আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও নিম্নমুখী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা (ইল্ড) বেড়ে যাওয়ায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমেছে। একই সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তাও বাজারে প্রভাব ফেলছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ১টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৫ ডলার ৫৯ সেন্টে নেমে আসে। এর আগের দিন স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। অন্যদিকে আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৩ ডলার ৭০ সেন্টে লেনদেন হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ১০ বছর মেয়াদি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি নোটের ইল্ড বাড়ায় স্বর্ণ ধারণের সুযোগ ব্যয় বেড়েছে। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমেছে।
এএনজেডের বিশ্লেষক সোনি কুমারীর ভাষ্য, বাজার যদি মনে করে মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে সুদের হার আরও বাড়তে পারে, তাহলে ট্রেজারি ইল্ডও বাড়বে। আর সেই পরিস্থিতিই বর্তমানে স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে। একই সঙ্গে ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এতে ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণ দীর্ঘদিন ধরেই মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও উচ্চ সুদের পরিবেশে সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় এর চাহিদা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বর্তমানে ৬৭ শতাংশ। নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে এ সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৮১ শতাংশ।
এদিকে বাজারের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্যের দিকে। ফেড মূল্যস্ফীতি মূল্যায়নে এ সূচককে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার তারা ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েক মাস ধরে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টিডি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষকদের ধারণা, গ্রীষ্মকালজুড়ে তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দাম ধীরে ধীরে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯০০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫৭ ডলার ৪৯ সেন্ট এবং প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৯৫ ডলার ৩৮ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৫৫ ডলার ৬৭ সেন্টে পৌঁছেছে।
সূত্র: রয়টার্স
বিষয় : স্বর্ণের দাম

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও নিম্নমুখী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা (ইল্ড) বেড়ে যাওয়ায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমেছে। একই সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তাও বাজারে প্রভাব ফেলছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ১টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৫ ডলার ৫৯ সেন্টে নেমে আসে। এর আগের দিন স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। অন্যদিকে আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৩ ডলার ৭০ সেন্টে লেনদেন হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ১০ বছর মেয়াদি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি নোটের ইল্ড বাড়ায় স্বর্ণ ধারণের সুযোগ ব্যয় বেড়েছে। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমেছে।
এএনজেডের বিশ্লেষক সোনি কুমারীর ভাষ্য, বাজার যদি মনে করে মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে সুদের হার আরও বাড়তে পারে, তাহলে ট্রেজারি ইল্ডও বাড়বে। আর সেই পরিস্থিতিই বর্তমানে স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে। একই সঙ্গে ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এতে ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণ দীর্ঘদিন ধরেই মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও উচ্চ সুদের পরিবেশে সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় এর চাহিদা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বর্তমানে ৬৭ শতাংশ। নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে এ সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৮১ শতাংশ।
এদিকে বাজারের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্যের দিকে। ফেড মূল্যস্ফীতি মূল্যায়নে এ সূচককে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার তারা ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েক মাস ধরে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টিডি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষকদের ধারণা, গ্রীষ্মকালজুড়ে তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দাম ধীরে ধীরে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯০০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫৭ ডলার ৪৯ সেন্ট এবং প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৯৫ ডলার ৩৮ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৫৫ ডলার ৬৭ সেন্টে পৌঁছেছে।
সূত্র: রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন