ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বৃষ্টিতে ভেজা গুরুদয়াল মাঠ, বিশ্বজয়ের ক্ষণে নীল-সাদার অশ্রু আর লাল-হলুদের গর্জন।


সৈয়দ মইনুল হোসেন
সৈয়দ মইনুল হোসেন
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬

বৃষ্টিতে ভেজা গুরুদয়াল মাঠ, বিশ্বজয়ের ক্ষণে নীল-সাদার অশ্রু আর লাল-হলুদের গর্জন।
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর ফাইনালে অবিশ্বাস্য জয় স্পেনের।

বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ নাকি কোটি হৃদয়ের নিঃশব্দ রক্তক্ষরণ—কোনটির তীব্রতা বেশি ছিল? উত্তর মেলানো ভার। কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক গুরুদয়াল সরকারি কলেজের মাঠজুড়ে তখন ছড়ানো হাজারো দর্শক। মাথার ওপর শ্রাবণের অবিরাম ধারা, আর চোখের সামনে বিশাল পর্দায় ভেসে ওঠা এক নির্মম বাস্তবতার ছবি। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিট। ফেরান তোরেসের পা থেকে বলটা যখন জাল স্পর্শ করল, ঠিক তখনই যেন গুরুদয়াল মাঠের নব্বই শতাংশ মানুষের হৃদয় এক মুহূর্তে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে গেল।

​স্বপ্নের যে প্রাসাদ কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থক পরম মমতায় গড়ে তুলেছিলেন, মুহূর্তের ঝড়ে তা চুরমার হয়ে গেল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহা ফাইনালে বিশ্বজয়ের মুকুট পরল স্পেন। আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরল স্প্যানিশরা। এটি কেবল একটি ম্যাচের ফলাফল নয়; ফুটবল ইতিহাসের পাতায় খোদাই হয়ে যাওয়া এক অবিশ্বাস্য নাটকের রূপরেখা।

​ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকায় খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে স্পেন জয়সূচক গোলটি করায় ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল দাঁড়ায় ১-০। স্পেনের ৭ নম্বর জার্সিধারী ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস ১০৬ মিনিটে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেদ করে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন, যা স্পেনকে তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেয়। নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে (৯০+৩ মিনিটে) দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। এতে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত পুরো সময় ১০ জনের দল নিয়ে লড়তে হয়।

​পুরো ম্যাচজুড়ে পাসের পশরা সাজিয়ে স্প্যানিশরা বল নিয়ন্ত্রণে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখায়। ম্যাচের ৬৫% সময় বল ছিল স্পেনের নিয়ন্ত্রণে, যেখানে আর্জেন্টিনার ছিল মাত্র ৩৫%। স্পেন আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালিয়ে মোট ২০টি শট নেয়। অন্যদিকে স্প্যানিশদের সুসংগঠিত ডিফেন্সের কারণে আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে মাত্র ২টি শট নেওয়ার সুযোগ পায়। তবে স্পেনের ২০টি শটের মধ্যে ১১টি বিষাক্ত আক্রমণ একাই রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্তিনেজ। এটি ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ সেভের একটি নতুন বিশ্বরেকর্ড।

​ম্যাচ শুরুর অনেক আগেই বিশাল পর্দায় খেলা দেখতে গুরুদয়াল সরকারি কলেজের মাঠে জমেছিল হাজারো ফুটবলপ্রেমীর মেলা। আকাশ ভেঙে নামা মুষলধারার বৃষ্টিও তাদের উম্মাদনায় বিন্দুমাত্র ভাটা ফেলতে পারেনি। ছাতা মাথায়, কেউবা গায়ে পলিথিন জড়িয়ে আবার কেউ সম্পূর্ণ বৃষ্টিতে ভিজে প্রিয় দল আর্জেন্টিনার সমর্থনে স্লোগান দিয়ে যাচ্ছিলেন। বিশাল মাঠটির প্রায় নব্বই ভাগ দর্শকই ছিলেন নীল-সাদা জার্সি পরা আলবিসেলেস্তে সমর্থক। তবে গুটিকয়েক স্প্যানিশ সমর্থকের লাল-হলুদ উপস্থিতিও ম্যাচের আবহকে করে তুলেছিল আরও প্রাণবন্ত। ​সময় যত গড়িয়েছে, গুরুদয়াল মাঠের উত্তেজনা তত তুঙ্গে উঠেছে। কিন্তু ম্যাচ শেষে যখন স্পেনের বিজয়ের বাঁশি বাজল, তখন সেই উত্তাল উন্মাদনা নিমেষেই রূপ নিল এক বিষাদময় স্তব্ধতায়। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে সমর্থকদের নীরবে চোখের জল ফেলা, স্তব্ধ হয়ে বসে থাকা—এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটায় পুরো মাঠে।গুরুদয়াল কলেজের মাঠে খেলা দেখতে আসা এক আর্জেনটাইন সমর্থক মুরছালিন অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, ​"আমরা জয়ের জন্যই বৃষ্টিতে ভিজে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলাম। এমিলিয়ানো আমাদের বারবার বাঁচিয়েছেন, কিন্তু লাল কার্ড আর ১০ জনের দল নিয়ে শেষ রক্ষা হলো না। এ হার মেনে নেওয়া কঠিন, বুকটা ফেটে যাচ্ছে।"

​পুরো ফাইনাল ম্যাচজুড়ে ছিল তিকি-তাকার আধুনিক রূপ নিয়ে আসা স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য। ৬৫ শতাংশ বল নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণে আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে রীতিমতো তছনছ করে দেয় স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা। স্পেনের সুসংগঠিত আক্রমণের সামনে আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে শট নিতে পেরেছিল মাত্র ২টি। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আসে নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে। ৯০+৩ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন আর্জেন্টিনার নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনার ওপর চাপের পাহাড় চেপে বসে। অতিরিক্ত সময়ে এই একজন কম খেলোয়াড়ের অভাবই কাল হয়ে দাঁড়ায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য।

​আর্জেন্টিনা হারলেও লড়াইয়ের ময়দানে রূপকথার নায়ক হয়ে রইলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্তিনেজ। স্পেনের ২০টি বিষাক্ত শটের মধ্যে ১১টি শটই তিনি অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন। ​বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে ১১টি সেভ করার এই নজির আগে কখনও দেখেনি ফুটবল বিশ্ব। যদি মার্তিনেজ পোস্টের নিচে চিনের প্রাচীর হয়ে না দাঁড়াতেন, তবে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। নিঃসঙ্গ শেরপার মতো পুরো ম্যাচ আগলে রাখলেও, ১০৬ মিনিটে ৭ নম্বর জার্সিধারী ফেরান তোরেসের শট আটকানোর সাধ্য তাঁরও ছিল না।

​ফেরান তোরেসের সেই ঐতিহাসিক ১০৬ মিনিটের গোলটি স্পেনের জন্য নিয়ে আসে পরম কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি আর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি। ২০১০ সালের পর আবার ফুটবলের সর্বোচ্চ সিংহাসন দখল করল তারা। ​অন্যদিকে, শতভাগ আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফাইনালে আসা কোটি কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের জন্য এই পরাজয় এক চিরন্তন স্মৃতির ক্ষত হয়ে রইল। 

গুরুদয়াল মাঠ থেকে শুরু করে সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী জনতা সাক্ষী হলো এমন এক ঐতিহাসিক রাতের, যেখানে এক দলের অশ্রুজলে মিশে রইল অন্য দলের বিজয়ের উল্লাস। স্পেনের এই রঙিন জয় এবং আর্জেন্টিনার নিঃশব্দ আত্মসমর্পণ নিশ্চিতভাবেই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বহুকাল।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বৃষ্টিতে ভেজা গুরুদয়াল মাঠ, বিশ্বজয়ের ক্ষণে নীল-সাদার অশ্রু আর লাল-হলুদের গর্জন।

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ নাকি কোটি হৃদয়ের নিঃশব্দ রক্তক্ষরণ—কোনটির তীব্রতা বেশি ছিল? উত্তর মেলানো ভার। কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক গুরুদয়াল সরকারি কলেজের মাঠজুড়ে তখন ছড়ানো হাজারো দর্শক। মাথার ওপর শ্রাবণের অবিরাম ধারা, আর চোখের সামনে বিশাল পর্দায় ভেসে ওঠা এক নির্মম বাস্তবতার ছবি। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিট। ফেরান তোরেসের পা থেকে বলটা যখন জাল স্পর্শ করল, ঠিক তখনই যেন গুরুদয়াল মাঠের নব্বই শতাংশ মানুষের হৃদয় এক মুহূর্তে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে গেল।


​স্বপ্নের যে প্রাসাদ কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থক পরম মমতায় গড়ে তুলেছিলেন, মুহূর্তের ঝড়ে তা চুরমার হয়ে গেল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহা ফাইনালে বিশ্বজয়ের মুকুট পরল স্পেন। আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরল স্প্যানিশরা। এটি কেবল একটি ম্যাচের ফলাফল নয়; ফুটবল ইতিহাসের পাতায় খোদাই হয়ে যাওয়া এক অবিশ্বাস্য নাটকের রূপরেখা।


​ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকায় খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে স্পেন জয়সূচক গোলটি করায় ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল দাঁড়ায় ১-০। স্পেনের ৭ নম্বর জার্সিধারী ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস ১০৬ মিনিটে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেদ করে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন, যা স্পেনকে তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেয়। নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে (৯০+৩ মিনিটে) দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। এতে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত পুরো সময় ১০ জনের দল নিয়ে লড়তে হয়।


​পুরো ম্যাচজুড়ে পাসের পশরা সাজিয়ে স্প্যানিশরা বল নিয়ন্ত্রণে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখায়। ম্যাচের ৬৫% সময় বল ছিল স্পেনের নিয়ন্ত্রণে, যেখানে আর্জেন্টিনার ছিল মাত্র ৩৫%। স্পেন আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালিয়ে মোট ২০টি শট নেয়। অন্যদিকে স্প্যানিশদের সুসংগঠিত ডিফেন্সের কারণে আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে মাত্র ২টি শট নেওয়ার সুযোগ পায়। তবে স্পেনের ২০টি শটের মধ্যে ১১টি বিষাক্ত আক্রমণ একাই রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্তিনেজ। এটি ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ সেভের একটি নতুন বিশ্বরেকর্ড।


​ম্যাচ শুরুর অনেক আগেই বিশাল পর্দায় খেলা দেখতে গুরুদয়াল সরকারি কলেজের মাঠে জমেছিল হাজারো ফুটবলপ্রেমীর মেলা। আকাশ ভেঙে নামা মুষলধারার বৃষ্টিও তাদের উম্মাদনায় বিন্দুমাত্র ভাটা ফেলতে পারেনি। ছাতা মাথায়, কেউবা গায়ে পলিথিন জড়িয়ে আবার কেউ সম্পূর্ণ বৃষ্টিতে ভিজে প্রিয় দল আর্জেন্টিনার সমর্থনে স্লোগান দিয়ে যাচ্ছিলেন। বিশাল মাঠটির প্রায় নব্বই ভাগ দর্শকই ছিলেন নীল-সাদা জার্সি পরা আলবিসেলেস্তে সমর্থক। তবে গুটিকয়েক স্প্যানিশ সমর্থকের লাল-হলুদ উপস্থিতিও ম্যাচের আবহকে করে তুলেছিল আরও প্রাণবন্ত। ​সময় যত গড়িয়েছে, গুরুদয়াল মাঠের উত্তেজনা তত তুঙ্গে উঠেছে। কিন্তু ম্যাচ শেষে যখন স্পেনের বিজয়ের বাঁশি বাজল, তখন সেই উত্তাল উন্মাদনা নিমেষেই রূপ নিল এক বিষাদময় স্তব্ধতায়। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে সমর্থকদের নীরবে চোখের জল ফেলা, স্তব্ধ হয়ে বসে থাকা—এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটায় পুরো মাঠে।গুরুদয়াল কলেজের মাঠে খেলা দেখতে আসা এক আর্জেনটাইন সমর্থক মুরছালিন অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, ​"আমরা জয়ের জন্যই বৃষ্টিতে ভিজে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলাম। এমিলিয়ানো আমাদের বারবার বাঁচিয়েছেন, কিন্তু লাল কার্ড আর ১০ জনের দল নিয়ে শেষ রক্ষা হলো না। এ হার মেনে নেওয়া কঠিন, বুকটা ফেটে যাচ্ছে।"


​পুরো ফাইনাল ম্যাচজুড়ে ছিল তিকি-তাকার আধুনিক রূপ নিয়ে আসা স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য। ৬৫ শতাংশ বল নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণে আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে রীতিমতো তছনছ করে দেয় স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা। স্পেনের সুসংগঠিত আক্রমণের সামনে আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে শট নিতে পেরেছিল মাত্র ২টি। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আসে নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে। ৯০+৩ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন আর্জেন্টিনার নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনার ওপর চাপের পাহাড় চেপে বসে। অতিরিক্ত সময়ে এই একজন কম খেলোয়াড়ের অভাবই কাল হয়ে দাঁড়ায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য।

​আর্জেন্টিনা হারলেও লড়াইয়ের ময়দানে রূপকথার নায়ক হয়ে রইলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্তিনেজ। স্পেনের ২০টি বিষাক্ত শটের মধ্যে ১১টি শটই তিনি অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন। ​বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে ১১টি সেভ করার এই নজির আগে কখনও দেখেনি ফুটবল বিশ্ব। যদি মার্তিনেজ পোস্টের নিচে চিনের প্রাচীর হয়ে না দাঁড়াতেন, তবে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। নিঃসঙ্গ শেরপার মতো পুরো ম্যাচ আগলে রাখলেও, ১০৬ মিনিটে ৭ নম্বর জার্সিধারী ফেরান তোরেসের শট আটকানোর সাধ্য তাঁরও ছিল না।

​ফেরান তোরেসের সেই ঐতিহাসিক ১০৬ মিনিটের গোলটি স্পেনের জন্য নিয়ে আসে পরম কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি আর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি। ২০১০ সালের পর আবার ফুটবলের সর্বোচ্চ সিংহাসন দখল করল তারা। ​অন্যদিকে, শতভাগ আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফাইনালে আসা কোটি কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের জন্য এই পরাজয় এক চিরন্তন স্মৃতির ক্ষত হয়ে রইল। 


গুরুদয়াল মাঠ থেকে শুরু করে সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী জনতা সাক্ষী হলো এমন এক ঐতিহাসিক রাতের, যেখানে এক দলের অশ্রুজলে মিশে রইল অন্য দলের বিজয়ের উল্লাস। স্পেনের এই রঙিন জয় এবং আর্জেন্টিনার নিঃশব্দ আত্মসমর্পণ নিশ্চিতভাবেই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বহুকাল।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ