ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

এসএসসিতে শতভাগ ফেল: নওগাঁর ১৯ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগ


মোঃ ফরহাদ হোসেন
মোঃ ফরহাদ হোসেন
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

এসএসসিতে শতভাগ ফেল: নওগাঁর ১৯ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগ
উন্নয়নে বাংলাদেশ

নওগাঁ জেলায় সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় চরম বিপর্যয় ঘটেছে। জেলার ৭টি উপজেলার মোট ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা এবং ভোকেশনাল (কারিগরি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানই বিদ্যমান।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, অকৃতকার্য হওয়া প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

মান্দা উপজেলা (৫টি): চকদেবীরাম-চকভোলাই আলিম মাদ্রাসা (১৫ জন), রামনগর দাখিল মাদ্রাসা (১৩ জন), চকরঘুনাথ দাখিল মাদ্রাসা (১৩ জন), কুসুম্বা শাহী দাখিল মাদ্রাসা (৯ জন) এবং এলেঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা (৬ জন)।

পোরশা উপজেলা (৪টি): বড় গুন্দইল দাখিল মাদরাসা (১৬ জন), গাঙ্গরিয়া ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা (১৩ জন), অনন্তপুর দাখিল মাদরাসা (৯ জন) ও কালিনগর সরাইগাছী মহিলা দাখিল মাদরাসা (৬ জন)।

নিয়ামতপুর উপজেলা (৩টি): বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা (১৫ জন), পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় (৯ জন) এবং নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ (৭ জন)।

বদলগাছী উপজেলা (৩টি): জোলাপাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা (৩ জন) ও গোবরচাপা হাট আকতার হামিদ সিদ্দিকী দাখিল মাদরাসা (১ জন)। এছাড়া খাদাইল দাখিল মাদরাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

অন্যান্য উপজেলা: পত্নীতলার চকনোদবাটি ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা (১৯ জন), সাপাহারের ভাবুক নইমুদ্দিন দাখিল মাদরাসা (১৩ জন), আত্রাইয়ের সুদরানা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৪ জন) এবং আটগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা (১ জন)।

বিপর্যয়কর এই ফলাফলের পেছনে প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিকে দায়ী করছেন। তবে মান্দার একটি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরীক্ষার কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে শিক্ষার্থীদের "ভীত ও বিহ্বল" হয়ে পড়াকে অকৃতকার্য হওয়ার অদ্ভুত কারণ হিসেবে দাবি করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা একে "অত্যন্ত দুঃখজনক" বলে আখ্যায়িত করেছেন।

একই সাথে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন জানান, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সাথে দ্রুতই জরুরী বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষার মান ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


এসএসসিতে শতভাগ ফেল: নওগাঁর ১৯ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image


নওগাঁ জেলায় সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় চরম বিপর্যয় ঘটেছে। জেলার ৭টি উপজেলার মোট ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা এবং ভোকেশনাল (কারিগরি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানই বিদ্যমান।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, অকৃতকার্য হওয়া প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

মান্দা উপজেলা (৫টি): চকদেবীরাম-চকভোলাই আলিম মাদ্রাসা (১৫ জন), রামনগর দাখিল মাদ্রাসা (১৩ জন), চকরঘুনাথ দাখিল মাদ্রাসা (১৩ জন), কুসুম্বা শাহী দাখিল মাদ্রাসা (৯ জন) এবং এলেঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা (৬ জন)।

পোরশা উপজেলা (৪টি): বড় গুন্দইল দাখিল মাদরাসা (১৬ জন), গাঙ্গরিয়া ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা (১৩ জন), অনন্তপুর দাখিল মাদরাসা (৯ জন) ও কালিনগর সরাইগাছী মহিলা দাখিল মাদরাসা (৬ জন)।

নিয়ামতপুর উপজেলা (৩টি): বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা (১৫ জন), পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় (৯ জন) এবং নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ (৭ জন)।

বদলগাছী উপজেলা (৩টি): জোলাপাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা (৩ জন) ও গোবরচাপা হাট আকতার হামিদ সিদ্দিকী দাখিল মাদরাসা (১ জন)। এছাড়া খাদাইল দাখিল মাদরাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

অন্যান্য উপজেলা: পত্নীতলার চকনোদবাটি ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা (১৯ জন), সাপাহারের ভাবুক নইমুদ্দিন দাখিল মাদরাসা (১৩ জন), আত্রাইয়ের সুদরানা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৪ জন) এবং আটগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা (১ জন)।

বিপর্যয়কর এই ফলাফলের পেছনে প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিকে দায়ী করছেন। তবে মান্দার একটি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরীক্ষার কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে শিক্ষার্থীদের "ভীত ও বিহ্বল" হয়ে পড়াকে অকৃতকার্য হওয়ার অদ্ভুত কারণ হিসেবে দাবি করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা একে "অত্যন্ত দুঃখজনক" বলে আখ্যায়িত করেছেন।

একই সাথে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন জানান, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সাথে দ্রুতই জরুরী বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষার মান ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ