রাজশাহীতে চলমান ১৫ দিনব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষমেলায় পরিবেশ সংরক্ষণে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নজর কেড়েছে। নওগাঁর পরিচিত বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল, যিনি ‘তাল বেলাল’ নামে পরিচিত, বন বিভাগের কাছে ২৫ কেজি দেশি নিমের বীজ হস্তান্তর করেছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশীয় বৃক্ষ সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
শনিবার মেলা প্রাঙ্গণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী আলহাজ মিজানুর রহমান মিনু এমপির মাধ্যমে সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তার হাতে এসব বীজ তুলে দেওয়া হয়।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, সামাজিক বন অঞ্চল বগুড়ার বন সংরক্ষক মুহাম্মদ সুবেদার ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী (ইশা) প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সামাজিক বন বিভাগ, রাজশাহীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের সবুজায়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যেই এই দেশি নিমের বীজ বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রতিটি নাগরিককে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি উদ্যোগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততাও বাড়াতে হবে। নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মাহমুদুন নবী বেলালের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি বনায়নের পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল বলেন, দেশি নিমগাছ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। একজন সাধারণ বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে পরিবেশ রক্ষার কাজে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। বন বিভাগের মাধ্যমে এসব বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে রোপণ করা হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, হস্তান্তর করা নিমের বীজ নার্সারিতে চারা উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে। পরবর্তীতে সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় রোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন কর্মসূচিতে কাজে লাগানো হবে।
উল্লেখ্য, মাহমুদুন নবী বেলাল ২০১৭ সাল থেকে নিজ উদ্যোগে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার এলাকায় তালবীজ রোপণ করে আসছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ রোপণের মাধ্যমে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
রাজশাহীতে চলমান ১৫ দিনব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষমেলায় পরিবেশ সংরক্ষণে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নজর কেড়েছে। নওগাঁর পরিচিত বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল, যিনি ‘তাল বেলাল’ নামে পরিচিত, বন বিভাগের কাছে ২৫ কেজি দেশি নিমের বীজ হস্তান্তর করেছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশীয় বৃক্ষ সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
শনিবার মেলা প্রাঙ্গণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী আলহাজ মিজানুর রহমান মিনু এমপির মাধ্যমে সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তার হাতে এসব বীজ তুলে দেওয়া হয়।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, সামাজিক বন অঞ্চল বগুড়ার বন সংরক্ষক মুহাম্মদ সুবেদার ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী (ইশা) প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সামাজিক বন বিভাগ, রাজশাহীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের সবুজায়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যেই এই দেশি নিমের বীজ বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রতিটি নাগরিককে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি উদ্যোগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততাও বাড়াতে হবে। নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মাহমুদুন নবী বেলালের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি বনায়নের পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল বলেন, দেশি নিমগাছ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। একজন সাধারণ বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে পরিবেশ রক্ষার কাজে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। বন বিভাগের মাধ্যমে এসব বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে রোপণ করা হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, হস্তান্তর করা নিমের বীজ নার্সারিতে চারা উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে। পরবর্তীতে সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় রোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন কর্মসূচিতে কাজে লাগানো হবে।
উল্লেখ্য, মাহমুদুন নবী বেলাল ২০১৭ সাল থেকে নিজ উদ্যোগে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার এলাকায় তালবীজ রোপণ করে আসছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ রোপণের মাধ্যমে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন