ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ফরিদপুরে খাল খননে স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত, সালথার ইউএনওর প্রশংসায় স্থানীয়রা



ফরিদপুরে খাল খননে স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত, সালথার ইউএনওর প্রশংসায় স্থানীয়রা
ছবি: সংগৃহীত

সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর করা, সেচব্যবস্থা উন্নত করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কর্মসূচি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। এখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপির নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে খাল খনন কার্যক্রমে অংশ নেন।

শুধু তাই নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও সাশ্রয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রকল্পের সব ব্যয় নির্বাহের পর অব্যয়িত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত জমা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের তিনটি খাল মোট ৪ দশমিক ৫৩৫ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম কাজ পরিদর্শন করে এর অগ্রগতি ও মানের প্রশংসা করেন। প্রায় তিন মাস ধরে চলা এ প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরিসহ সব ব্যয় পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

খাল খনন প্রকল্পের পিআইসি কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, ইউএনও দবির উদ্দিন নিয়মিত মাঠে গিয়ে কাজ তদারকি করেছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। শ্রমিকদের সব বিল নির্ধারিত নিয়মে পরিশোধ করা হয়েছে। তাদের দাবি, সালথার এই প্রকল্পের কাজ আশপাশের অনেক উপজেলার তুলনায় মানসম্মত হয়েছে।

তারা আরও বলেন, ইউএনও হিসেবে দবির উদ্দিন যোগদানের পর উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করলে সালথা একটি আদর্শ উপজেলায় পরিণত হবে বলে তাদের বিশ্বাস।

এ বিষয়ে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “উন্নয়ন কাজের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। আমি যে দায়িত্বে থাকি, প্রতিটি কাজ নিজের দায়িত্ব মনে করেই করার চেষ্টা করি। খাল পুনঃখনন প্রকল্পে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ছিল। তাই সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করেছি। কাজ শেষে যে অর্থ অব্যয়িত ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারই সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি।”

স্থানীয়দের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এমন দৃষ্টান্ত সরকারি অর্থ ব্যবহারে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং ভবিষ্যতের প্রকল্প বাস্তবায়নেও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ফরিদপুরে খাল খননে স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত, সালথার ইউএনওর প্রশংসায় স্থানীয়রা

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর করা, সেচব্যবস্থা উন্নত করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কর্মসূচি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। এখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপির নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে খাল খনন কার্যক্রমে অংশ নেন।

শুধু তাই নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও সাশ্রয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রকল্পের সব ব্যয় নির্বাহের পর অব্যয়িত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত জমা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের তিনটি খাল মোট ৪ দশমিক ৫৩৫ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম কাজ পরিদর্শন করে এর অগ্রগতি ও মানের প্রশংসা করেন। প্রায় তিন মাস ধরে চলা এ প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরিসহ সব ব্যয় পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

খাল খনন প্রকল্পের পিআইসি কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, ইউএনও দবির উদ্দিন নিয়মিত মাঠে গিয়ে কাজ তদারকি করেছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। শ্রমিকদের সব বিল নির্ধারিত নিয়মে পরিশোধ করা হয়েছে। তাদের দাবি, সালথার এই প্রকল্পের কাজ আশপাশের অনেক উপজেলার তুলনায় মানসম্মত হয়েছে।

তারা আরও বলেন, ইউএনও হিসেবে দবির উদ্দিন যোগদানের পর উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করলে সালথা একটি আদর্শ উপজেলায় পরিণত হবে বলে তাদের বিশ্বাস।

এ বিষয়ে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “উন্নয়ন কাজের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। আমি যে দায়িত্বে থাকি, প্রতিটি কাজ নিজের দায়িত্ব মনে করেই করার চেষ্টা করি। খাল পুনঃখনন প্রকল্পে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ছিল। তাই সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করেছি। কাজ শেষে যে অর্থ অব্যয়িত ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারই সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি।”

স্থানীয়দের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এমন দৃষ্টান্ত সরকারি অর্থ ব্যবহারে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং ভবিষ্যতের প্রকল্প বাস্তবায়নেও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ