ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

৫ আগস্ট কেন কাশ্মীরের ‘কালো দিবস’?


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

৫ আগস্ট কেন কাশ্মীরের ‘কালো দিবস’?
ছবি: সংগৃহীত


৫ আগস্ট, ২০১৯। ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এদিন রাষ্ট্রপতির আদেশে ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহার করে জম্মু ও কাশ্মীরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়।

এরপর থেকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ৫ আগস্টকে কাশ্মীরের ভারতের মূলধারার সঙ্গে পূর্ণ একীভূত হওয়ার দিন হিসেবে পালন করে আসছে। অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল কনফারেন্স (জেকেএনসি) এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করছে।

৩৭০ ধারা বাতিলের সপ্তম বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে শ্রীনগরে পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বে মোমবাতি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দলটির নেতারা অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ চলাকালে মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতিকে আটক করা হয়েছে।

মেহবুবা মুফতি বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য এটি একটি কালো রাত। আমরা প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছি। যতদিন না কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হচ্ছে এবং ৩৭০ ধারা পুনর্বহাল করা হচ্ছে, ততদিন আমরা নীরব থাকব না।”

পিডিপি জানিয়েছে, শুধু শ্রীনগর নয়, জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলাতেও তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ন্যাশনাল কনফারেন্সও শ্রীনগরের দলীয় কার্যালয়সহ সব জেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

দলের জ্যেষ্ঠ নেতা রতন লাল গুপ্ত বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক অধিকার একতরফাভাবে ও অসাংবিধানিকভাবে বাতিল করার প্রতিবাদে আমরা ৫ আগস্টকে কালো দিবস হিসেবে পালন করছি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে না দেওয়ার বিরুদ্ধেও আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

দিল্লিতেও ন্যাশনাল কনফারেন্সের সংসদ সদস্য চৌধুরী রমজান বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের সদস্যদের সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

যদিও ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রশ্নে ইন্ডিয়া জোটের অনেক দল প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়নি, তবে কংগ্রেসসহ জোটের বেশিরভাগ দল জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহও দিল্লিতে বিক্ষোভ করে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন করেনি।

২০২৩ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, জম্মু ও কাশ্মীরের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা সাময়িক এবং বিধানসভা নির্বাচন শেষে রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহাল করা হবে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এখনো রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার।

সরকার গঠনের পর ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন প্রথম মন্ত্রিসভা রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবিতে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। পরে একই দাবিতে প্রস্তাব পাস করে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভাও।

এদিকে বিজেপি দাবি করে আসছে, ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ কমেছে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে।

তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাশনাল কনফারেন্স এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছে। দলটির মতে, কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


৫ আগস্ট কেন কাশ্মীরের ‘কালো দিবস’?

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image


৫ আগস্ট, ২০১৯। ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এদিন রাষ্ট্রপতির আদেশে ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহার করে জম্মু ও কাশ্মীরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়।

এরপর থেকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ৫ আগস্টকে কাশ্মীরের ভারতের মূলধারার সঙ্গে পূর্ণ একীভূত হওয়ার দিন হিসেবে পালন করে আসছে। অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল কনফারেন্স (জেকেএনসি) এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করছে।

৩৭০ ধারা বাতিলের সপ্তম বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে শ্রীনগরে পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বে মোমবাতি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দলটির নেতারা অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ চলাকালে মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতিকে আটক করা হয়েছে।

মেহবুবা মুফতি বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য এটি একটি কালো রাত। আমরা প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছি। যতদিন না কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হচ্ছে এবং ৩৭০ ধারা পুনর্বহাল করা হচ্ছে, ততদিন আমরা নীরব থাকব না।”

পিডিপি জানিয়েছে, শুধু শ্রীনগর নয়, জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলাতেও তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ন্যাশনাল কনফারেন্সও শ্রীনগরের দলীয় কার্যালয়সহ সব জেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

দলের জ্যেষ্ঠ নেতা রতন লাল গুপ্ত বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক অধিকার একতরফাভাবে ও অসাংবিধানিকভাবে বাতিল করার প্রতিবাদে আমরা ৫ আগস্টকে কালো দিবস হিসেবে পালন করছি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে না দেওয়ার বিরুদ্ধেও আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

দিল্লিতেও ন্যাশনাল কনফারেন্সের সংসদ সদস্য চৌধুরী রমজান বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের সদস্যদের সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

যদিও ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রশ্নে ইন্ডিয়া জোটের অনেক দল প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়নি, তবে কংগ্রেসসহ জোটের বেশিরভাগ দল জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহও দিল্লিতে বিক্ষোভ করে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন করেনি।

২০২৩ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, জম্মু ও কাশ্মীরের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা সাময়িক এবং বিধানসভা নির্বাচন শেষে রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহাল করা হবে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এখনো রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার।

সরকার গঠনের পর ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন প্রথম মন্ত্রিসভা রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবিতে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। পরে একই দাবিতে প্রস্তাব পাস করে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভাও।

এদিকে বিজেপি দাবি করে আসছে, ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ কমেছে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে।

তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাশনাল কনফারেন্স এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছে। দলটির মতে, কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ