বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে দায়েরকৃত মামলাগুলোর বিচারিক পরিস্থিতি নদীর প্রবাহের মতো পরিবর্তিত হয়েছে এবং গত কয়েক বছরে আইনগতভাবে তিনি সমস্ত মামলা থেকে আপাতত মুক্ত হয়েছেন বলে পরিচিত তথ্য আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
ওয়ান-ইলেভেন ও পরবর্তী সময় মোট প্রায় ৩৫টি মামলা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল বলে নতুন খবরের তথ্যাদি প্রকাশ পাচ্ছে। এর মধ্যে ২২টি মামলায় তিনি আদালত থেকে খালাস পেয়ে অপরাধমুক্ত হয়েছেন এবং ১৩টি মামলায় অব্যাহতি বা মামলা প্রত্যাহার হয়েছে — ফলে বর্তমান পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন মামলার কার্যক্রম বিচারিকভাবে চলমান নেই বলে নিশ্চিত সংবাদ ব্যাখ্যা করেছে।
আইনজীবী ও স্থানীয় সূত্র বলছেন, বিভিন্ন মেয়াদে দায়েরকৃত মামলায় দুর্নীতি, মানহানি, নাশকতা-উগ্রবাদ ইত্যাদি অভিযোগ ছিল। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আপিল বিভাগ খালেদা জিয়াকে খালাস দিয়েছেন এবং আগের রায় বাতিল করেছেন। এর ফলে এই মামলা-সহ অনান্য দুর্নীতির অভিযোগগুলো থেকে তিনি দোষী নয় বলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত রায় নিশ্চিত করেছে।
আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে রয়েছে কুমিল্লার তিনটি মামলা, যেখানে ২০১৫ সালের একটি পেট্রোল বোমা হামলা ও অগ্নিকাণ্ড-সংক্রান্ত মামলা থেকে বড় মাপের যুক্ত অভিযোগ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিবেচনা করে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে রেখেই অব্যাহতি/মামলা প্রত্যাহার দেয়া হয়েছে। এর ফলে ওই তিন মামলায়ও তিনি আইনি দায়মুক্ত হন।
এছাড়া মানহানি (ডিফামেশন)-সংক্রান্ত একাধিক মামলায় আদালত বাদী দীর্ঘদিন হাজিরা না দেয়ায় খালেদা জিয়াকে খালাস দিয়েছেন, যা অনান্য মামলার নিষ্পত্তির একটি আরেকটি দৃষ্টান্ত।
এই ন্যায়িক পরিস্থিতির কারণে আইনি পর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আর কোন মামলা চলমান নেই বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট খবরে উল্লেখ হয়েছে, এবং তিনি এখন আপাতত “মামলা-মুক্ত” অবস্থায় আছেন — অর্থাৎ তিনি আর কোন বিচারিক কার্যক্রমে বাধাপ্রাপ্ত নন।
এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, বিশেষ করে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা-সংক্রান্ত বিতর্কের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিচারপথে এগুলোর নিষ্পত্তি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
বিগত বছরগুলোতে খালেদা জিয়া বিভিন্ন কারণে হাসপাতাল ও বিদেশে চিকিৎসার জন্য অবকাশ নিয়েছিলেন; পরবর্তীতে দেশে ফিরে কিছু মামলার নিষ্পত্তি হওয়া তার রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রভাবকে নতুন আলোচনায় এনেছে।
আপনার মতামত লিখুন