ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পাকুন্দিয়া পৌরসভার রোলারসহ কোটি টাকার যান নষ্ট হচ্ছে অবহেলায়,অযত্নে


সৈয়দ মইনুল হোসেন
সৈয়দ মইনুল হোসেন
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬

পাকুন্দিয়া পৌরসভার রোলারসহ কোটি টাকার যান নষ্ট হচ্ছে অবহেলায়,অযত্নে
পাকুন্দিয়া পৌরসভার কোটি টাকার যান নষ্ট হচ্ছে অযত্নে, অবহেলায়।

জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা কোটি টাকার সরকারি সম্পদ যখন নিছক অবহেলা আর পাহারাদারের চোখের সামনে ধুলোবালি আর মরিচায় বিলীন হতে থাকে, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক—এ দায় আসলে কার? ঠিক এমন এক বেদনাবিধুর ও চরম দায়িত্বহীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভায়। যেখানে সুরক্ষিত ভাবা তালাবদ্ধ গ্যারেজেও বসেছে চোরের থাবা, আর ভেতরে বছরের পর বছর ধরে অযত্নে-অবহেলায় ধ্বংস হচ্ছে সরকারের কোটি টাকার যানবাহন।

​সরেজমিনে পাকুন্দিয়া পৌরসভার অস্থায়ী গ্যারেজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। রোলার, ময়লা ফেলার ডাম্প ট্রাক থেকে শুরু করে রাস্তা সংস্কার ও জনসেবার কাজে ব্যবহৃত একাধিক দামি যানবাহন সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোনোটির ইঞ্জিন বিকল, কোনোটির চাকা হাওয়া হয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে, আবার কোনোটির বডিতে ধরেছে তীব্র মরিচা। রোদ-বৃষ্টির হিংস্র কামড়ে একেকটি গাড়ি এখন কঙ্কালে পরিণত হওয়ার উপক্রম।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যে গ্যারেজটিকে ‘নিরাপদ ও তালাবদ্ধ’ বলে দাবি করা হতো, সেখানেই রাতের অন্ধকারে হানা দিচ্ছে সংঘবদ্ধ চোর চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকার কথা থাকলেও রহস্যজনকভাবে গ্যারেজ থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে গাড়ির দামি যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি ও ভেতরের মূল্যবান তামা ও লোহালক্কড়। রাতের অন্ধকারে চোরের দল তালা ভেঙে কিংবা পেছনের দিক দিয়ে অবলীলায় ভেতরে ঢুকে সরকারি মালপত্র হাতিয়ে নিচ্ছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দিনের পর দিন গাড়িগুলো এখানে পচে মরছে। দেখার কেউ নেই। আর রাতের বেলা চোরেরা এসে গাড়ির পার্টস খুলে নিয়ে যায়। রাতের পাহারাদারেরা কী করে, আর পৌর কর্তৃপক্ষই বা কেন চুপ, তা আমাদের মাথায় আসে না। এটা জনগণের টাকার চরম অপচয়।"

প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু তদারকির অভাবে কোটি টাকার এই সরকারি সম্পদগুলো এখন স্রেফ জঞ্জালে পরিণত হতে চলেছে। গাড়িগুলো সচল থাকলে যেখানে পৌরসভার নাগরিক সেবা আরও বেগবান হতো, সেখানে এগুলো এখন চোরের চারণভূমি আর মরিচার ডিপো।

​পৌরসভার সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, দ্রুত এই বিষয়ে তদন্ত করে নিরাপত্তা জোরদার করা না হলে এবং গাড়িগুলো মেরামত করে ব্যবহারের উপযোগী না করা হলে, অচিরেই কোটি টাকার সরকারি সম্পদ পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে যাবে। তালাবদ্ধ গ্যারেজের এই হরিলুট বন্ধে এবং সরকারি সম্পদের অপচয় রুখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


পাকুন্দিয়া পৌরসভার রোলারসহ কোটি টাকার যান নষ্ট হচ্ছে অবহেলায়,অযত্নে

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা কোটি টাকার সরকারি সম্পদ যখন নিছক অবহেলা আর পাহারাদারের চোখের সামনে ধুলোবালি আর মরিচায় বিলীন হতে থাকে, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক—এ দায় আসলে কার? ঠিক এমন এক বেদনাবিধুর ও চরম দায়িত্বহীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভায়। যেখানে সুরক্ষিত ভাবা তালাবদ্ধ গ্যারেজেও বসেছে চোরের থাবা, আর ভেতরে বছরের পর বছর ধরে অযত্নে-অবহেলায় ধ্বংস হচ্ছে সরকারের কোটি টাকার যানবাহন।

​সরেজমিনে পাকুন্দিয়া পৌরসভার অস্থায়ী গ্যারেজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। রোলার, ময়লা ফেলার ডাম্প ট্রাক থেকে শুরু করে রাস্তা সংস্কার ও জনসেবার কাজে ব্যবহৃত একাধিক দামি যানবাহন সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোনোটির ইঞ্জিন বিকল, কোনোটির চাকা হাওয়া হয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে, আবার কোনোটির বডিতে ধরেছে তীব্র মরিচা। রোদ-বৃষ্টির হিংস্র কামড়ে একেকটি গাড়ি এখন কঙ্কালে পরিণত হওয়ার উপক্রম।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যে গ্যারেজটিকে ‘নিরাপদ ও তালাবদ্ধ’ বলে দাবি করা হতো, সেখানেই রাতের অন্ধকারে হানা দিচ্ছে সংঘবদ্ধ চোর চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকার কথা থাকলেও রহস্যজনকভাবে গ্যারেজ থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে গাড়ির দামি যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি ও ভেতরের মূল্যবান তামা ও লোহালক্কড়। রাতের অন্ধকারে চোরের দল তালা ভেঙে কিংবা পেছনের দিক দিয়ে অবলীলায় ভেতরে ঢুকে সরকারি মালপত্র হাতিয়ে নিচ্ছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দিনের পর দিন গাড়িগুলো এখানে পচে মরছে। দেখার কেউ নেই। আর রাতের বেলা চোরেরা এসে গাড়ির পার্টস খুলে নিয়ে যায়। রাতের পাহারাদারেরা কী করে, আর পৌর কর্তৃপক্ষই বা কেন চুপ, তা আমাদের মাথায় আসে না। এটা জনগণের টাকার চরম অপচয়।"

প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু তদারকির অভাবে কোটি টাকার এই সরকারি সম্পদগুলো এখন স্রেফ জঞ্জালে পরিণত হতে চলেছে। গাড়িগুলো সচল থাকলে যেখানে পৌরসভার নাগরিক সেবা আরও বেগবান হতো, সেখানে এগুলো এখন চোরের চারণভূমি আর মরিচার ডিপো।

​পৌরসভার সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, দ্রুত এই বিষয়ে তদন্ত করে নিরাপত্তা জোরদার করা না হলে এবং গাড়িগুলো মেরামত করে ব্যবহারের উপযোগী না করা হলে, অচিরেই কোটি টাকার সরকারি সম্পদ পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে যাবে। তালাবদ্ধ গ্যারেজের এই হরিলুট বন্ধে এবং সরকারি সম্পদের অপচয় রুখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ