট ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া নিশ্চিত তথ্যে জানা যায়, নিহত ও আহতদের পরিবারকে সহায়তার জন্য প্রণীত এই প্রস্তাব ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদন পেলে আগামী জুন ২০২৬ সালের মধ্যেই অর্থ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

গত ২১ জুলাই ২০২৫ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় স্কুলে শ্রেণিকাজ চলমান থাকায় ঘটনাস্থলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় ৩৫–৩৬ জনের মৃত্যু এবং ৫০–৭০ জনের মতো আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিচ্ছেন।

দুর্ঘটনার পরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‌্যাব যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত ব্লকে আগুনে দগ্ধ বেশ কিছু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা আহতদের বের করতে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালান। এসময় পুরো ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করে।

নিহত ও আহতদের পরিবার–পরিজনের পাশে দাঁড়াতে সরকার বিশেষ অনুদান প্রস্তাব করেছে। এতে প্রতিটি নিহতের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা এবং প্রতিটি আহতের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী মোট ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবটি অনুমোদনের পর সরকারি কোষাগারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি, গুরুতর আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য আলাদা তহবিল গঠনের কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত দুই নারী শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্কুল প্রাঙ্গণে এখনো শোকাহত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আগমন দেখা যায়। ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুনর্গঠন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

 বিমান দুর্ঘটনার কারণ জানতে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ করছে এবং যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের রুট পরিবর্তনসহ একাধিক সুপারিশ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দেশের ইতিহাসে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা মানুষকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বেসামরিক এলাকায় সামরিক উড্ডয়নের ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র।

নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসী।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ