ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দীঘিনালায় ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি



দীঘিনালায় ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় সড়ক, কৃষি, মৎস্যসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পূর্ণাঙ্গ জরিপ শেষে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

গত ৭ জুলাই শুরু হওয়া টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বিশেষ করে মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে প্রায় দুই হাজার পরিবার কয়েকদিন পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করে। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক, মাছের ঘের ও পুকুরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পানি নেমে গেলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি জনজীবন। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বড় বড় গর্ত, ভাঙন ও মাটি ধসে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় উপজেলার প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারে প্রায় ৪ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ১৫ দশমিক ৫০ হেক্টর আউস ধানের জমি, ১৮ দশমিক ৭৫ হেক্টর আমন ধানের বীজতলা এবং ২৯ দশমিক ৭৩ হেক্টর সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি খাতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দপ্তরটির হিসাব।

এ ছাড়া মৎস্য খাত ও অন্যান্য অবকাঠামোরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সড়ক, কৃষি, মৎস্যসহ বিভিন্ন খাতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টাকা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শেষে এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার পানি নেমে গেলেও দুর্ভোগ কাটেনি। ভাঙাচোরা সড়ক, নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসল এবং জীবিকা পুনর্গঠনের সংকটে অনেক পরিবার এখনো বিপাকে রয়েছে। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, কৃষকদের পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের সহায়তা এবং দুর্গত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তানজিল পারভেজ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন শেষে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন ও সংস্কার কার্যক্রমের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


দীঘিনালায় ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় সড়ক, কৃষি, মৎস্যসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পূর্ণাঙ্গ জরিপ শেষে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

গত ৭ জুলাই শুরু হওয়া টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বিশেষ করে মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে প্রায় দুই হাজার পরিবার কয়েকদিন পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করে। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক, মাছের ঘের ও পুকুরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পানি নেমে গেলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি জনজীবন। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বড় বড় গর্ত, ভাঙন ও মাটি ধসে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় উপজেলার প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারে প্রায় ৪ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ১৫ দশমিক ৫০ হেক্টর আউস ধানের জমি, ১৮ দশমিক ৭৫ হেক্টর আমন ধানের বীজতলা এবং ২৯ দশমিক ৭৩ হেক্টর সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি খাতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দপ্তরটির হিসাব।

এ ছাড়া মৎস্য খাত ও অন্যান্য অবকাঠামোরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সড়ক, কৃষি, মৎস্যসহ বিভিন্ন খাতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টাকা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শেষে এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার পানি নেমে গেলেও দুর্ভোগ কাটেনি। ভাঙাচোরা সড়ক, নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসল এবং জীবিকা পুনর্গঠনের সংকটে অনেক পরিবার এখনো বিপাকে রয়েছে। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, কৃষকদের পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের সহায়তা এবং দুর্গত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তানজিল পারভেজ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন শেষে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন ও সংস্কার কার্যক্রমের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ