উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী ঈদুল ফিতরের জামাতের স্থান কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানকে আধুনিক ও আরও দর্শনীয় করে গড়ে তুলতে ৬ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা দূর হবে এবং ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া লাখো মুসল্লি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
জানা গেছে, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের উদ্যোগে অনুমোদিত এই প্রকল্পের আওতায় ঈদগাহ ময়দানের ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, বড় পরিসরের ওজুখানা নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব শৌচাগার, হাঁটার পথ, সীমানা প্রাচীর সংস্কার, সবুজায়ন এবং উন্নত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে।
বিশেষ করে ঈদের দিন বিপুল সংখ্যক মুসল্লির পানীয় জল, অজু ও স্যানিটেশন সুবিধার যে সংকট দেখা দিত, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার স্থায়ী সমাধান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮২৮ সালে মসনদে আলা ঈশা খাঁর ১৭তম বংশধর দেওয়ান হায়দার আলীর উদ্যোগে শোলাকিয়ায় প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, সেই জামাতে প্রায় সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেখান থেকেই 'সোয়া লাখিয়া' নামটি পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান 'শোলাকিয়া' নামের প্রচলন ঘটে।
বর্তমানে প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের দিন দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় ২ থেকে ৫ লাখ মুসল্লি এই মাঠে সমবেত হন। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে বিশেষ করে বর্ষাকাল ও তীব্র গরমে মুসল্লিদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে একসঙ্গে ৫০০ জনের বেশি মুসল্লির অজুর উপযোগী আধুনিক ওজুখানা কমপ্লেক্স। সেখানে বিশুদ্ধ পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও আধুনিক ফিল্টারিং ব্যবস্থা থাকবে।
এ ছাড়া নির্মাণ করা হবে পর্যাপ্ত পরিবেশবান্ধব শৌচাগার, হাত ধোয়ার স্থান এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব ব্যবহারযোগ্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা।
বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা দূর করতে আধুনিক ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ লাইন স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নান্দনিক সীমানা প্রাচীর, প্রবেশদ্বারে তোরণ, দৃষ্টিনন্দন হাঁটার পথ, এলইডি স্ট্রিট লাইট ও হাই-মাস্ট লাইট স্থাপন করে পুরো এলাকাকে আরও নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।
প্রকল্প সম্পর্কে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন,
"শোলাকিয়া শুধু কিশোরগঞ্জের নয়, পুরো বাংলাদেশের গর্ব। এখানে লাখো মুসল্লি নামাজ আদায় করতে আসেন। তাদের প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শোলাকিয়াকে আন্তর্জাতিক মানের একটি নান্দনিক ঈদগাহে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি।"
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের প্রতিটি টাকার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা থাকবে।
প্রকল্পের অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। শোলাকিয়া এলাকার এক প্রবীণ মুসল্লি বলেন, ঈদের সময় অজু ও শৌচাগার ব্যবহারে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি ছিল। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে লাখো মুসল্লি উপকৃত হবেন।
স্থানীয় নাগরিকদের মতে, এই উন্নয়ন শুধু ঈদের জামাতকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে না, বরং বছরজুড়ে শোলাকিয়াকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক জরিপ ও মাপজোকের কাজ শেষ হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার তত্ত্বাবধানে প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হবে এবং আগামী ঈদের আগেই মূল কাজের বড় অংশ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী ঈদুল ফিতরের জামাতের স্থান কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানকে আধুনিক ও আরও দর্শনীয় করে গড়ে তুলতে ৬ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা দূর হবে এবং ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া লাখো মুসল্লি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
জানা গেছে, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের উদ্যোগে অনুমোদিত এই প্রকল্পের আওতায় ঈদগাহ ময়দানের ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, বড় পরিসরের ওজুখানা নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব শৌচাগার, হাঁটার পথ, সীমানা প্রাচীর সংস্কার, সবুজায়ন এবং উন্নত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে।
বিশেষ করে ঈদের দিন বিপুল সংখ্যক মুসল্লির পানীয় জল, অজু ও স্যানিটেশন সুবিধার যে সংকট দেখা দিত, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার স্থায়ী সমাধান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮২৮ সালে মসনদে আলা ঈশা খাঁর ১৭তম বংশধর দেওয়ান হায়দার আলীর উদ্যোগে শোলাকিয়ায় প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, সেই জামাতে প্রায় সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেখান থেকেই 'সোয়া লাখিয়া' নামটি পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান 'শোলাকিয়া' নামের প্রচলন ঘটে।
বর্তমানে প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের দিন দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় ২ থেকে ৫ লাখ মুসল্লি এই মাঠে সমবেত হন। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে বিশেষ করে বর্ষাকাল ও তীব্র গরমে মুসল্লিদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে একসঙ্গে ৫০০ জনের বেশি মুসল্লির অজুর উপযোগী আধুনিক ওজুখানা কমপ্লেক্স। সেখানে বিশুদ্ধ পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও আধুনিক ফিল্টারিং ব্যবস্থা থাকবে।
এ ছাড়া নির্মাণ করা হবে পর্যাপ্ত পরিবেশবান্ধব শৌচাগার, হাত ধোয়ার স্থান এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব ব্যবহারযোগ্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা।
বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা দূর করতে আধুনিক ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ লাইন স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নান্দনিক সীমানা প্রাচীর, প্রবেশদ্বারে তোরণ, দৃষ্টিনন্দন হাঁটার পথ, এলইডি স্ট্রিট লাইট ও হাই-মাস্ট লাইট স্থাপন করে পুরো এলাকাকে আরও নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।
প্রকল্প সম্পর্কে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন,
"শোলাকিয়া শুধু কিশোরগঞ্জের নয়, পুরো বাংলাদেশের গর্ব। এখানে লাখো মুসল্লি নামাজ আদায় করতে আসেন। তাদের প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শোলাকিয়াকে আন্তর্জাতিক মানের একটি নান্দনিক ঈদগাহে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি।"
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের প্রতিটি টাকার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা থাকবে।
প্রকল্পের অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। শোলাকিয়া এলাকার এক প্রবীণ মুসল্লি বলেন, ঈদের সময় অজু ও শৌচাগার ব্যবহারে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি ছিল। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে লাখো মুসল্লি উপকৃত হবেন।
স্থানীয় নাগরিকদের মতে, এই উন্নয়ন শুধু ঈদের জামাতকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে না, বরং বছরজুড়ে শোলাকিয়াকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক জরিপ ও মাপজোকের কাজ শেষ হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার তত্ত্বাবধানে প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হবে এবং আগামী ঈদের আগেই মূল কাজের বড় অংশ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন