জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা উপলক্ষে বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের ঢল নামতে থাকে। ভোর থেকে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ সংসদ এলাকার চারপাশ দ্রুতই পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ মূল জানাজার স্থানে প্রবেশের সুযোগ পাননি। ফলে তারা আশপাশের বিভিন্ন সড়ক, রাস্তার ধারের খোলা জায়গা, ফুটপাত ও সংযোগ সড়কে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, মিরপুর রোড ও তেজগাঁও এলাকা পর্যন্ত মানুষের ঢল ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এমন বিশাল জনসমাগম সাম্প্রতিক সময়ে আর দেখা যায়নি বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা মন্তব্য করেছেন।
ভোর থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার কিংবা নিজেদের উদ্যোগে ঢাকায় পৌঁছান। অনেকেই রাতভর যাত্রা করে এসে সংসদ ভবনের পাশে অবস্থান নেন। নির্ধারিত স্থানে ঢোকার সুযোগ না পেয়ে তারা সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং ভিড় সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। পুরো সংসদ এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হলেও মানুষের ঢল এত বেশি ছিল যে ব্যারিকেডের বাইরের সড়কগুলোকেই জানাজার বিকল্প স্থান হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা ভিড় নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামেন এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।
জনসমাগম এতটাই ঘন হয়ে ওঠে যে ফার্মগেট, আগারগাঁও ও বিজয় সরণি এলাকায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ ভিড়ে আটকে পড়েন। তবে কেউই অভিযোগ করেননি; বরং উপস্থিত প্রতিটি মানুষই জানান, তাঁরা প্রিয় নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন এবং যে অবস্থাতেই হোক জানাজায় অংশ নেওয়াই তাঁদের কাছে বড় বিষয়। কেউ কেউ দূর থেকে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন, আবার অনেকে জানাজার স্থান দেখতে না পেলেও উপস্থিত থাকার অনুভূতিকে নিজের জন্য সৌভাগ্য বলে মনে করেন।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দুপুর দুইটায় জানাজা শুরু হলেও দুপুরের আগেই পুরো এলাকা ভরে যায়। দক্ষিণ প্লাজা ছাড়িয়ে ভিড় যখন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, তখন আশপাশের সড়কগুলোও মানবপ্রবাহে পরিণত হয়। সাংবাদিকরা জানিয়েছেন যে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা ছিল, কিন্তু মানুষের ঢলের কারণে দুপুরের পর থেকে বড় অংশের সড়ক কার্যত জনসমাবেশস্থলে রূপ নেয়। জানাজা শুরু হওয়ার আগে থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে সংসদ এলাকা শোক-সন্তপ্ত পরিবেশে ডুবে যায়।
জানাজা শেষে মানুষ ধীরগতিতে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে আবারও সড়কগুলোতে ভারী চাপ সৃষ্টি হয়। তবে সামগ্রিকভাবে শৃঙ্খলা বজায় ছিল এবং কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানান, অনুমিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ জানাজায় অংশ নেওয়ায় অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিতে হয়েছে এবং পুরো এলাকা নিরাপদ রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা চালু ছিল।
এই বিশাল সমাগমকে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক এবং স্থানীয়রা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহত্তম জনসমাবেশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নির্ধারিত স্থানে জায়গা না পাওয়া হাজারো মানুষের সড়কে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেওয়ার দৃশ্য দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা উপলক্ষে বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের ঢল নামতে থাকে। ভোর থেকে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ সংসদ এলাকার চারপাশ দ্রুতই পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ মূল জানাজার স্থানে প্রবেশের সুযোগ পাননি। ফলে তারা আশপাশের বিভিন্ন সড়ক, রাস্তার ধারের খোলা জায়গা, ফুটপাত ও সংযোগ সড়কে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, মিরপুর রোড ও তেজগাঁও এলাকা পর্যন্ত মানুষের ঢল ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এমন বিশাল জনসমাগম সাম্প্রতিক সময়ে আর দেখা যায়নি বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা মন্তব্য করেছেন।
ভোর থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার কিংবা নিজেদের উদ্যোগে ঢাকায় পৌঁছান। অনেকেই রাতভর যাত্রা করে এসে সংসদ ভবনের পাশে অবস্থান নেন। নির্ধারিত স্থানে ঢোকার সুযোগ না পেয়ে তারা সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং ভিড় সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। পুরো সংসদ এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হলেও মানুষের ঢল এত বেশি ছিল যে ব্যারিকেডের বাইরের সড়কগুলোকেই জানাজার বিকল্প স্থান হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা ভিড় নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামেন এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।
জনসমাগম এতটাই ঘন হয়ে ওঠে যে ফার্মগেট, আগারগাঁও ও বিজয় সরণি এলাকায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ ভিড়ে আটকে পড়েন। তবে কেউই অভিযোগ করেননি; বরং উপস্থিত প্রতিটি মানুষই জানান, তাঁরা প্রিয় নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন এবং যে অবস্থাতেই হোক জানাজায় অংশ নেওয়াই তাঁদের কাছে বড় বিষয়। কেউ কেউ দূর থেকে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন, আবার অনেকে জানাজার স্থান দেখতে না পেলেও উপস্থিত থাকার অনুভূতিকে নিজের জন্য সৌভাগ্য বলে মনে করেন।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দুপুর দুইটায় জানাজা শুরু হলেও দুপুরের আগেই পুরো এলাকা ভরে যায়। দক্ষিণ প্লাজা ছাড়িয়ে ভিড় যখন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, তখন আশপাশের সড়কগুলোও মানবপ্রবাহে পরিণত হয়। সাংবাদিকরা জানিয়েছেন যে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা ছিল, কিন্তু মানুষের ঢলের কারণে দুপুরের পর থেকে বড় অংশের সড়ক কার্যত জনসমাবেশস্থলে রূপ নেয়। জানাজা শুরু হওয়ার আগে থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে সংসদ এলাকা শোক-সন্তপ্ত পরিবেশে ডুবে যায়।
জানাজা শেষে মানুষ ধীরগতিতে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে আবারও সড়কগুলোতে ভারী চাপ সৃষ্টি হয়। তবে সামগ্রিকভাবে শৃঙ্খলা বজায় ছিল এবং কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানান, অনুমিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ জানাজায় অংশ নেওয়ায় অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিতে হয়েছে এবং পুরো এলাকা নিরাপদ রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা চালু ছিল।
এই বিশাল সমাগমকে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক এবং স্থানীয়রা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহত্তম জনসমাবেশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নির্ধারিত স্থানে জায়গা না পাওয়া হাজারো মানুষের সড়কে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেওয়ার দৃশ্য দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন