রাজধানীর উত্তরার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ পাম্পে পর্যাপ্ত চাপ (প্রেশার) না থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে জ্বালানি বিক্রি। ফলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও ট্রাকচালকদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী চালকরা।
রোববার সরেজমিনে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, জসীমউদ্দীন মোড় ও খিলক্ষেত এলাকার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এই ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়।
উত্তরার আব্দুল্লাহপুর এলাকার খন্দকার ফিলিং স্টেশন, বিমানবন্দর এলাকার মেসার্স মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশন এবং আরএসআর ফিলিং স্টেশনসহ অধিকাংশ পাম্পেই গ্যাস মিলছে না। একটি-দুটি পাম্প চালু থাকলেও গ্যাসের প্রেশার আশঙ্কাজনকভাবে কম।
মেসার্স মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার জানান, গ্যাস বিক্রি বন্ধ থাকায় বিমানের জসীমউদ্দীন মোড় পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশার দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। তবে ডিজেল ও অকটেনচালিত যানবাহনগুলো জ্বালানি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চলে যেতে পারছে।
আরএসআর ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী আক্তারুজ্জামান বলেন, "গত ৫-৬ দিন ধরেই এই সমস্যা চলছে। সকাল ৯টার পর থেকেই বসে আছি, দুপুর আড়াইটার দিকে কিছুক্ষণ হালকা প্রেশার এলেও আবার চলে যায়।"
কেন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না—জানতে চাইলে পাম্প কর্তৃপক্ষ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নিয়মিত সরবরাহ না থাকাকেই দায়ী করছে।
মেসার্স মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. শাকিব হোসেন বলেন, "গত তিন দিন ধরে গ্যাসের প্রেশার একেবারেই নেই। আশপাশের প্রায় সব স্টেশন বন্ধ। বিদ্যুৎ খরচ করে পাম্প চালিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। তিতাস থেকে আমরাই যদি পর্যাপ্ত গ্যাস না পাই, তবে গ্রাহকদের দেব কীভাবে?"
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন পেশাদার চালকরা।
ভোররাত ৪টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালক জসিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "সকাল থেকে বসে আছি, গ্যাস পাইনি। দিনশেষে গাড়ির মালিকের জমা দেব কীভাবে? সংসার চালানো আর মেয়ের স্কুলের বেতন দেওয়া নিয়ে এখন চরম বিপদে পড়েছি।"
আরেক চালক জাহিদ হোসেন নিজের খরচের হিসাব দিয়ে বলেন, "প্রতিদিন মালিকের জমা ১,২০০ টাকা আর গ্যাস লাগে ৪০০ টাকার। নিজের খরচসহ প্রতিদিন অন্তত ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা আয় করতে হয়। গত তিন দিন ধরে গ্যাস না পাওয়ায় আয়-রোজগার একপ্রকার বন্ধ।"
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত এই সংকটের সমাধান না করা হলে সাধারণ চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর উত্তরার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ পাম্পে পর্যাপ্ত চাপ (প্রেশার) না থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে জ্বালানি বিক্রি। ফলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও ট্রাকচালকদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী চালকরা।
রোববার সরেজমিনে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, জসীমউদ্দীন মোড় ও খিলক্ষেত এলাকার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এই ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়।
উত্তরার আব্দুল্লাহপুর এলাকার খন্দকার ফিলিং স্টেশন, বিমানবন্দর এলাকার মেসার্স মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশন এবং আরএসআর ফিলিং স্টেশনসহ অধিকাংশ পাম্পেই গ্যাস মিলছে না। একটি-দুটি পাম্প চালু থাকলেও গ্যাসের প্রেশার আশঙ্কাজনকভাবে কম।
মেসার্স মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার জানান, গ্যাস বিক্রি বন্ধ থাকায় বিমানের জসীমউদ্দীন মোড় পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশার দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। তবে ডিজেল ও অকটেনচালিত যানবাহনগুলো জ্বালানি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চলে যেতে পারছে।
আরএসআর ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী আক্তারুজ্জামান বলেন, "গত ৫-৬ দিন ধরেই এই সমস্যা চলছে। সকাল ৯টার পর থেকেই বসে আছি, দুপুর আড়াইটার দিকে কিছুক্ষণ হালকা প্রেশার এলেও আবার চলে যায়।"
কেন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না—জানতে চাইলে পাম্প কর্তৃপক্ষ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নিয়মিত সরবরাহ না থাকাকেই দায়ী করছে।
মেসার্স মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. শাকিব হোসেন বলেন, "গত তিন দিন ধরে গ্যাসের প্রেশার একেবারেই নেই। আশপাশের প্রায় সব স্টেশন বন্ধ। বিদ্যুৎ খরচ করে পাম্প চালিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। তিতাস থেকে আমরাই যদি পর্যাপ্ত গ্যাস না পাই, তবে গ্রাহকদের দেব কীভাবে?"
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন পেশাদার চালকরা।
ভোররাত ৪টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালক জসিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "সকাল থেকে বসে আছি, গ্যাস পাইনি। দিনশেষে গাড়ির মালিকের জমা দেব কীভাবে? সংসার চালানো আর মেয়ের স্কুলের বেতন দেওয়া নিয়ে এখন চরম বিপদে পড়েছি।"
আরেক চালক জাহিদ হোসেন নিজের খরচের হিসাব দিয়ে বলেন, "প্রতিদিন মালিকের জমা ১,২০০ টাকা আর গ্যাস লাগে ৪০০ টাকার। নিজের খরচসহ প্রতিদিন অন্তত ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা আয় করতে হয়। গত তিন দিন ধরে গ্যাস না পাওয়ায় আয়-রোজগার একপ্রকার বন্ধ।"
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত এই সংকটের সমাধান না করা হলে সাধারণ চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন