ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান এলাকায় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে। সকাল থেকে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের ব্যানার–ফেস্টুন হাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা দলীয় শোকের পরিবেশে কবর প্রাঙ্গণে ঢোকার জন্য অবস্থান নেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন, যাতে ভিড় সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। 

তিনি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান। পরদিন ৩১ ডিসেম্বর দুপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা সম্পন্ন করে জিয়া উদ্যান এলাকায় তাঁর দাফন করা হয়। দাফন শেষে পরবর্তী দিন দুপুরে কবরটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

দাফনের পরদিন থেকে কবর প্রাঙ্গণে ভক্ত ও সমর্থকদের ভিড় বেড়ে যায়। সকাল থেকেই দলীয় নেতারা, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে ফুল, পুষ্পস্তবক ও ফাতেহা পাঠ করার জন্য জিয়ার স্থানে প্রবেশ করেন। প্রবেশপথে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়ে মানুষের চাপ নজরে আসে, যাদের মধ্যে অনেকে দলীয় পোস্টার চোখে পড়ে এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর অবদানের স্মৃতি স্মরণ করেন। 

সাধারণ নাগরিকরা বলেছেন, তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ ও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছেন। অনেকেই ট্রেন বা ব্যক্তিগত যানবাহনে দীর্ঘ সফর করে জিয়ার কবর জিয়ারতে অংশ নেন। কিছু অংশের দর্শনার্থীরা দোয়া ও কুরআনের আয়াত পাঠ করেন, আবার কেউ কেউ ফুল ও পুস্পস্তবক স্থাপন করেন। অনেকে চোখে অশ্রু নিয়ে আবেগঘন পরিবেশে স্মৃতিচারণ করেন। 

এ সময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষ—বয়সে বড় থেকে শিশু ও কিশোরদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রবেশপথে ও পার্কের বিভিন্ন স্থানে ভিড়কে নিয়ন্ত্রণে রাখছিলেন এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। 

আজ সকাল ১০:৩০ টার দিকে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা, যার মধ্যে তার নাতনি জাইমা রহমান সহ অন্যান্য আত্মীয়রা কবর জিয়ারত করেন এবং সেখানে কুরআনের আয়াত পাঠ এবং দোয়া করেন। তাদের জিয়ারত চলাকালীন কিছুক্ষণ জনসাধারণের প্রবেশ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে নেতাকর্মীদের ও সাধারণ মানুষের এই উপস্থিতি শুধু দলীয় শোক নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রভাবশালী এক চরিত্র ও নেতা হিসেবে তার অবস্থানের প্রতিফলন। এতে দেখা যাচ্ছে বহু মানুষ তাঁর জীবদ্দশার ভূমিকা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদানকে স্মরণ করছে। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল

প্রকাশের তারিখ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান এলাকায় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে। সকাল থেকে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের ব্যানার–ফেস্টুন হাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা দলীয় শোকের পরিবেশে কবর প্রাঙ্গণে ঢোকার জন্য অবস্থান নেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন, যাতে ভিড় সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। 

তিনি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান। পরদিন ৩১ ডিসেম্বর দুপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা সম্পন্ন করে জিয়া উদ্যান এলাকায় তাঁর দাফন করা হয়। দাফন শেষে পরবর্তী দিন দুপুরে কবরটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

দাফনের পরদিন থেকে কবর প্রাঙ্গণে ভক্ত ও সমর্থকদের ভিড় বেড়ে যায়। সকাল থেকেই দলীয় নেতারা, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে ফুল, পুষ্পস্তবক ও ফাতেহা পাঠ করার জন্য জিয়ার স্থানে প্রবেশ করেন। প্রবেশপথে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়ে মানুষের চাপ নজরে আসে, যাদের মধ্যে অনেকে দলীয় পোস্টার চোখে পড়ে এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর অবদানের স্মৃতি স্মরণ করেন। 

সাধারণ নাগরিকরা বলেছেন, তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ ও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছেন। অনেকেই ট্রেন বা ব্যক্তিগত যানবাহনে দীর্ঘ সফর করে জিয়ার কবর জিয়ারতে অংশ নেন। কিছু অংশের দর্শনার্থীরা দোয়া ও কুরআনের আয়াত পাঠ করেন, আবার কেউ কেউ ফুল ও পুস্পস্তবক স্থাপন করেন। অনেকে চোখে অশ্রু নিয়ে আবেগঘন পরিবেশে স্মৃতিচারণ করেন। 

এ সময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষ—বয়সে বড় থেকে শিশু ও কিশোরদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রবেশপথে ও পার্কের বিভিন্ন স্থানে ভিড়কে নিয়ন্ত্রণে রাখছিলেন এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। 

আজ সকাল ১০:৩০ টার দিকে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা, যার মধ্যে তার নাতনি জাইমা রহমান সহ অন্যান্য আত্মীয়রা কবর জিয়ারত করেন এবং সেখানে কুরআনের আয়াত পাঠ এবং দোয়া করেন। তাদের জিয়ারত চলাকালীন কিছুক্ষণ জনসাধারণের প্রবেশ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে নেতাকর্মীদের ও সাধারণ মানুষের এই উপস্থিতি শুধু দলীয় শোক নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রভাবশালী এক চরিত্র ও নেতা হিসেবে তার অবস্থানের প্রতিফলন। এতে দেখা যাচ্ছে বহু মানুষ তাঁর জীবদ্দশার ভূমিকা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদানকে স্মরণ করছে। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ