নারায়ণগঞ্জ জুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাসসংকট। আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে সিএনজি ফিলিং স্টেশন—সবখানেই হাহাকার। গ্যাসের চাপ (প্রেসার) আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, গণপরিবহন ও জরুরি সেবার চালকেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস, অন্যদিকে বাসা-বাড়িতে সময়মতো চুলা না জ্বলায় ব্যাহত হচ্ছে গৃহস্থালির স্বাভাবিক কাজকর্ম।
রোববার নারায়ণগঞ্জের লিংক রোড, ফতুল্লার শিবু মার্কেট ও সস্তাপুর এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা যায় শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের গাড়ি এবং সরকারি দপ্তরের যানবাহনও গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে।
স্টেশন মালিক ও প্রকৌশলীদের মতে, স্বাভাবিক সময়ে পাম্পে গ্যাসের চাপ ১৫ পিএসআই থাকার কথা থাকলেও গত দুই সপ্তাহ ধরে তা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। কোথাও কোথাও মাঝেমধ্যে মাত্র ১ থেকে ৪ পিএসআই চাপ পাওয়া যাচ্ছে।
সস্তাপুরের 'মাস সিএনজি ওয়ার্কার্স লিমিটেড'-এর কোষাধ্যক্ষ মাহমুদুল ইসলাম জানান, স্বাভাবিক সময়ে দিনে ২২-২৪ হাজার ঘনমিটার গ্যাস মিললেও এখন ৩ দিনে মিলছে মাত্র ২-৩ হাজার ঘনমিটার। এতে প্রতিদিনের বিক্রি ৬ লাখ টাকা থেকে কমে ২ লাখে নেমে এসেছে। প্রতি ১০০ টাকার গ্যাসে প্রায় ২০ টাকা লোকসান হওয়ায় কর্মচারীদের বেতন ও অস্তিত্ব রক্ষা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে গ্যাস নিতে আসা অটোরিকশাচালক মো. রাজন মিয়া বলেন, "৩-৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছি না। গাড়ি না চললে সংসার চলবে কীভাবে?"

সংকটের প্রভাব পড়েছে জরুরি সেবাতেও। অ্যাম্বুলেন্স চালক নুরুল ইসলাম জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে চড়া দামে পেট্রোল-ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু রোগীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় লোকসান গুনেই সেবা দিতে হচ্ছে।
বদলে গেছে রান্নাঘরের চিত্র
একই অবস্থা নারায়ণগঞ্জের আবাসিক এলাকাগুলোতেও। ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিনের বেলা গ্যাস একেবারেই থাকছে না। ফতুল্লার বাসিন্দা নাজমা বেগম জানান, গ্যাসের চাপ না থাকায় দুই চুলা একসঙ্গে জ্বালানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সকাল ১০টাতেই সারাদিনের রান্না বসাতে হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।
গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই শিল্পাঞ্চলের গণপরিবহন ব্যবস্থা ও জনজীবন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন