যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে এমন একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হয়েছে, যেখানে সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের অক্টোবরেই চুক্তির মূল আলোচনা শেষ হয়েছিল। কিন্তু ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ট্রাম্প এখনো এতে সই করেননি। পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আপত্তির আশঙ্কাও এ সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হলেও একই প্রযুক্তি উচ্চমাত্রায় ব্যবহার করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিও সম্ভব। এ কারণেই অধিকাংশ দেশ নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে থাকে।
চুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর তদারকির বিধান রাখা হয়নি। ফলে সংস্থাটি প্রয়োজন মনে করলেই সৌদি আরবের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পাবে না। পুরো ব্যবস্থাপনা যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে। তার সেই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিমালা মেনে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ত্যাগ করেছিল। সেই চুক্তিকে এখনো পারমাণবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে 'গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড' হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সমালোচকদের মতে, সৌদি আরবকে এই প্রযুক্তি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে দেশটি চাইলে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে কর্মসূচি পরিচালনা করে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। অন্যদিকে চুক্তির সমর্থকদের দাবি, এতে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু শিল্প বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে এবং ওয়াশিংটনের প্রভাবও মধ্যপ্রাচ্যে আরও শক্তিশালী হবে।
তাদের আরও যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি না করলে সৌদি আরব রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে একই ধরনের প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারে। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রচলিত মানদণ্ড শিথিল করে এ ধরনের চুক্তি হলে ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
সূত্র: সিএনএন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে এমন একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হয়েছে, যেখানে সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের অক্টোবরেই চুক্তির মূল আলোচনা শেষ হয়েছিল। কিন্তু ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ট্রাম্প এখনো এতে সই করেননি। পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আপত্তির আশঙ্কাও এ সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হলেও একই প্রযুক্তি উচ্চমাত্রায় ব্যবহার করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিও সম্ভব। এ কারণেই অধিকাংশ দেশ নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে থাকে।
চুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর তদারকির বিধান রাখা হয়নি। ফলে সংস্থাটি প্রয়োজন মনে করলেই সৌদি আরবের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পাবে না। পুরো ব্যবস্থাপনা যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে। তার সেই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিমালা মেনে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ত্যাগ করেছিল। সেই চুক্তিকে এখনো পারমাণবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে 'গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড' হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সমালোচকদের মতে, সৌদি আরবকে এই প্রযুক্তি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে দেশটি চাইলে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে কর্মসূচি পরিচালনা করে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। অন্যদিকে চুক্তির সমর্থকদের দাবি, এতে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু শিল্প বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে এবং ওয়াশিংটনের প্রভাবও মধ্যপ্রাচ্যে আরও শক্তিশালী হবে।
তাদের আরও যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি না করলে সৌদি আরব রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে একই ধরনের প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারে। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রচলিত মানদণ্ড শিথিল করে এ ধরনের চুক্তি হলে ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
সূত্র: সিএনএন।

আপনার মতামত লিখুন