উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে দিন দিন কমে যাচ্ছে আমদানি বাণিজ্য। কয়েক মাস আগেও যেখানে প্রতিদিন ভারত থেকে ১০০ থেকে ১৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করত, বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টিতে।
আমদানি কার্যক্রমে এই বড় ধরনের স্থবিরতার প্রভাব পড়েছে বন্দরের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। কমেছে বন্দরের দৈনন্দিন আয়, কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েকশ শ্রমিক। একই সঙ্গে বড় ধাক্কা খেয়েছে সরকারের রাজস্ব আদায়ও। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে।
একসময় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত ব্যবসায়ী পণ্য কিনতে হিলি বন্দরে আসতেন। ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকে ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড থাকত সরগরম। এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বন্দরের ইয়ার্ডে নেই আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য, অধিকাংশ জায়গাই পড়ে আছে ফাঁকা। কাজের অভাবে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শ্রমিকদের।
হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস আগেও প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ট্রাকে পণ্য আমদানি হতো। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ২৫টিতে। আমদানি কমে যাওয়ায় অনেক সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। এমনকি অফিস পরিচালনার ব্যয় মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আমদানিকারক মতিউর রহমান লাবু বলেন, ডলারের উচ্চমূল্য এবং ভারতীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি করে প্রত্যাশিত লাভ পাওয়া যাচ্ছে না। লোকসানের আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী এলসি খুলছেন না। পাশাপাশি পণ্য খালাসের সময় কাস্টমসের বিভিন্ন জটিলতা ও হয়রানিও আমদানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন হিলি কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার সন্তোষ সরেণ। তিনি বলেন, এলসি খোলার পরিমাণ কমে যাওয়া এবং উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি হ্রাস পাওয়ায় বন্দরে এই মন্দাভাব সৃষ্টি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ে।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৯৮ কোটি টাকা। ফলে অর্থবছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরেও রাজস্ব ঘাটতি ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা, যা চলতি বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে।
এস.আর/উবি

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে দিন দিন কমে যাচ্ছে আমদানি বাণিজ্য। কয়েক মাস আগেও যেখানে প্রতিদিন ভারত থেকে ১০০ থেকে ১৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করত, বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টিতে।
আমদানি কার্যক্রমে এই বড় ধরনের স্থবিরতার প্রভাব পড়েছে বন্দরের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। কমেছে বন্দরের দৈনন্দিন আয়, কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েকশ শ্রমিক। একই সঙ্গে বড় ধাক্কা খেয়েছে সরকারের রাজস্ব আদায়ও। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে।
একসময় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত ব্যবসায়ী পণ্য কিনতে হিলি বন্দরে আসতেন। ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকে ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড থাকত সরগরম। এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বন্দরের ইয়ার্ডে নেই আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য, অধিকাংশ জায়গাই পড়ে আছে ফাঁকা। কাজের অভাবে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শ্রমিকদের।
হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস আগেও প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ট্রাকে পণ্য আমদানি হতো। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ২৫টিতে। আমদানি কমে যাওয়ায় অনেক সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। এমনকি অফিস পরিচালনার ব্যয় মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আমদানিকারক মতিউর রহমান লাবু বলেন, ডলারের উচ্চমূল্য এবং ভারতীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি করে প্রত্যাশিত লাভ পাওয়া যাচ্ছে না। লোকসানের আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী এলসি খুলছেন না। পাশাপাশি পণ্য খালাসের সময় কাস্টমসের বিভিন্ন জটিলতা ও হয়রানিও আমদানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন হিলি কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার সন্তোষ সরেণ। তিনি বলেন, এলসি খোলার পরিমাণ কমে যাওয়া এবং উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি হ্রাস পাওয়ায় বন্দরে এই মন্দাভাব সৃষ্টি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ে।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৯৮ কোটি টাকা। ফলে অর্থবছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরেও রাজস্ব ঘাটতি ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা, যা চলতি বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে।
এস.আর/উবি

আপনার মতামত লিখুন