টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার পর্যটন খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ এবং কর্মসংস্থান থেমে যাওয়ায় উপজেলার শতাধিক পর্যটক গাইড, নৌকাচালক, হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকসহ পর্যটননির্ভর পরিবারগুলো চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগের কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ বা কার্যকর সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধস এবং পাহাড়ি ঢলে অভ্যন্তরীণ সড়ক ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়া পর্যটন সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর অনেকেই এখন খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে ভুগছেন। শিশু, নারী ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে অনেক পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে।
রোয়াংছড়ির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দেবতাখুমকে ঘিরে গড়ে ওঠা স্থানীয় অর্থনীতিও বড় ধাক্কা খেয়েছে। বন্যার প্রবল স্রোতে পর্যটক পারাপারের জন্য ব্যবহৃত ৮টি নৌকা ও ৭০টি বাঁশের ভেলা ভেসে গেছে। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত দেবতাখুমে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও ভেসে যাওয়া নৌকা ও ভেলা পুনর্ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা আরও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোয়াংছড়ি উপজেলা টুরিস্ট গাইড কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি চিংনুমং মারমা বলেন,
"ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গাইড ও মাঝিদের জীবিকা পুরোপুরি থেমে গেছে। অনেকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন। খাদ্য সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা না পেলে এই শ্রমজীবী মানুষগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।"
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দুর্যোগের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত উদ্ধার কার্যক্রম কিংবা প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দৃশ্যমান হয়নি। ফলে সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে মানবিক বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত খাদ্য সহায়তা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং পর্যটন খাত পুনরুদ্ধারে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, গাইড, মাঝি ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট শ্রমজীবীরা। তাঁদের আশা, সরকারের উচ্চপর্যায় ও জেলা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে সংকট কাটিয়ে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে রোয়াংছড়ির পর্যটন খাত।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার পর্যটন খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ এবং কর্মসংস্থান থেমে যাওয়ায় উপজেলার শতাধিক পর্যটক গাইড, নৌকাচালক, হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকসহ পর্যটননির্ভর পরিবারগুলো চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগের কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ বা কার্যকর সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধস এবং পাহাড়ি ঢলে অভ্যন্তরীণ সড়ক ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়া পর্যটন সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর অনেকেই এখন খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে ভুগছেন। শিশু, নারী ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে অনেক পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে।
রোয়াংছড়ির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দেবতাখুমকে ঘিরে গড়ে ওঠা স্থানীয় অর্থনীতিও বড় ধাক্কা খেয়েছে। বন্যার প্রবল স্রোতে পর্যটক পারাপারের জন্য ব্যবহৃত ৮টি নৌকা ও ৭০টি বাঁশের ভেলা ভেসে গেছে। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত দেবতাখুমে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও ভেসে যাওয়া নৌকা ও ভেলা পুনর্ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা আরও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোয়াংছড়ি উপজেলা টুরিস্ট গাইড কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি চিংনুমং মারমা বলেন,
"ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গাইড ও মাঝিদের জীবিকা পুরোপুরি থেমে গেছে। অনেকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন। খাদ্য সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা না পেলে এই শ্রমজীবী মানুষগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।"
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দুর্যোগের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত উদ্ধার কার্যক্রম কিংবা প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দৃশ্যমান হয়নি। ফলে সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে মানবিক বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত খাদ্য সহায়তা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং পর্যটন খাত পুনরুদ্ধারে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, গাইড, মাঝি ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট শ্রমজীবীরা। তাঁদের আশা, সরকারের উচ্চপর্যায় ও জেলা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে সংকট কাটিয়ে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে রোয়াংছড়ির পর্যটন খাত।

আপনার মতামত লিখুন