ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তারেক রহমানের কাছে হেফাজতের ৯ দাবি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

তারেক রহমানের কাছে হেফাজতের ৯ দাবি
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদরাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ৯ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত সভায় সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান লিখিতভাবে এসব দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

হেফাজতের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে কঠোর ব্লাসফেমি আইন প্রণয়ন। একই সঙ্গে কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করার দাবিও জানানো হয়।

লিখিত দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হুকুমদাতা ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিগত সরকারের সময়ে আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার করে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

শিক্ষা খাতে হেফাজতের দাবির মধ্যে রয়েছে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রির মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করা এবং সরকারি চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এ ডিগ্রির উল্লেখ রাখা। একই সঙ্গে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা, হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা, পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত ষড়যন্ত্র বন্ধ করা এবং ভারতের মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবি জানায় সংগঠনটি।

বিশ্ব ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবিও রয়েছে হেফাজতের ৯ দফার তালিকায়।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে রোববার দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে তিনি বাবুনগর মাদরাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


তারেক রহমানের কাছে হেফাজতের ৯ দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদরাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ৯ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত সভায় সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান লিখিতভাবে এসব দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

হেফাজতের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে কঠোর ব্লাসফেমি আইন প্রণয়ন। একই সঙ্গে কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করার দাবিও জানানো হয়।

লিখিত দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হুকুমদাতা ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিগত সরকারের সময়ে আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার করে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

শিক্ষা খাতে হেফাজতের দাবির মধ্যে রয়েছে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রির মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করা এবং সরকারি চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এ ডিগ্রির উল্লেখ রাখা। একই সঙ্গে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা, হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা, পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত ষড়যন্ত্র বন্ধ করা এবং ভারতের মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবি জানায় সংগঠনটি।

বিশ্ব ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবিও রয়েছে হেফাজতের ৯ দফার তালিকায়।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে রোববার দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে তিনি বাবুনগর মাদরাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ