ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

একাকিত্বে মনভরানো বন্ধুত্ব গড়ে তোলে বিড়াল


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

একাকিত্বে মনভরানো বন্ধুত্ব গড়ে তোলে বিড়াল

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, কর্মচাপ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে শহুরে মানুষের মধ্যে একাকিত্বের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে পোষা প্রাণী—বিশেষ করে বিড়াল—একাকী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মানসিক সঙ্গীর ভূমিকা রাখতে পারে। নরম স্বভাব, শান্ত উপস্থিতি এবং আবেগিক সংযোগ তৈরির ক্ষমতার কারণে বিড়াল বর্তমানে অনেকেরই নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠছে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পোষা বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটালে মানুষের শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ নামের সুখানুভূতির হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে স্ট্রেস হরমোন ‘কোর্টিসল’-এর মাত্রা হ্রাস পাওয়ায় উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ও নিঃসঙ্গতার অনুভূতি অনেকটাই কমে যায়। বিশেষ করে একা থাকা বা পরিবার থেকে দূরে থাকা মানুষদের ক্ষেত্রে বিড়াল মানসিক শক্তি ও প্রশান্তির উৎস হয়ে ওঠে।

অনেক মালিক জানান, বিড়ালের নীরব সঙ্গ তাদের মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়। কেউ মনখারাপ করলে বিড়াল তার গা ঘেঁষে বসে থাকা, নরম গুঞ্জন বা মিউ ধ্বনির মাধ্যমে এক ধরনের সান্ত্বনা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিড়াল মানুষের আবেগ বুঝতে সক্ষম এবং মালিকের অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, যা আবেগিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পোষা প্রাণীর দায়িত্ব পালন করেন তাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি নিয়মতান্ত্রিক রুটিন তৈরি হয়। সময়মতো খাবার দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা বা বিড়ালের সঙ্গে খেলাধুলা করা—এসব কাজ একাকী মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি দায়িত্ববোধ বাড়ায় এবং মানসিক অবসাদ কাটাতে সাহায্য করে।

বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রেও বিড়াল বিশেষ উপকারী। কম যত্নেই সহজে পালন করা যায় বলে শহুরে ফ্ল্যাটবাসী বা চলাফেরায় সীমাবদ্ধ ব্যক্তিদের জন্য বিড়াল উপযুক্ত সঙ্গী হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রাণী বয়স্কদের মানসিক চাঙ্গাভাব ও উদ্যম ধরে রাখতে সহায়তা করে।

তবে বিড়াল পালনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন প্রাণী চিকিৎসকরা। নিয়মিত টিকা দেওয়া, পরিষ্কার পানি ও খাবারের ব্যবস্থা রাখা, লিটার বক্স পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো জরুরি। উপযুক্ত পরিবেশ ও যত্ন নিশ্চিত করতে পারলে বিড়াল হতে পারে পরিবারের সবচেয়ে প্রিয় ও নির্ভরযোগ্য সদস্য।

সামগ্রিকভাবে, ক্রমবর্ধমান একাকিত্বের সময়ে বিড়াল শুধুমাত্র একটি পোষা প্রাণী নয়, বরং মানুষের আবেগিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহচর হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


একাকিত্বে মনভরানো বন্ধুত্ব গড়ে তোলে বিড়াল

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, কর্মচাপ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে শহুরে মানুষের মধ্যে একাকিত্বের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে পোষা প্রাণী—বিশেষ করে বিড়াল—একাকী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মানসিক সঙ্গীর ভূমিকা রাখতে পারে। নরম স্বভাব, শান্ত উপস্থিতি এবং আবেগিক সংযোগ তৈরির ক্ষমতার কারণে বিড়াল বর্তমানে অনেকেরই নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠছে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পোষা বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটালে মানুষের শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ নামের সুখানুভূতির হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে স্ট্রেস হরমোন ‘কোর্টিসল’-এর মাত্রা হ্রাস পাওয়ায় উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ও নিঃসঙ্গতার অনুভূতি অনেকটাই কমে যায়। বিশেষ করে একা থাকা বা পরিবার থেকে দূরে থাকা মানুষদের ক্ষেত্রে বিড়াল মানসিক শক্তি ও প্রশান্তির উৎস হয়ে ওঠে।

অনেক মালিক জানান, বিড়ালের নীরব সঙ্গ তাদের মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়। কেউ মনখারাপ করলে বিড়াল তার গা ঘেঁষে বসে থাকা, নরম গুঞ্জন বা মিউ ধ্বনির মাধ্যমে এক ধরনের সান্ত্বনা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিড়াল মানুষের আবেগ বুঝতে সক্ষম এবং মালিকের অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, যা আবেগিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পোষা প্রাণীর দায়িত্ব পালন করেন তাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি নিয়মতান্ত্রিক রুটিন তৈরি হয়। সময়মতো খাবার দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা বা বিড়ালের সঙ্গে খেলাধুলা করা—এসব কাজ একাকী মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি দায়িত্ববোধ বাড়ায় এবং মানসিক অবসাদ কাটাতে সাহায্য করে।

বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রেও বিড়াল বিশেষ উপকারী। কম যত্নেই সহজে পালন করা যায় বলে শহুরে ফ্ল্যাটবাসী বা চলাফেরায় সীমাবদ্ধ ব্যক্তিদের জন্য বিড়াল উপযুক্ত সঙ্গী হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রাণী বয়স্কদের মানসিক চাঙ্গাভাব ও উদ্যম ধরে রাখতে সহায়তা করে।

তবে বিড়াল পালনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন প্রাণী চিকিৎসকরা। নিয়মিত টিকা দেওয়া, পরিষ্কার পানি ও খাবারের ব্যবস্থা রাখা, লিটার বক্স পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো জরুরি। উপযুক্ত পরিবেশ ও যত্ন নিশ্চিত করতে পারলে বিড়াল হতে পারে পরিবারের সবচেয়ে প্রিয় ও নির্ভরযোগ্য সদস্য।

সামগ্রিকভাবে, ক্রমবর্ধমান একাকিত্বের সময়ে বিড়াল শুধুমাত্র একটি পোষা প্রাণী নয়, বরং মানুষের আবেগিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহচর হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ