ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

গৃহিণী থেকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী



গৃহিণী থেকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
বেগম খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন আজও দেশের ইতিহাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একসময় নিভৃতচারী গৃহবধূ হিসেবে জীবন শুরু করা এই নারী পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী—যার পথচলা ছিল সংগ্রাম, দৃঢ়তা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অনন্য দৃষ্টান্ত।

১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া পরিবারের সঙ্গে শান্ত-স্বাভাবিক জীবনে বেড়ে ওঠেন। ১৯৬০ সালে সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহের পর তাঁর জীবন সীমাবদ্ধ ছিল সংসার, পরিবার ও দুই সন্তানকে ঘিরে। এ সময় তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিলেন। কিন্তু ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়, তা পূরণে বিএনপি নেতৃত্ব তাঁর দিকে হাত বাড়ায়। দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে নেতাকর্মীদের অনুরোধে তিনি রাজনীতিতে নাম লেখান এবং ১৯৮২ সালের শুরুতে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন।

রাজনীতিতে আগমন ছিল তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো ঘটনা। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৮০–এর দশকে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান নেতা। আন্দোলন, গ্রেপ্তার, রাজনৈতিক বাধা—সবকিছু মোকাবিলা করে তিনি দ্রুত বেগম জিয়াকে জননেত্রীতে রূপান্তরিত করে।

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মাধ্যমে তিনি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নারীর শিক্ষা প্রসারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়। পরবর্তীতে তিনি ২০০১–২০০৬ মেয়াদেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর শাসনামলে উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন ছিল, তেমনি রাজনৈতিক সহিংসতা, বিরোধী দলের সঙ্গে সংঘাত ও নানা বিতর্কও তাকে ঘিরে ছিল।

রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি অধ্যায় জুড়ে ছিল আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যা দেশের রাজনৈতিক বিভাজনকে দুই শিবিরে রূপ দেয়। দুর্নীতির মামলায় কারাবাস, শারীরিক অবনতির পাশাপাশি রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সময়ও তিনি দলের প্রতীকী নেতৃত্ব ধরে রাখেন এবং তাঁর সমর্থকদের কাছে আপসহীন গণতান্ত্রিক নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিতে রেখে গেছেন স্থায়ী ছাপ। গৃহবধূ থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে পৌঁছানোর তাঁর অনন্য যাত্রা শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস নয়, নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর সংগ্রামী জীবনগাঁথা এখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে স্মরণ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


গৃহিণী থেকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন আজও দেশের ইতিহাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একসময় নিভৃতচারী গৃহবধূ হিসেবে জীবন শুরু করা এই নারী পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী—যার পথচলা ছিল সংগ্রাম, দৃঢ়তা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অনন্য দৃষ্টান্ত।

১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া পরিবারের সঙ্গে শান্ত-স্বাভাবিক জীবনে বেড়ে ওঠেন। ১৯৬০ সালে সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহের পর তাঁর জীবন সীমাবদ্ধ ছিল সংসার, পরিবার ও দুই সন্তানকে ঘিরে। এ সময় তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিলেন। কিন্তু ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়, তা পূরণে বিএনপি নেতৃত্ব তাঁর দিকে হাত বাড়ায়। দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে নেতাকর্মীদের অনুরোধে তিনি রাজনীতিতে নাম লেখান এবং ১৯৮২ সালের শুরুতে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন।

রাজনীতিতে আগমন ছিল তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো ঘটনা। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৮০–এর দশকে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান নেতা। আন্দোলন, গ্রেপ্তার, রাজনৈতিক বাধা—সবকিছু মোকাবিলা করে তিনি দ্রুত বেগম জিয়াকে জননেত্রীতে রূপান্তরিত করে।

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মাধ্যমে তিনি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নারীর শিক্ষা প্রসারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়। পরবর্তীতে তিনি ২০০১–২০০৬ মেয়াদেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর শাসনামলে উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন ছিল, তেমনি রাজনৈতিক সহিংসতা, বিরোধী দলের সঙ্গে সংঘাত ও নানা বিতর্কও তাকে ঘিরে ছিল।

রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি অধ্যায় জুড়ে ছিল আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যা দেশের রাজনৈতিক বিভাজনকে দুই শিবিরে রূপ দেয়। দুর্নীতির মামলায় কারাবাস, শারীরিক অবনতির পাশাপাশি রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সময়ও তিনি দলের প্রতীকী নেতৃত্ব ধরে রাখেন এবং তাঁর সমর্থকদের কাছে আপসহীন গণতান্ত্রিক নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিতে রেখে গেছেন স্থায়ী ছাপ। গৃহবধূ থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে পৌঁছানোর তাঁর অনন্য যাত্রা শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস নয়, নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর সংগ্রামী জীবনগাঁথা এখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে স্মরণ করা হয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ