ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

এক মাসের মেয়েকে রেখে সৌদিতে আগুনে পুড়লেন শামীম


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬

এক মাসের মেয়েকে রেখে সৌদিতে আগুনে পুড়লেন শামীম
ছবি: সংগৃহীত

সংসারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে আট মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাটোরের নলডাঙ্গার শামীম হোসেন। যাওয়ার সময় স্ত্রী মিতু বেগম ছিলেন সন্তানসম্ভবা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এক মাস আগে তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান। কিন্তু সেই সন্তানকে নিজের হাতে কোলে নেওয়ার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না শামীমের।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা গেছেন শামীম হোসেনসহ নলডাঙ্গার তিন প্রবাসী। নিহত অন্য দুজন হলেন উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়া গ্রামের মো. রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন শুভ এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম শেখের ছেলে রবিউল আউয়াল হৃদয়।

নিহত শামীম হোসেন উপজেলার দীঘিরপাড় এলাকার মো. জাকির হোসেনের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে পার্শ্ববর্তী হালতি খোলাবাড়িয়া এলাকার মিতু বেগমকে বিয়ে করেন শামীম। বিয়ের পর দীর্ঘদিন সন্তান না হওয়ায় বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন তারা। প্রায় চার বছর পর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হলে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন দুজন।

এরপর অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ ও সংসারের সচ্ছলতার আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমান শামীম। বিদেশে থেকেও অনাগত সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন তিনি। এক মাস আগে কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার খবরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছিলেন। দেশে ফিরে মেয়েকে কোলে নিয়ে আদর করার স্বপ্নও দেখেছিলেন।

কিন্তু সেই স্বপ্নের পরিবর্তে এখন শামীমের লাশের অপেক্ষায় তার পরিবার।

স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী মিতু বেগম। মাত্র এক মাস বয়সী মেয়েটিও হারিয়েছে বাবাকে, যাকে কোনোদিন দেখার সুযোগই হলো না।

শামীমের মা শাহীনুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে আমার সন্তান সৌদি আরবে গিয়েছিল। আমার এক মাস বয়সী নাতনি তার বাবার জীবিত মুখটাও দেখতে পেল না। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমার সন্তানের লাশ দ্রুত আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। পাশাপাশি আমার নাতনির ভবিষ্যতের জন্য সরকার যেন সহযোগিতা করে।’

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলে-ইমরান খান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের বাড়িতে যাচ্ছেন। পরিবারের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা করা হবে।

তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


এক মাসের মেয়েকে রেখে সৌদিতে আগুনে পুড়লেন শামীম

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সংসারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে আট মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাটোরের নলডাঙ্গার শামীম হোসেন। যাওয়ার সময় স্ত্রী মিতু বেগম ছিলেন সন্তানসম্ভবা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এক মাস আগে তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান। কিন্তু সেই সন্তানকে নিজের হাতে কোলে নেওয়ার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না শামীমের।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা গেছেন শামীম হোসেনসহ নলডাঙ্গার তিন প্রবাসী। নিহত অন্য দুজন হলেন উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়া গ্রামের মো. রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন শুভ এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম শেখের ছেলে রবিউল আউয়াল হৃদয়।

নিহত শামীম হোসেন উপজেলার দীঘিরপাড় এলাকার মো. জাকির হোসেনের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে পার্শ্ববর্তী হালতি খোলাবাড়িয়া এলাকার মিতু বেগমকে বিয়ে করেন শামীম। বিয়ের পর দীর্ঘদিন সন্তান না হওয়ায় বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন তারা। প্রায় চার বছর পর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হলে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন দুজন।

এরপর অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ ও সংসারের সচ্ছলতার আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমান শামীম। বিদেশে থেকেও অনাগত সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন তিনি। এক মাস আগে কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার খবরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছিলেন। দেশে ফিরে মেয়েকে কোলে নিয়ে আদর করার স্বপ্নও দেখেছিলেন।

কিন্তু সেই স্বপ্নের পরিবর্তে এখন শামীমের লাশের অপেক্ষায় তার পরিবার।

স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী মিতু বেগম। মাত্র এক মাস বয়সী মেয়েটিও হারিয়েছে বাবাকে, যাকে কোনোদিন দেখার সুযোগই হলো না।

শামীমের মা শাহীনুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে আমার সন্তান সৌদি আরবে গিয়েছিল। আমার এক মাস বয়সী নাতনি তার বাবার জীবিত মুখটাও দেখতে পেল না। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমার সন্তানের লাশ দ্রুত আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। পাশাপাশি আমার নাতনির ভবিষ্যতের জন্য সরকার যেন সহযোগিতা করে।’

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলে-ইমরান খান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের বাড়িতে যাচ্ছেন। পরিবারের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা করা হবে।

তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ