টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের জীবন এখন দুই সন্তান কবীর ও কাব্যকে ঘিরেই। সংসার, সন্তান আর কাজ—সবকিছু সামলেও তিনি আজও মা–বাবার আদুরে কোয়েল। মায়ের শাড়ির প্রতি তার আলাদা টান রয়েছে। সম্প্রতি ‘মিতিন: একটি খুনির সন্ধানে’ সিনেমার প্রচারে মায়ের শাড়ি পরেই একটি সাক্ষাৎকারে হাজির হন এই অভিনেত্রী।
২২ বছরের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে কোনো বিতর্কে জড়াননি কোয়েল মল্লিক। ‘পারফেক্ট’ ইমেজ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, খুব ভেবে সবকিছু করেন—এমন নয়। তবে তার কোনো কথা যদি অন্য কাউকে কষ্ট দিতে পারে, সেটি তিনি বলতেই চান না। রাগের মুহূর্তেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন বলেই রাগের চেয়ে দুঃখ তার বেশি হয় বলে জানান তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষায়, তিনি হঠকারী নন। কেউ উসকানি দিলেই উত্তেজিত হয়ে খারাপ কথা বলে ফেলেন—এমন মানুষ নন তিনি। ধৈর্যই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে রাখার পর কখনো কথা বললেও সেটি চেঁচামেচি নয়, বরং কিছুটা কড়া ভাষায় হয়।
ধৈর্য প্রসঙ্গে কোয়েল বলেন, এটি শুধু পেশাগত কারণে নয়, মানুষের জীবনের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো পেশায় ধৈর্য প্রয়োজন, অভিনয়জগৎ তো বটেই। ধৈর্য ছাড়া নিজেকে কল্পনাও করতে পারেন না তিনি।
‘মিতিন’ চরিত্রটি তাকে আত্মবিশ্বাস শিখিয়েছে বলেও জানান কোয়েল। তার মতে, মিতিন একজন দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভরশীল নারী—একদিকে গৃহিণী, অন্যদিকে গোয়েন্দা। এই চরিত্রটি প্রতিবারই তাকে উত্তেজিত করে এবং মানুষ চেনার ক্ষেত্রেও মিতিনের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান তিনি।
নারীর ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ ও ‘ক্যারিয়ার ক্লক’-এর সংঘাত প্রসঙ্গে কোয়েল বলেন, এটিকে তিনি সংঘাত হিসেবে দেখেন না। তার কাছে ক্যারিয়ার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সংসার, সন্তান ও বয়স্ক মা–বাবার দায়িত্বও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ক্ষেত্রেই ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি।
নিজের ‘মি টাইম’ নিয়ে হাস্যরসের ছলে কোয়েল বলেন, তার কাছে ‘মি টাইম’ বিলাসিতা। একদিন ছেলে কবীরকে নিজের জন্য একটু সময় চাওয়ার কথা বললে সে তা মানতে চায়নি। সন্তানের এই আচরণকেই তিনি জীবনের আনন্দ বলে মনে করেন।
বন্ধুত্ব প্রসঙ্গে কোয়েল জানান, ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গেই তার যোগাযোগ বেশি। খুব বেশি বন্ধু তার কখনোই ছিল না। স্কুল ও কলেজের কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন তিনি।
বাংলা সিনেমায় জুটির গুরুত্ব কমছে কিনা—এমন প্রশ্নে কোয়েল বলেন, জুটির গুরুত্ব আগে যেমন ছিল, এখনো তেমনই আছে। অভিনেতারা জুটি তৈরি করেন না; দর্শকরাই পর্দায় দেখে জুটি তৈরি করেন। তিনি সবসময় চরিত্রের গুরুত্ব বুঝে কাজ করেছেন।
বক্স অফিসের হিসাব ও সামাজিক মাধ্যমের আলোচনা প্রসঙ্গে কোয়েল বলেন, তার জীবনে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। তার স্বামী নিসপাল সিং রানে একজন প্রযোজক, তাই ইন্ডাস্ট্রির হিসাব-নিকাশ তিনি দেখেন। নিজে সৃজনশীল মানুষ হিসেবে কাজের দিকটাই বেশি বোঝেন কোয়েল। তবে দর্শক কোন সিনেমা বেশি পছন্দ করছে, সেটিও তিনি নজরে রাখেন।
স্বামীর প্রযোজিত সিনেমায় পারিশ্রমিক নেন কিনা—এমন প্রশ্নে কোয়েল স্পষ্টভাবে বলেন, অবশ্যই নেন। ২২ বছরের অভিনয়জীবনে নিজের আত্মসম্মানবোধ অটুট রেখেছেন তিনি। নিজের ব্যাংক হিসাব, আয়ের সব হিসাব তার কাছে পরিষ্কার।
সবশেষে কোয়েল মল্লিক বলেন, নারীদের উদ্দেশ্যে তার একটাই বার্তা— অর্থনৈতিক সব হিসাব বাবা বা স্বামীর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। নিজের জায়গা নিজেকেই বুঝে রাখতে হবে। ২০ বছর বয়সে প্রথম পারিশ্রমিক পাওয়ার পর থেকেই তার কাছে অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার রয়েছে বলে জানান তিনি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের জীবন এখন দুই সন্তান কবীর ও কাব্যকে ঘিরেই। সংসার, সন্তান আর কাজ—সবকিছু সামলেও তিনি আজও মা–বাবার আদুরে কোয়েল। মায়ের শাড়ির প্রতি তার আলাদা টান রয়েছে। সম্প্রতি ‘মিতিন: একটি খুনির সন্ধানে’ সিনেমার প্রচারে মায়ের শাড়ি পরেই একটি সাক্ষাৎকারে হাজির হন এই অভিনেত্রী।
২২ বছরের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে কোনো বিতর্কে জড়াননি কোয়েল মল্লিক। ‘পারফেক্ট’ ইমেজ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, খুব ভেবে সবকিছু করেন—এমন নয়। তবে তার কোনো কথা যদি অন্য কাউকে কষ্ট দিতে পারে, সেটি তিনি বলতেই চান না। রাগের মুহূর্তেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন বলেই রাগের চেয়ে দুঃখ তার বেশি হয় বলে জানান তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষায়, তিনি হঠকারী নন। কেউ উসকানি দিলেই উত্তেজিত হয়ে খারাপ কথা বলে ফেলেন—এমন মানুষ নন তিনি। ধৈর্যই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে রাখার পর কখনো কথা বললেও সেটি চেঁচামেচি নয়, বরং কিছুটা কড়া ভাষায় হয়।
ধৈর্য প্রসঙ্গে কোয়েল বলেন, এটি শুধু পেশাগত কারণে নয়, মানুষের জীবনের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো পেশায় ধৈর্য প্রয়োজন, অভিনয়জগৎ তো বটেই। ধৈর্য ছাড়া নিজেকে কল্পনাও করতে পারেন না তিনি।
‘মিতিন’ চরিত্রটি তাকে আত্মবিশ্বাস শিখিয়েছে বলেও জানান কোয়েল। তার মতে, মিতিন একজন দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভরশীল নারী—একদিকে গৃহিণী, অন্যদিকে গোয়েন্দা। এই চরিত্রটি প্রতিবারই তাকে উত্তেজিত করে এবং মানুষ চেনার ক্ষেত্রেও মিতিনের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান তিনি।
নারীর ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ ও ‘ক্যারিয়ার ক্লক’-এর সংঘাত প্রসঙ্গে কোয়েল বলেন, এটিকে তিনি সংঘাত হিসেবে দেখেন না। তার কাছে ক্যারিয়ার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সংসার, সন্তান ও বয়স্ক মা–বাবার দায়িত্বও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ক্ষেত্রেই ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি।
নিজের ‘মি টাইম’ নিয়ে হাস্যরসের ছলে কোয়েল বলেন, তার কাছে ‘মি টাইম’ বিলাসিতা। একদিন ছেলে কবীরকে নিজের জন্য একটু সময় চাওয়ার কথা বললে সে তা মানতে চায়নি। সন্তানের এই আচরণকেই তিনি জীবনের আনন্দ বলে মনে করেন।
বন্ধুত্ব প্রসঙ্গে কোয়েল জানান, ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গেই তার যোগাযোগ বেশি। খুব বেশি বন্ধু তার কখনোই ছিল না। স্কুল ও কলেজের কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন তিনি।
বাংলা সিনেমায় জুটির গুরুত্ব কমছে কিনা—এমন প্রশ্নে কোয়েল বলেন, জুটির গুরুত্ব আগে যেমন ছিল, এখনো তেমনই আছে। অভিনেতারা জুটি তৈরি করেন না; দর্শকরাই পর্দায় দেখে জুটি তৈরি করেন। তিনি সবসময় চরিত্রের গুরুত্ব বুঝে কাজ করেছেন।
বক্স অফিসের হিসাব ও সামাজিক মাধ্যমের আলোচনা প্রসঙ্গে কোয়েল বলেন, তার জীবনে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। তার স্বামী নিসপাল সিং রানে একজন প্রযোজক, তাই ইন্ডাস্ট্রির হিসাব-নিকাশ তিনি দেখেন। নিজে সৃজনশীল মানুষ হিসেবে কাজের দিকটাই বেশি বোঝেন কোয়েল। তবে দর্শক কোন সিনেমা বেশি পছন্দ করছে, সেটিও তিনি নজরে রাখেন।
স্বামীর প্রযোজিত সিনেমায় পারিশ্রমিক নেন কিনা—এমন প্রশ্নে কোয়েল স্পষ্টভাবে বলেন, অবশ্যই নেন। ২২ বছরের অভিনয়জীবনে নিজের আত্মসম্মানবোধ অটুট রেখেছেন তিনি। নিজের ব্যাংক হিসাব, আয়ের সব হিসাব তার কাছে পরিষ্কার।
সবশেষে কোয়েল মল্লিক বলেন, নারীদের উদ্দেশ্যে তার একটাই বার্তা— অর্থনৈতিক সব হিসাব বাবা বা স্বামীর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। নিজের জায়গা নিজেকেই বুঝে রাখতে হবে। ২০ বছর বয়সে প্রথম পারিশ্রমিক পাওয়ার পর থেকেই তার কাছে অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার রয়েছে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন