গোপালগঞ্জ পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক বিক্রেতা উজ্জল মোল্লা ও তার এক সহযোগীকে ৬৪ হাজার ১২৩ পিচ ইয়াবা,নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং একটি নোয়া মাইক্রোবাসসহ গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) রাতে গোপালগঞ্জ ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে খুলনা থেকে তাকে আটক করে।
উজ্জলের বাড়ী গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডের চরসোনাকুড় গ্রামে। সে ওই গ্রামের ঝিলু মোল্লার ছেলে। তার নামে প্রায় দেড় ডজন মাদক ও চোরাই গাড়ী বিক্রির মামলা রয়েছে।
মাদক বিক্রেতা উজ্জল গত তিন বছরে মাদক বিক্রির টাকায় কিনেছেন চারটি নোয়া মাইক্রোবাস, চারটি ট্রলি গাড়ী, দুটি প্রাইভেটকার, কোটি টাকার বিলাসবহুল একটি বাড়ী ও নামে বেনামে অসংখ্য জমি। যার বর্তমান বাজার মুল্য ২০ কোটি টাকারও বেশি।
নাম প্রকাশ না করার শ্বর্তে মাঠ পর্যায়ে কমরত একধিক পুলিশ সদস্য জানান, উজ্জলের বাবা ঝিলু মোল্লা হচ্ছে পেশায় একজন ভ্যান চালক। উজ্জল নিজেও ছিলেন একজন ভ্যান চালক। উজ্জলের গ্রামের বাড়ী সদর উপজেলার ঘাগাইল। বাবার সুবাদে মামা বাড়ী চরসোনাকুড়ে স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছে। ২০২৩ সালের আগে উজ্জল খুচরা ইয়াবা বিক্রি করতো। ৫ আগষ্ট পরবর্তী ঢাকা ও চট্রগ্রাম থেকে বিপুল পরিমান ইয়াবা গোপালগঞ্জে এনে প্রকাশ্য বিক্রি শুরু করে। এ সময় এক ইয়াবা বিক্রেতার বিপুল পরিমান ইয়াবা এনে টাকা না দিয়ে তার স্ত্রী সোমাকে দিয়ে ওই ইয়াবা বিক্রেতাকে ব্লাকমেইল করে। এরপপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়না। ওই টাকা দিয়ে গাড়ী বাড়ী সব ক্রয় করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা শহর ও কোটালীপাড়া, টুঙ্গিপাড়া, কাশিয়ানী, পাশ্ববর্তী জেলা নড়াইলের নড়াগাতিসহ আশপাশ বিভিন্ন জেলা উপজেলার খুচরা মাদক বিক্রেতারা উজ্জলের কাছ থেকে ইয়াবা নিয়ে প্রতিদিন বিক্রি করেন। পুলিশ প্রশাসন ভয়ে কেউ উজ্জলকে ধরতে যেতো না, কারন কোন পুলিশ তাকে ধরতে গেলে স্ত্রী সোমাকে দিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করতো। তার স্ত্রী দেয়া মিথ্যা অভিযোগের খেসারত আজও একজন এসআইকে পোহাতে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শ্বর্তে স্থানীয় খুচরা মাদক বিক্রেতারা জানান, প্রতিদিন ৫ থেকে ৭টাকার ইয়াবা বিক্রি করে উজ্জল। তার বাড়ীর সামনে চাচাতো মামাদের জায়গায় গড়ে তোলা নামমাত্র একটি দোকানঘরকে সাইনবোড বানিয়ে ওইখানে সকাল থেকে রাত ২টা ৩টা পযন্ত মাদক বেচাকেনা হাট বসে।
একসময় গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যর কাছে উজ্জলের মাদক বিক্রির কথা জানান। এরপর তিনি পুলিশ সুপার বিষয়টা দেখতে বললে গা ঢাকা দেয় উজ্জল। সরকার ও স্থানীয় এমপি পুলিশ সুপার মাদকের সাথে যুদ্ধ ঘোষনার পর বেশকিছু মাদক বিক্রেতা নিজেদেরকে গুটিয়ে নিলেও গোপালগঞ্জ জেলা শহরের চরসোনাকুড় গ্রামের এই মাদক ডিলার উজ্জল আরো ব্যবাসা বাড়িয়ে দেয়।
মাদকের বেপরোয়া ছড়াছড়ির খবর স্থানীয় পুলিশ সুপারের কাছে পৌছাতেই তার নির্দেশে থানা পুলিশ, ফাঁড়ির পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একাধিক শক্তিশালি টিম গোপালগঞ্জ পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশের তালিকাভুক্ত প্রায় শতাধিক মাদক বিক্রেতার মধ্যে প্রায় ৫০জন খুচরা মাদক বিক্রেতাকে ইয়াবাসহ আটক করে কারাগারে পাঠালেও ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে এই উজ্জলসহ অন্যান্য ডিলাররা। সবশেষ মঙ্গলবার রাতে গোপালগঞ্জ ডিবি পুলিশ খুলনা থেকে বিপুল পরিমান মাদকসহ উজ্জল ও তার এক সহযোগিকে গ্রেফতার সক্ষম হয়।
এরআগে গ্ত ১১এপ্রিল গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর রাতইল গ্রামে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় চার কোটি টাকা মুল্যের ১০ হাজার পিস ইয়াবা, ২ কেজি গাঁজা ও মাদক বিক্রির ৪ লক্ষ ২৭ হাজার টাকাসহ অবৈধ মাদক বিক্রেতা শেখ শহিদুল ইসলাম আকাশকে গ্রেপ্তার করেছে কাশিয়ানী থানা পুলিশ।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকে টুঙ্গিপাড়ার দক্ষিন কুশলি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৫৫০পিস ইয়াবাসহ ৩১টি মাদক মামলার আসামী নবীরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
গোপালগঞ্জ পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক বিক্রেতা উজ্জল মোল্লা ও তার এক সহযোগীকে ৬৪ হাজার ১২৩ পিচ ইয়াবা,নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং একটি নোয়া মাইক্রোবাসসহ গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) রাতে গোপালগঞ্জ ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে খুলনা থেকে তাকে আটক করে।
উজ্জলের বাড়ী গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডের চরসোনাকুড় গ্রামে। সে ওই গ্রামের ঝিলু মোল্লার ছেলে। তার নামে প্রায় দেড় ডজন মাদক ও চোরাই গাড়ী বিক্রির মামলা রয়েছে।
মাদক বিক্রেতা উজ্জল গত তিন বছরে মাদক বিক্রির টাকায় কিনেছেন চারটি নোয়া মাইক্রোবাস, চারটি ট্রলি গাড়ী, দুটি প্রাইভেটকার, কোটি টাকার বিলাসবহুল একটি বাড়ী ও নামে বেনামে অসংখ্য জমি। যার বর্তমান বাজার মুল্য ২০ কোটি টাকারও বেশি।
নাম প্রকাশ না করার শ্বর্তে মাঠ পর্যায়ে কমরত একধিক পুলিশ সদস্য জানান, উজ্জলের বাবা ঝিলু মোল্লা হচ্ছে পেশায় একজন ভ্যান চালক। উজ্জল নিজেও ছিলেন একজন ভ্যান চালক। উজ্জলের গ্রামের বাড়ী সদর উপজেলার ঘাগাইল। বাবার সুবাদে মামা বাড়ী চরসোনাকুড়ে স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছে। ২০২৩ সালের আগে উজ্জল খুচরা ইয়াবা বিক্রি করতো। ৫ আগষ্ট পরবর্তী ঢাকা ও চট্রগ্রাম থেকে বিপুল পরিমান ইয়াবা গোপালগঞ্জে এনে প্রকাশ্য বিক্রি শুরু করে। এ সময় এক ইয়াবা বিক্রেতার বিপুল পরিমান ইয়াবা এনে টাকা না দিয়ে তার স্ত্রী সোমাকে দিয়ে ওই ইয়াবা বিক্রেতাকে ব্লাকমেইল করে। এরপপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়না। ওই টাকা দিয়ে গাড়ী বাড়ী সব ক্রয় করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা শহর ও কোটালীপাড়া, টুঙ্গিপাড়া, কাশিয়ানী, পাশ্ববর্তী জেলা নড়াইলের নড়াগাতিসহ আশপাশ বিভিন্ন জেলা উপজেলার খুচরা মাদক বিক্রেতারা উজ্জলের কাছ থেকে ইয়াবা নিয়ে প্রতিদিন বিক্রি করেন। পুলিশ প্রশাসন ভয়ে কেউ উজ্জলকে ধরতে যেতো না, কারন কোন পুলিশ তাকে ধরতে গেলে স্ত্রী সোমাকে দিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করতো। তার স্ত্রী দেয়া মিথ্যা অভিযোগের খেসারত আজও একজন এসআইকে পোহাতে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শ্বর্তে স্থানীয় খুচরা মাদক বিক্রেতারা জানান, প্রতিদিন ৫ থেকে ৭টাকার ইয়াবা বিক্রি করে উজ্জল। তার বাড়ীর সামনে চাচাতো মামাদের জায়গায় গড়ে তোলা নামমাত্র একটি দোকানঘরকে সাইনবোড বানিয়ে ওইখানে সকাল থেকে রাত ২টা ৩টা পযন্ত মাদক বেচাকেনা হাট বসে।
একসময় গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যর কাছে উজ্জলের মাদক বিক্রির কথা জানান। এরপর তিনি পুলিশ সুপার বিষয়টা দেখতে বললে গা ঢাকা দেয় উজ্জল। সরকার ও স্থানীয় এমপি পুলিশ সুপার মাদকের সাথে যুদ্ধ ঘোষনার পর বেশকিছু মাদক বিক্রেতা নিজেদেরকে গুটিয়ে নিলেও গোপালগঞ্জ জেলা শহরের চরসোনাকুড় গ্রামের এই মাদক ডিলার উজ্জল আরো ব্যবাসা বাড়িয়ে দেয়।
মাদকের বেপরোয়া ছড়াছড়ির খবর স্থানীয় পুলিশ সুপারের কাছে পৌছাতেই তার নির্দেশে থানা পুলিশ, ফাঁড়ির পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একাধিক শক্তিশালি টিম গোপালগঞ্জ পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশের তালিকাভুক্ত প্রায় শতাধিক মাদক বিক্রেতার মধ্যে প্রায় ৫০জন খুচরা মাদক বিক্রেতাকে ইয়াবাসহ আটক করে কারাগারে পাঠালেও ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে এই উজ্জলসহ অন্যান্য ডিলাররা। সবশেষ মঙ্গলবার রাতে গোপালগঞ্জ ডিবি পুলিশ খুলনা থেকে বিপুল পরিমান মাদকসহ উজ্জল ও তার এক সহযোগিকে গ্রেফতার সক্ষম হয়।
এরআগে গ্ত ১১এপ্রিল গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর রাতইল গ্রামে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় চার কোটি টাকা মুল্যের ১০ হাজার পিস ইয়াবা, ২ কেজি গাঁজা ও মাদক বিক্রির ৪ লক্ষ ২৭ হাজার টাকাসহ অবৈধ মাদক বিক্রেতা শেখ শহিদুল ইসলাম আকাশকে গ্রেপ্তার করেছে কাশিয়ানী থানা পুলিশ।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকে টুঙ্গিপাড়ার দক্ষিন কুশলি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৫৫০পিস ইয়াবাসহ ৩১টি মাদক মামলার আসামী নবীরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন