নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ২৪৬টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান থেকে। এ ছাড়া পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ১৬৫, পশ্চিম নওয়ালপরাসিতে ৬৩, গোরখায় ৫৭, নুওয়াকোটে ৫১, ধাদিংয়ে ৪৫, তানাহুতে ৩৫ এবং রাসুয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সদস্যও রয়েছেন। সর্বশেষ হিসাবে ২৭ পুলিশ সদস্য, ৪৫ সেনাসদস্য, ১৩ সশস্ত্র পুলিশ সদস্য, ১৫ জন কাস্টমস কর্মকর্তা এবং চারজন অভিবাসন কর্মকর্তা নিখোঁজ রয়েছেন। শুধু রাসুয়াতেই ৫৬২ এবং নুওয়াকোটে ১১৫ জনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সঙ্গে যুক্ত ৯৩৩ জনের অবস্থানও এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এ ছাড়া মাকওয়ানপুরের ৬৫ জন এবং বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে ভ্রমণ করা ১২৭ নেপালি নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
পর্যটন বিভাগের শনিবার বিকেলের তথ্য অনুযায়ী, ৭৫৩ পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল, যাদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক। তবে নিখোঁজ বিদেশিদের সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, কারণ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালের বন্যাকবলিত এলাকায় অন্তত ৩২০ ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও শতাধিক মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। চীনের দিকে আটকে পড়া প্রায় ৪০০ ভারতীয় নিরাপদে রয়েছেন এবং অনেকে ইতোমধ্যে নেপালে ফিরেছেন।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন ভোতে কোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়। প্রবল পানির স্রোত পরে ত্রিশূলী নদী হয়ে ভাটির বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
দুর্গত এলাকায় নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা ব্যাপক উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নেওয়া হচ্ছে।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, এখন তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, জীবিতদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গতদের জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালকে সহযোগিতা করছে।
দুর্যোগকবলিত অনেক এলাকা দুর্গম হওয়া এবং যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হতাহত ও নিখোঁজের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে সময় লাগছে। ফলে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এসব সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ২৪৬টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান থেকে। এ ছাড়া পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ১৬৫, পশ্চিম নওয়ালপরাসিতে ৬৩, গোরখায় ৫৭, নুওয়াকোটে ৫১, ধাদিংয়ে ৪৫, তানাহুতে ৩৫ এবং রাসুয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সদস্যও রয়েছেন। সর্বশেষ হিসাবে ২৭ পুলিশ সদস্য, ৪৫ সেনাসদস্য, ১৩ সশস্ত্র পুলিশ সদস্য, ১৫ জন কাস্টমস কর্মকর্তা এবং চারজন অভিবাসন কর্মকর্তা নিখোঁজ রয়েছেন। শুধু রাসুয়াতেই ৫৬২ এবং নুওয়াকোটে ১১৫ জনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সঙ্গে যুক্ত ৯৩৩ জনের অবস্থানও এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এ ছাড়া মাকওয়ানপুরের ৬৫ জন এবং বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে ভ্রমণ করা ১২৭ নেপালি নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
পর্যটন বিভাগের শনিবার বিকেলের তথ্য অনুযায়ী, ৭৫৩ পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল, যাদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক। তবে নিখোঁজ বিদেশিদের সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, কারণ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালের বন্যাকবলিত এলাকায় অন্তত ৩২০ ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও শতাধিক মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। চীনের দিকে আটকে পড়া প্রায় ৪০০ ভারতীয় নিরাপদে রয়েছেন এবং অনেকে ইতোমধ্যে নেপালে ফিরেছেন।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন ভোতে কোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়। প্রবল পানির স্রোত পরে ত্রিশূলী নদী হয়ে ভাটির বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
দুর্গত এলাকায় নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা ব্যাপক উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নেওয়া হচ্ছে।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, এখন তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, জীবিতদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গতদের জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালকে সহযোগিতা করছে।
দুর্যোগকবলিত অনেক এলাকা দুর্গম হওয়া এবং যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হতাহত ও নিখোঁজের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে সময় লাগছে। ফলে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এসব সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন