ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পারমাণবিক অস্ত্র বিলুপ্তির দাবি হিরোশিমার


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

পারমাণবিক অস্ত্র বিলুপ্তির দাবি হিরোশিমার
ছবি: সংগৃহীত

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উত্তেজনা এবং পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে বিশ্ব নেতাদের প্রতি পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে জাপানের হিরোশিমা শহর। শহরটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামরিক শক্তির প্রদর্শন ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে এখনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রবণতা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলার ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় পাঠ করা ‘শান্তি ঘোষণা’য় হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাতসুই বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহতাকে হালকাভাবে দেখার প্রবণতা এবং শক্তির রাজনীতিকে গ্রহণ করার মানসিকতা মানবসভ্যতাকে আবারও হিরোশিমা কিংবা নাগাসাকির মতো বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

তিনি বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের যেকোনো ব্যবহার মানবতার জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই বহুপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং অপ্রসার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মেয়র মাতসুই সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরমাণু অপ্রসার চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করে বলেন, একে অপরের ওপর দায় চাপানোর রাজনীতি বিশ্বশান্তির ভিত্তিকে দুর্বল করছে।


এক মিনিট নীরবতায় স্মরণ

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে মার্কিন বোমারু বিমান ‘এনোলা গে’ থেকে হিরোশিমার ওপর ইউরেনিয়াম বোমা নিক্ষেপ করা হয়। সেই সময়ের স্মরণে স্থানীয় সময় ঠিক সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ওই হামলায় ১৯৪৫ সালের শেষ নাগাদ আনুমানিক এক লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

জাপানের অবস্থান অপরিবর্তিত

অনুষ্ঠানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করা, নিজেদের কাছে না রাখা এবং দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না দেওয়ার দীর্ঘদিনের তিনটি নীতি জাপান এখনো অনুসরণ করছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞের অভিজ্ঞতা অর্জনকারী একমাত্র দেশ হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গঠনে কাজ করে যাওয়া জাপানের নৈতিক দায়িত্ব।

জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বার্তায় বলেন, পারমাণবিক বিপর্যয় ঠেকাতে যে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও কাঠামো এতদিন কার্যকর ছিল, তা এখন চাপে রয়েছে। তিনি সংঘাত নয়, সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।

এদিকে, পারমাণবিক হামলার জীবিত সাক্ষী ‘হিবাকুশা’দের সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে উল্লেখ করে মেয়র মাতসুই তরুণ প্রজন্মকে পারমাণবিক অস্ত্র বিলুপ্তির আন্দোলনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’র পর্যালোচনা সম্মেলনে জাপানকে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, হিরোশিমায় হামলার তিন দিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ছয় দিন পর জাপান আত্মসমর্পণ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

সূত্র: জাপান টুডে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


পারমাণবিক অস্ত্র বিলুপ্তির দাবি হিরোশিমার

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উত্তেজনা এবং পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে বিশ্ব নেতাদের প্রতি পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে জাপানের হিরোশিমা শহর। শহরটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামরিক শক্তির প্রদর্শন ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে এখনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রবণতা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলার ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় পাঠ করা ‘শান্তি ঘোষণা’য় হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাতসুই বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহতাকে হালকাভাবে দেখার প্রবণতা এবং শক্তির রাজনীতিকে গ্রহণ করার মানসিকতা মানবসভ্যতাকে আবারও হিরোশিমা কিংবা নাগাসাকির মতো বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

তিনি বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের যেকোনো ব্যবহার মানবতার জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই বহুপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং অপ্রসার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মেয়র মাতসুই সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরমাণু অপ্রসার চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করে বলেন, একে অপরের ওপর দায় চাপানোর রাজনীতি বিশ্বশান্তির ভিত্তিকে দুর্বল করছে।


এক মিনিট নীরবতায় স্মরণ

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে মার্কিন বোমারু বিমান ‘এনোলা গে’ থেকে হিরোশিমার ওপর ইউরেনিয়াম বোমা নিক্ষেপ করা হয়। সেই সময়ের স্মরণে স্থানীয় সময় ঠিক সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ওই হামলায় ১৯৪৫ সালের শেষ নাগাদ আনুমানিক এক লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

জাপানের অবস্থান অপরিবর্তিত

অনুষ্ঠানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করা, নিজেদের কাছে না রাখা এবং দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না দেওয়ার দীর্ঘদিনের তিনটি নীতি জাপান এখনো অনুসরণ করছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞের অভিজ্ঞতা অর্জনকারী একমাত্র দেশ হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গঠনে কাজ করে যাওয়া জাপানের নৈতিক দায়িত্ব।

জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বার্তায় বলেন, পারমাণবিক বিপর্যয় ঠেকাতে যে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও কাঠামো এতদিন কার্যকর ছিল, তা এখন চাপে রয়েছে। তিনি সংঘাত নয়, সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।

এদিকে, পারমাণবিক হামলার জীবিত সাক্ষী ‘হিবাকুশা’দের সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে উল্লেখ করে মেয়র মাতসুই তরুণ প্রজন্মকে পারমাণবিক অস্ত্র বিলুপ্তির আন্দোলনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’র পর্যালোচনা সম্মেলনে জাপানকে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, হিরোশিমায় হামলার তিন দিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ছয় দিন পর জাপান আত্মসমর্পণ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

সূত্র: জাপান টুডে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ