সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে নেমে আসা শোকের আবহে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। লন্ডনে অবস্থানরত তিনি ভিডিও বার্তা ও দলের মাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে তার মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন এবং জীবদ্দশায় কোনো আচরণে বা সিদ্ধান্তে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিনীতভাবে ক্ষমা চান। খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল—যার কিছু মানুষের কাছে বিতর্কিত মনে হতে পারে। তারেক রহমান বলেন, “আমার মা যদি কখনো কোনো কথায়, আচরণে বা সিদ্ধান্তে কারও মনোকষ্ট দিয়ে থাকেন, পরিবার হিসেবে আমি দেশের সকল মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন।”
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ও জাতীয় সংসদ চত্বরে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে প্রচারিত তারেক রহমানের বক্তব্যে দেখা যায়, তিনি মায়ের প্রতি জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, খালেদা জিয়া আমৃত্যু দেশের মানুষকে ভালবাসতেন। জনগণের ভালোবাসা নিয়েই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন—এটাই পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা। তারেক রহমান আরও বলেন, “যদি আমার মায়ের জীবদ্দশায় কোনো ঋণ বা পাওনা-পাওনির বিষয় অনিষ্পন্ন থেকে থাকে, তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি।”
জানাজার দিন রাজধানীতে ছিল জনসমুদ্রের দৃশ্য। ভোর থেকেই বিভিন্ন জেলা–উপজেলা থেকে সাধারণ মানুষ, বিএনপি নেতাকর্মী এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সমর্থকরা ঢাকায় ছুটে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা অনুষ্ঠিত হলে চারদিক নীরব হয়ে যায়। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ের কোনো রাষ্ট্রনেতার জানাজায় এত ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়নি।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে বিএনপি নেতাকর্মীসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের জানিয়ে দেন, যেন তারা যার যার স্থানে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের শান্তির জন্য দোয়া–মিলাদ ও কোরআনখানি আয়োজন করেন। লন্ডনে তার পরিবারের অবস্থানস্থলেও নিয়মিত দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াত চলছে। তিনি বলেন, “মা ছিলেন আমার জীবনের পথপ্রদর্শক। আজ তিনি পৃথিবীতে নেই, কিন্তু দেশবাসীর ভালোবাসা ও দোয়া আমাদের শক্তি জোগাচ্ছে।”
তারেক রহমানের দোয়া ও ক্ষমা চাওয়ার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিশেষ আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ক্ষমা চাওয়া এবং দোয়া প্রার্থনার এই আহ্বানকে অনেকে দেখছেন মানবিকতা ও রাষ্ট্রনায়কত্বের এক অনন্য প্রকাশ হিসেবে। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা, সংগ্রাম ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে বহু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলেছেন, ভিন্ন মতাদর্শের মানুষও তার বিদায়ে যে সম্মান দেখিয়েছেন, তা প্রমাণ করে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
মায়ের মৃত্যুতে ভাঙাচোরা পরিবার এবং গভীর শোকের ভেতরে থেকেও দেশের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা এবং আবেগ নিয়ে এই বার্তা দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশবাসীর দোয়া তার মায়ের জন্য পরকালীন শান্তি বয়ে আনবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে নেমে আসা শোকের আবহে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। লন্ডনে অবস্থানরত তিনি ভিডিও বার্তা ও দলের মাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে তার মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন এবং জীবদ্দশায় কোনো আচরণে বা সিদ্ধান্তে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিনীতভাবে ক্ষমা চান। খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল—যার কিছু মানুষের কাছে বিতর্কিত মনে হতে পারে। তারেক রহমান বলেন, “আমার মা যদি কখনো কোনো কথায়, আচরণে বা সিদ্ধান্তে কারও মনোকষ্ট দিয়ে থাকেন, পরিবার হিসেবে আমি দেশের সকল মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন।”
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ও জাতীয় সংসদ চত্বরে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে প্রচারিত তারেক রহমানের বক্তব্যে দেখা যায়, তিনি মায়ের প্রতি জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, খালেদা জিয়া আমৃত্যু দেশের মানুষকে ভালবাসতেন। জনগণের ভালোবাসা নিয়েই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন—এটাই পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা। তারেক রহমান আরও বলেন, “যদি আমার মায়ের জীবদ্দশায় কোনো ঋণ বা পাওনা-পাওনির বিষয় অনিষ্পন্ন থেকে থাকে, তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি।”
জানাজার দিন রাজধানীতে ছিল জনসমুদ্রের দৃশ্য। ভোর থেকেই বিভিন্ন জেলা–উপজেলা থেকে সাধারণ মানুষ, বিএনপি নেতাকর্মী এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সমর্থকরা ঢাকায় ছুটে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা অনুষ্ঠিত হলে চারদিক নীরব হয়ে যায়। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ের কোনো রাষ্ট্রনেতার জানাজায় এত ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়নি।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে বিএনপি নেতাকর্মীসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের জানিয়ে দেন, যেন তারা যার যার স্থানে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের শান্তির জন্য দোয়া–মিলাদ ও কোরআনখানি আয়োজন করেন। লন্ডনে তার পরিবারের অবস্থানস্থলেও নিয়মিত দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াত চলছে। তিনি বলেন, “মা ছিলেন আমার জীবনের পথপ্রদর্শক। আজ তিনি পৃথিবীতে নেই, কিন্তু দেশবাসীর ভালোবাসা ও দোয়া আমাদের শক্তি জোগাচ্ছে।”
তারেক রহমানের দোয়া ও ক্ষমা চাওয়ার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিশেষ আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ক্ষমা চাওয়া এবং দোয়া প্রার্থনার এই আহ্বানকে অনেকে দেখছেন মানবিকতা ও রাষ্ট্রনায়কত্বের এক অনন্য প্রকাশ হিসেবে। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা, সংগ্রাম ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে বহু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলেছেন, ভিন্ন মতাদর্শের মানুষও তার বিদায়ে যে সম্মান দেখিয়েছেন, তা প্রমাণ করে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
মায়ের মৃত্যুতে ভাঙাচোরা পরিবার এবং গভীর শোকের ভেতরে থেকেও দেশের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা এবং আবেগ নিয়ে এই বার্তা দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশবাসীর দোয়া তার মায়ের জন্য পরকালীন শান্তি বয়ে আনবে।

আপনার মতামত লিখুন