ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কে এই মার্টিন লুথার কিং?


মাসুদ রানা :
মাসুদ রানা :
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

কে এই মার্টিন লুথার কিং?

রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিশ্ববিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক উক্তি ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’-এর কথা উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ দেশের মাটিতে পা রেখে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, মার্টিন লুথার কিংয়ের যেমন একটি স্বপ্ন ছিল, তেমনি বাংলাদেশের মানুষের জন্য তারও একটি পরিকল্পনা রয়েছে। এই বক্তব্যের পর থেকেই জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—কে এই মার্টিন লুথার কিং?

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ছিলেন শান্তি ও অধিকার আদায়ের এক কিংবদন্তি। তিনি একজন আমেরিকান ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রধান নেতা। ১৯২৯ সালের ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় এক পাদরি পরিবারে তার জন্ম। যুক্তরাষ্ট্রে যখন বর্ণবৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছিল এবং কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর দমন-পীড়ন চলছিল, তখন তিনি নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন।

১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, যার মূল বক্তব্য ছিল ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’। ওই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, তার একটি স্বপ্ন আছে—একদিন এই জাতি জেগে উঠবে এবং মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করবে। তার স্বপ্ন ছিল, একদিন তার সন্তানরা এমন এক দেশে বসবাস করবে, যেখানে তাদের গায়ের রঙ দিয়ে নয়, বরং চরিত্রের গুণাবলি দিয়ে বিচার করা হবে। এই ভাষণ বিশ্বজুড়ে মুক্তিকামী মানুষের চেতনাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত মার্টিন লুথার কিং অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাস করতেন। সহিংসতা পরিহার করে তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার ও সামাজিক মর্যাদা আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যান। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৪ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এবং সে সময় ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী হন।

দুর্ভাগ্যবশত, ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিস শহরের একটি হোটেলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র।

এদিকে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ উক্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যাকে তিনি ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের ভেতরে ও বাইরে গণতন্ত্রের পক্ষে থাকা প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কে এই মার্টিন লুথার কিং?

প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিশ্ববিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক উক্তি ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’-এর কথা উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ দেশের মাটিতে পা রেখে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, মার্টিন লুথার কিংয়ের যেমন একটি স্বপ্ন ছিল, তেমনি বাংলাদেশের মানুষের জন্য তারও একটি পরিকল্পনা রয়েছে। এই বক্তব্যের পর থেকেই জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—কে এই মার্টিন লুথার কিং?

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ছিলেন শান্তি ও অধিকার আদায়ের এক কিংবদন্তি। তিনি একজন আমেরিকান ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রধান নেতা। ১৯২৯ সালের ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় এক পাদরি পরিবারে তার জন্ম। যুক্তরাষ্ট্রে যখন বর্ণবৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছিল এবং কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর দমন-পীড়ন চলছিল, তখন তিনি নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন।

১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, যার মূল বক্তব্য ছিল ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’। ওই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, তার একটি স্বপ্ন আছে—একদিন এই জাতি জেগে উঠবে এবং মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করবে। তার স্বপ্ন ছিল, একদিন তার সন্তানরা এমন এক দেশে বসবাস করবে, যেখানে তাদের গায়ের রঙ দিয়ে নয়, বরং চরিত্রের গুণাবলি দিয়ে বিচার করা হবে। এই ভাষণ বিশ্বজুড়ে মুক্তিকামী মানুষের চেতনাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত মার্টিন লুথার কিং অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাস করতেন। সহিংসতা পরিহার করে তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার ও সামাজিক মর্যাদা আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যান। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৪ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এবং সে সময় ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী হন।

দুর্ভাগ্যবশত, ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিস শহরের একটি হোটেলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র।

এদিকে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ উক্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যাকে তিনি ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের ভেতরে ও বাইরে গণতন্ত্রের পক্ষে থাকা প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ