ভারতের জনপ্রিয় স্পাই–অ্যাকশন চলচ্চিত্র ‘ধুরন্ধর’ পাকিস্তানে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও দেশটিতে অবৈধভাবে সিনেমাটি দেখার হিড়িক নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। পাকিস্তানি সেন্সর বোর্ড ও তথ্য মন্ত্রণালয় ছবিটিকে মুক্তির অনুমতি না দেওয়ায় এটি প্রেক্ষাগৃহ, ওটিটি কিংবা কেবল টিভির মাধ্যমে দেখা সম্ভব হয়নি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পরই পাকিস্তানি দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল বেড়ে যায় কয়েকগুণ, যার ফলে মাত্র ১০–১২ দিনের মধ্যেই সিনেমাটি অনলাইন পাইরেসি সাইট, টরেন্ট এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখের বেশি বার ডাউনলোড হয়েছে বলে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বিনোদন গণমাধ্যমগুলো একাধিক রিপোর্টে জানিয়েছে। এর ফলে ‘ধুরন্ধর’ পাকিস্তানে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি পাইরেটেড ভারতীয় ছবি হিসেবে রেকর্ড ভেঙেছে।
নিষিদ্ধ থাকার কারণে দর্শকরা VPN ব্যবহার করে বিদেশি সার্ভার থেকে সিনেমাটির এইচডি ও ক্যামেরা–প্রিন্ট সংস্করণ ডাউনলোড করছে। টেলিগ্রামের একাধিক বড় গ্রুপে সিনেমার সম্পূর্ণ ভিডিও আপলোড হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পাকিস্তানে পাইরেসির নতুন ঢেউ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা গেছে পাকিস্তানি দর্শকদের নানারকম প্রতিক্রিয়া— কেউ গল্প ও অ্যাকশন পছন্দ করেছেন, কেউ আবার সিনেমাটিকে পাকিস্তানবিরোধী আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছেন।
সিনেমাটি নিষিদ্ধ হওয়ার পর রাজনৈতিক বিতর্কও কমেনি। পাকিস্তানের একটি রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানে ‘ধুরন্ধর’-এর একটি গান বাজানো নিয়ে ভিডিও ভাইরাল হয়, যা পরে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দেয়। অন্যদিকে, করাচির লিয়ারি অঞ্চলের কিছু বাসিন্দা দাবি করেছেন যে সিনেমায় তাদের অঞ্চলকে ভুলভাবে দেখানো হয়েছে। এমনকি কয়েকজন স্থানীয় নাগরিক ছবিটির আয়ের একটি অংশ দেওয়ার দাবি তোলে, যা নিয়ে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।
এদিকে ‘ধুরন্ধর’-এ প্রয়াত বেনজির ভুট্টোর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে অভিযোগ তুলে পাকিস্তান পিপলস পার্টির এক কর্মী আদালতে অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করেন। তবে পাকিস্তানের বিচারকরা জানান, সিনেমাটি ভারতেই নির্মিত হওয়ায় তাদের এখতিয়ার সীমিত, ফলে সরাসরি কোনো মামলা গ্রহণ করা আইনি দিক থেকে জটিল।
তবে এত বিতর্ক ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পাকিস্তানে ‘ধুরন্ধর’-এর জনপ্রিয়তা কমেনি বরং বেড়েছে বলেই বিশ্লেষকদের অভিমত। আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো লিখেছে— নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে ছবিটি ঘিরে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে গিয়ে ‘স্ট্রাইসান্ড ইফেক্ট’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে কোনো কিছু লুকানোর চেষ্টা করলে তা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও পাকিস্তানে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা হয়ে উঠেছে ‘ধুরন্ধর’।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের জনপ্রিয় স্পাই–অ্যাকশন চলচ্চিত্র ‘ধুরন্ধর’ পাকিস্তানে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও দেশটিতে অবৈধভাবে সিনেমাটি দেখার হিড়িক নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। পাকিস্তানি সেন্সর বোর্ড ও তথ্য মন্ত্রণালয় ছবিটিকে মুক্তির অনুমতি না দেওয়ায় এটি প্রেক্ষাগৃহ, ওটিটি কিংবা কেবল টিভির মাধ্যমে দেখা সম্ভব হয়নি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পরই পাকিস্তানি দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল বেড়ে যায় কয়েকগুণ, যার ফলে মাত্র ১০–১২ দিনের মধ্যেই সিনেমাটি অনলাইন পাইরেসি সাইট, টরেন্ট এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখের বেশি বার ডাউনলোড হয়েছে বলে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বিনোদন গণমাধ্যমগুলো একাধিক রিপোর্টে জানিয়েছে। এর ফলে ‘ধুরন্ধর’ পাকিস্তানে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি পাইরেটেড ভারতীয় ছবি হিসেবে রেকর্ড ভেঙেছে।
নিষিদ্ধ থাকার কারণে দর্শকরা VPN ব্যবহার করে বিদেশি সার্ভার থেকে সিনেমাটির এইচডি ও ক্যামেরা–প্রিন্ট সংস্করণ ডাউনলোড করছে। টেলিগ্রামের একাধিক বড় গ্রুপে সিনেমার সম্পূর্ণ ভিডিও আপলোড হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পাকিস্তানে পাইরেসির নতুন ঢেউ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা গেছে পাকিস্তানি দর্শকদের নানারকম প্রতিক্রিয়া— কেউ গল্প ও অ্যাকশন পছন্দ করেছেন, কেউ আবার সিনেমাটিকে পাকিস্তানবিরোধী আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছেন।
সিনেমাটি নিষিদ্ধ হওয়ার পর রাজনৈতিক বিতর্কও কমেনি। পাকিস্তানের একটি রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানে ‘ধুরন্ধর’-এর একটি গান বাজানো নিয়ে ভিডিও ভাইরাল হয়, যা পরে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দেয়। অন্যদিকে, করাচির লিয়ারি অঞ্চলের কিছু বাসিন্দা দাবি করেছেন যে সিনেমায় তাদের অঞ্চলকে ভুলভাবে দেখানো হয়েছে। এমনকি কয়েকজন স্থানীয় নাগরিক ছবিটির আয়ের একটি অংশ দেওয়ার দাবি তোলে, যা নিয়ে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।
এদিকে ‘ধুরন্ধর’-এ প্রয়াত বেনজির ভুট্টোর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে অভিযোগ তুলে পাকিস্তান পিপলস পার্টির এক কর্মী আদালতে অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করেন। তবে পাকিস্তানের বিচারকরা জানান, সিনেমাটি ভারতেই নির্মিত হওয়ায় তাদের এখতিয়ার সীমিত, ফলে সরাসরি কোনো মামলা গ্রহণ করা আইনি দিক থেকে জটিল।
তবে এত বিতর্ক ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পাকিস্তানে ‘ধুরন্ধর’-এর জনপ্রিয়তা কমেনি বরং বেড়েছে বলেই বিশ্লেষকদের অভিমত। আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো লিখেছে— নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে ছবিটি ঘিরে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে গিয়ে ‘স্ট্রাইসান্ড ইফেক্ট’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে কোনো কিছু লুকানোর চেষ্টা করলে তা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও পাকিস্তানে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা হয়ে উঠেছে ‘ধুরন্ধর’।

আপনার মতামত লিখুন