ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও সংযমের আহ্বান

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা: কোন দেশ কী বলছে?


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা: কোন দেশ কী বলছে?

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার মিত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরি সম্পর্ক থাকা দেশগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি দেশ উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

ইরান : ইরান এই হামলাকে ভেনেজুয়েলার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। বিশেষ করে সনদের অনুচ্ছেদ ২ ও ৪ অনুযায়ী বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ— এই বিধান সরাসরি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মন্তব্য করে তেহরান। তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রকাশ্য লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।

কলম্বিয়া : ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এ ঘটনাকে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই হামলার ফলে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানান এবং ভেনেজুয়েলার সীমান্ত এলাকায় বেসামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেন।

রাশিয়া : রাশিয়া ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলার কোনো বৈধ বা গ্রহণযোগ্য অজুহাত নেই। তিনি আরও বলেছে, ভেনেজুয়েলাকে বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার দিতে হবে এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে তারা সংহতি প্রকাশ করছে।

কিউবা : কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরাধমূলক আক্রমণ’-এর তীব্র নিন্দা জানান। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ অঞ্চলে বর্বর আক্রমণ শুধু ভেনেজুয়েলার জনগণের ওপর নয়, বরং পুরো লাতিন আমেরিকার ওপরই আঘাত।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন : ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কাজা কালাস জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইইউ সবসময় আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধার কথা বলেছে এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় অবস্থানরত ইইউ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য : যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। তিনি বলেন, মাদুরোকে আটক করার বিষয়ে এখনো তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেননি এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় সব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

স্পেন : স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলায় সংযম ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে দেশটিতে গণতান্ত্রিক, আলোচনাভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পেতে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করে মাদ্রিদ।

জার্মানি : জার্মানি জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখছে।

ইতালি : ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানান, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দেশটিতে অবস্থানরত ইতালীয় নাগরিকদের বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার ইতালীয় নাগরিক বসবাস করছেন।

ট্রিনিদাদ ও টোবাগো : ট্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা পার্সাদ-বিসেসর এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ভেতরে সামরিক অভিযান শুরু করলেও ট্রিনিদাদ ও টোবাগো এতে কোনোভাবেই জড়িত নয় এবং তারা ভেনেজুয়েলার জনগণের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা: কোন দেশ কী বলছে?

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার মিত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরি সম্পর্ক থাকা দেশগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি দেশ উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।


ইরান : ইরান এই হামলাকে ভেনেজুয়েলার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। বিশেষ করে সনদের অনুচ্ছেদ ২ ও ৪ অনুযায়ী বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ— এই বিধান সরাসরি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মন্তব্য করে তেহরান। তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রকাশ্য লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।


কলম্বিয়া : ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এ ঘটনাকে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই হামলার ফলে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানান এবং ভেনেজুয়েলার সীমান্ত এলাকায় বেসামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেন।


রাশিয়া : রাশিয়া ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলার কোনো বৈধ বা গ্রহণযোগ্য অজুহাত নেই। তিনি আরও বলেছে, ভেনেজুয়েলাকে বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার দিতে হবে এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে তারা সংহতি প্রকাশ করছে।


কিউবা : কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরাধমূলক আক্রমণ’-এর তীব্র নিন্দা জানান। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ অঞ্চলে বর্বর আক্রমণ শুধু ভেনেজুয়েলার জনগণের ওপর নয়, বরং পুরো লাতিন আমেরিকার ওপরই আঘাত।


ইউরোপীয় ইউনিয়ন : ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কাজা কালাস জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইইউ সবসময় আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধার কথা বলেছে এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় অবস্থানরত ইইউ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


যুক্তরাজ্য : যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। তিনি বলেন, মাদুরোকে আটক করার বিষয়ে এখনো তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেননি এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় সব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।


স্পেন : স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলায় সংযম ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে দেশটিতে গণতান্ত্রিক, আলোচনাভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পেতে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করে মাদ্রিদ।


জার্মানি : জার্মানি জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখছে।


ইতালি : ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানান, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দেশটিতে অবস্থানরত ইতালীয় নাগরিকদের বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার ইতালীয় নাগরিক বসবাস করছেন।


ট্রিনিদাদ ও টোবাগো : ট্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা পার্সাদ-বিসেসর এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ভেতরে সামরিক অভিযান শুরু করলেও ট্রিনিদাদ ও টোবাগো এতে কোনোভাবেই জড়িত নয় এবং তারা ভেনেজুয়েলার জনগণের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ