ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মামলা চলমান, তবুও বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ


রাকিবুল হাসান আহাদ
রাকিবুল হাসান আহাদ
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

মামলা চলমান, তবুও বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও থানার বিল মাখল গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান থাকার পরও বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আফাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মামলা ও সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা যায়, বিল মাখল গ্রামের মো. ছোরহাবের সঙ্গে আফাজ উদ্দিনের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। বিরোধপূর্ণ জমির খতিয়ান নং বিআরএস-২৪৬, হাল দাগ নং বিআরএস-১৩৪৩, শ্রেণি-বাড়ি এবং পরিমাণ ০.১৮ একরের মধ্যে ০৩ শতাংশ। জমিটির চৌহদ্দি—উত্তরে আঃ রশিদ, দক্ষিণে মাইনুউদ্দিন, পূর্বে আঃ রশিদ এবং পশ্চিমে মফিজ উদ্দিন গং।

এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের নোটিশে বিরোধপূর্ণ তফসিলভুক্ত জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে স্ব-স্ব অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আদালতে মামলা চলমান থাকার মধ্যেই আফাজ উদ্দিন ও মহিজুদ্দিন ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কতিপয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে ছোরহাবের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণে সহযোগিতা করছেন। স্থানীয়দের মধ্যে এমন কথাও চাউর রয়েছে যে, আফাজ উদ্দিন মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে প্রভাবশালী নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সেখানে নির্মাণকাজ চলায় নতুন করে বিরোধ ও সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আফাজ উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি আনসার-ভিডিপিতে চাকরি করি। এমপি সাহেব জানেন এবং এমপির লোকজনও বিষয়টি অবগত আছেন।’ তবে জমি দখল করে জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণ এবং নেতাদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, সবাই অবগত আছেন। 

এদিকে, আদালতে মামলা চলমান থাকায় বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ যাতে জমির দখল পরিবর্তন বা নতুন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মামলা চলমান, তবুও বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও থানার বিল মাখল গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান থাকার পরও বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আফাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মামলা ও সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা যায়, বিল মাখল গ্রামের মো. ছোরহাবের সঙ্গে আফাজ উদ্দিনের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। বিরোধপূর্ণ জমির খতিয়ান নং বিআরএস-২৪৬, হাল দাগ নং বিআরএস-১৩৪৩, শ্রেণি-বাড়ি এবং পরিমাণ ০.১৮ একরের মধ্যে ০৩ শতাংশ। জমিটির চৌহদ্দি—উত্তরে আঃ রশিদ, দক্ষিণে মাইনুউদ্দিন, পূর্বে আঃ রশিদ এবং পশ্চিমে মফিজ উদ্দিন গং।

এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের নোটিশে বিরোধপূর্ণ তফসিলভুক্ত জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে স্ব-স্ব অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আদালতে মামলা চলমান থাকার মধ্যেই আফাজ উদ্দিন ও মহিজুদ্দিন ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কতিপয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে ছোরহাবের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণে সহযোগিতা করছেন। স্থানীয়দের মধ্যে এমন কথাও চাউর রয়েছে যে, আফাজ উদ্দিন মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে প্রভাবশালী নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সেখানে নির্মাণকাজ চলায় নতুন করে বিরোধ ও সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আফাজ উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি আনসার-ভিডিপিতে চাকরি করি। এমপি সাহেব জানেন এবং এমপির লোকজনও বিষয়টি অবগত আছেন।’ তবে জমি দখল করে জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণ এবং নেতাদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, সবাই অবগত আছেন। 

এদিকে, আদালতে মামলা চলমান থাকায় বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ যাতে জমির দখল পরিবর্তন বা নতুন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ