বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ থাকবে মাঠে। তবে এবারের মহারণে মাঠের বাইরেও সমান আলোচনায় থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। রাজনৈতিকভাবে দুই মেরুর এই দুই নেতাই ফাইনাল দেখতে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকছেন। যদিও তাদের মধ্যে আলাদা কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে নিশ্চিত করেছে মেয়রের কার্যালয়।
এর আগে গত মাসে এনবিএ ফাইনালেও একই স্টেডিয়ামে ছিলেন ট্রাম্প ও মামদানি। সেদিন ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বুলেটপ্রুফ ভিআইপি বক্সে বসে খেলা দেখেন ট্রাম্প। তার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা নেওয়া হয়। স্টেডিয়ামের বাইরে নির্ধারিত ওয়াচ পার্টি বাতিল করা হয় এবং দর্শকদেরও নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই প্রবেশ করতে হয়। ট্রাম্পকে দেখে নিউইয়র্ক নিক্সের সমর্থকদের একটি অংশ দুয়োও দেয়।
অন্যদিকে, মেয়র জোহরান মামদানি ছিলেন একেবারেই সাধারণ দর্শকদের মাঝে। গ্যালারির ওপরের সারিতে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেন তিনি। এক মাসের ব্যবধানে এবার আবারও একই ভেন্যুতে দেখা যাবে দুই নেতাকে। তবে এবার মঞ্চ আরও বড়, বিশ্বকাপের ফাইনাল। যেখানে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে আগেই আলোচনায় এসেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। গত মাসে তিনি নিশ্চিত করেন, ফাইনাল শেষে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইনফান্তিনো বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থেকেই তারা ফাইনাল উপভোগ করবেন এবং যৌথভাবে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন।
তবে টুর্নামেন্টের শুরুতেই ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতির সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে ইনফান্তিনোকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প। পরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে পারেন বালোগান। যদিও ম্যাচটি হেরে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের সমালোচনারও জন্ম দেয়।
এদিকে ফাইনালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতির কারণে ম্যাচটিকে ‘লেভেল ওয়ান স্পেশাল ইভেন্ট’ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। এর ফলে আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি, বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুরসহ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পকে চলতি বিশ্বকাপে এখনো গ্যালারিতে দেখা না গেলেও মেয়র মামদানি শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। নিজেকে আর্সেনালের কট্টর সমর্থক ও ফুটবলপ্রেমী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই রাজনীতিক মেয়র নির্বাচনের আগেও নিয়মিত ফুটবল খেলতেন।
বিশ্বকাপকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেও নানা উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। ‘দ্য মর্নিং পিচ’ নামে ফুটবলভিত্তিক একটি ভিডিও অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন। শহরের পার্কগুলোতে ওয়াচ পার্টির আয়োজন, স্বল্পমূল্যে বিশেষ জার্সি বিক্রি এবং সাধারণ দর্শকদের জন্য কম দামের টিকিট নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখেন তিনি। এমনকি অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্র, মেক্সিকান রেস্তোরাঁ ও কারাগারের বন্দিদের সঙ্গেও বসে খেলা দেখেছেন মামদানি।
ফাইনালে ট্রাম্প কিংবা মামদানি কাকে সমর্থন করছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সম্প্রতি স্পেন নিয়ে ট্রাম্পের কিছু সমালোচনার পর তিনি আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকবেন কি না, এমন প্রশ্ন উঠলেও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
তবে সম্প্রতি একটি ফিফা আয়োজনে ট্রাম্প লিওনেল মেসির প্রশংসা করেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি জানতে চান, "তোমরা কি আবার ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত?"
অন্যদিকে, মেয়র মামদানির প্রিয় দল মরক্কো আগেই বিদায় নিয়েছে। ফাইনালের আগে ভবিষ্যদ্বাণী জানতে চাইলে তিনি হাস্যরস করে বলেন, "আমি যাদের সমর্থন করেছি, তারাই হেরেছে। তাই এবার কোনো দলের নামই বলতে চাই না।" এর আগে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং নিয়েও তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, "এটা ছিল প্রকাশ্য ডাকাতি।"

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ থাকবে মাঠে। তবে এবারের মহারণে মাঠের বাইরেও সমান আলোচনায় থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। রাজনৈতিকভাবে দুই মেরুর এই দুই নেতাই ফাইনাল দেখতে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকছেন। যদিও তাদের মধ্যে আলাদা কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে নিশ্চিত করেছে মেয়রের কার্যালয়।
এর আগে গত মাসে এনবিএ ফাইনালেও একই স্টেডিয়ামে ছিলেন ট্রাম্প ও মামদানি। সেদিন ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বুলেটপ্রুফ ভিআইপি বক্সে বসে খেলা দেখেন ট্রাম্প। তার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা নেওয়া হয়। স্টেডিয়ামের বাইরে নির্ধারিত ওয়াচ পার্টি বাতিল করা হয় এবং দর্শকদেরও নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই প্রবেশ করতে হয়। ট্রাম্পকে দেখে নিউইয়র্ক নিক্সের সমর্থকদের একটি অংশ দুয়োও দেয়।
অন্যদিকে, মেয়র জোহরান মামদানি ছিলেন একেবারেই সাধারণ দর্শকদের মাঝে। গ্যালারির ওপরের সারিতে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেন তিনি। এক মাসের ব্যবধানে এবার আবারও একই ভেন্যুতে দেখা যাবে দুই নেতাকে। তবে এবার মঞ্চ আরও বড়, বিশ্বকাপের ফাইনাল। যেখানে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে আগেই আলোচনায় এসেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। গত মাসে তিনি নিশ্চিত করেন, ফাইনাল শেষে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইনফান্তিনো বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থেকেই তারা ফাইনাল উপভোগ করবেন এবং যৌথভাবে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন।
তবে টুর্নামেন্টের শুরুতেই ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতির সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে ইনফান্তিনোকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প। পরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে পারেন বালোগান। যদিও ম্যাচটি হেরে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের সমালোচনারও জন্ম দেয়।
এদিকে ফাইনালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতির কারণে ম্যাচটিকে ‘লেভেল ওয়ান স্পেশাল ইভেন্ট’ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। এর ফলে আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি, বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুরসহ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পকে চলতি বিশ্বকাপে এখনো গ্যালারিতে দেখা না গেলেও মেয়র মামদানি শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। নিজেকে আর্সেনালের কট্টর সমর্থক ও ফুটবলপ্রেমী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই রাজনীতিক মেয়র নির্বাচনের আগেও নিয়মিত ফুটবল খেলতেন।
বিশ্বকাপকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেও নানা উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। ‘দ্য মর্নিং পিচ’ নামে ফুটবলভিত্তিক একটি ভিডিও অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন। শহরের পার্কগুলোতে ওয়াচ পার্টির আয়োজন, স্বল্পমূল্যে বিশেষ জার্সি বিক্রি এবং সাধারণ দর্শকদের জন্য কম দামের টিকিট নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখেন তিনি। এমনকি অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্র, মেক্সিকান রেস্তোরাঁ ও কারাগারের বন্দিদের সঙ্গেও বসে খেলা দেখেছেন মামদানি।
ফাইনালে ট্রাম্প কিংবা মামদানি কাকে সমর্থন করছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সম্প্রতি স্পেন নিয়ে ট্রাম্পের কিছু সমালোচনার পর তিনি আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকবেন কি না, এমন প্রশ্ন উঠলেও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
তবে সম্প্রতি একটি ফিফা আয়োজনে ট্রাম্প লিওনেল মেসির প্রশংসা করেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি জানতে চান, "তোমরা কি আবার ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত?"
অন্যদিকে, মেয়র মামদানির প্রিয় দল মরক্কো আগেই বিদায় নিয়েছে। ফাইনালের আগে ভবিষ্যদ্বাণী জানতে চাইলে তিনি হাস্যরস করে বলেন, "আমি যাদের সমর্থন করেছি, তারাই হেরেছে। তাই এবার কোনো দলের নামই বলতে চাই না।" এর আগে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং নিয়েও তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, "এটা ছিল প্রকাশ্য ডাকাতি।"

আপনার মতামত লিখুন