ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

“খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল”


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬

“খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল”
মির্জা ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এলেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এ নিয়ে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার মৃত্যু জাতীয় রাজনীতিতে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে, তবে এই শোককে দল শক্তিতে রূপান্তর করবে এবং গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের লড়াই আরও দৃঢ়ভাবে চালিয়ে যাবে।

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, “খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক নেত্রীদের একজন। তাঁর মৃত্যু নিঃসন্দেহে বড় ক্ষতি। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিতে বিএনপি দুর্বল হবে—এটা ভুল ধারণা। বরং তাঁর আদর্শ ও সংগ্রামের স্মৃতি আমাদের আরও সংগঠিত করবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।”

তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দল ও নেতাকর্মীদের মধ্যে যে আবেগ সৃষ্টি হয়েছে, সেটি জনসমর্থনকে আরও দৃঢ় করবে। তাঁর মতে, জনগণ বিএনপির প্রতি সহমর্মী হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুনভাবে উৎসাহ জেগেছে। ফখরুল বলেন, “বেগম জিয়া নিজের জীবনে বারবার গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। আজ তাঁর বিদায়ে আমরা আরও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়েছি। এই শোক আমাদের সংগ্রামকে আরও তীব্র করবে।”

এদিকে নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নির্বাচনী তফসিলে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব কার্যক্রম চলবে। কমিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, কোনো ব্যক্তির মৃত্যু নির্বাচনের সময়সূচিতে প্রভাব ফেলে না।

বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল বর্তমানে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তারা মনে করেন, নেতাকর্মীরা শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে মাঠে আরও দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেবে। বেগম জিয়ার নীতিগত অবস্থান, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন দলের জন্য নতুন উদ্দীপনা যোগাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু বিএনপি সমর্থকদের মাঝে আবেগের স্রোত তৈরি করেছে, যা নির্বাচনী ব্যবস্থায় দলকে চাঙ্গা করে তুলতে পারে। তবে তারা এটাও বলেন, দলকে এখন সংগঠনগত শক্তি ধরে রেখে সুনির্দিষ্ট কৌশলে এগোতে হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তিনি ছিলেন এই দেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। তাঁর অবর্তমানে আমরা তাঁর অসমাপ্ত কাজ—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম—শেষ করব।”

বিএনপির মহাসচিবের মন্তব্যে স্পষ্ট যে খালেদা জিয়ার মৃত্যু দলকে মানসিকভাবে ব্যথিত করলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির অবস্থান বা নির্বাচনী অংশগ্রহণে কোনো দুর্বলতা সৃষ্টি হবে না। বরং দলটি এই মুহূর্তকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করবে বলেই তাদের প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


“খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল”

প্রকাশের তারিখ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এলেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এ নিয়ে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার মৃত্যু জাতীয় রাজনীতিতে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে, তবে এই শোককে দল শক্তিতে রূপান্তর করবে এবং গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের লড়াই আরও দৃঢ়ভাবে চালিয়ে যাবে।

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, “খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক নেত্রীদের একজন। তাঁর মৃত্যু নিঃসন্দেহে বড় ক্ষতি। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিতে বিএনপি দুর্বল হবে—এটা ভুল ধারণা। বরং তাঁর আদর্শ ও সংগ্রামের স্মৃতি আমাদের আরও সংগঠিত করবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।”

তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দল ও নেতাকর্মীদের মধ্যে যে আবেগ সৃষ্টি হয়েছে, সেটি জনসমর্থনকে আরও দৃঢ় করবে। তাঁর মতে, জনগণ বিএনপির প্রতি সহমর্মী হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুনভাবে উৎসাহ জেগেছে। ফখরুল বলেন, “বেগম জিয়া নিজের জীবনে বারবার গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। আজ তাঁর বিদায়ে আমরা আরও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়েছি। এই শোক আমাদের সংগ্রামকে আরও তীব্র করবে।”

এদিকে নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নির্বাচনী তফসিলে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব কার্যক্রম চলবে। কমিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, কোনো ব্যক্তির মৃত্যু নির্বাচনের সময়সূচিতে প্রভাব ফেলে না।

বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল বর্তমানে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তারা মনে করেন, নেতাকর্মীরা শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে মাঠে আরও দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেবে। বেগম জিয়ার নীতিগত অবস্থান, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন দলের জন্য নতুন উদ্দীপনা যোগাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু বিএনপি সমর্থকদের মাঝে আবেগের স্রোত তৈরি করেছে, যা নির্বাচনী ব্যবস্থায় দলকে চাঙ্গা করে তুলতে পারে। তবে তারা এটাও বলেন, দলকে এখন সংগঠনগত শক্তি ধরে রেখে সুনির্দিষ্ট কৌশলে এগোতে হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তিনি ছিলেন এই দেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। তাঁর অবর্তমানে আমরা তাঁর অসমাপ্ত কাজ—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম—শেষ করব।”

বিএনপির মহাসচিবের মন্তব্যে স্পষ্ট যে খালেদা জিয়ার মৃত্যু দলকে মানসিকভাবে ব্যথিত করলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির অবস্থান বা নির্বাচনী অংশগ্রহণে কোনো দুর্বলতা সৃষ্টি হবে না। বরং দলটি এই মুহূর্তকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করবে বলেই তাদের প্রত্যাশা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ