ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ৬৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে চারুকলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান (মামুন সরকার)কে সদস্য সচিব করা হয়।
কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদের নাম প্রকাশের পরই বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ছাত্রলীগের কমিটির ৭ নম্বর সহ-সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং নতুন কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।
এদিকে একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মো. মহিন উদ্দিন অভিযোগ করেন, তোফায়েল আহমেদ তার বিরুদ্ধে মামলা করার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেছেন এবং মামলা না দেওয়ার শর্তে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তোফায়েল আহমেদ। তার দাবি, অভিযোগগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
নিজের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে তিনি বলেন, সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রভাব ছিল। ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলের বাস্তবতার কারণে কৌশলগতভাবে কিছু কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রেই ছাত্রত্ব রক্ষার স্বার্থে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়েছে, এমনকি কখনো জোরপূর্বকও কর্মসূচিতে নেওয়া হতো।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২২ সাল থেকেই তিনি প্রকাশ্যে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে ফেসবুক পোস্ট, ভিডিও বার্তাসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, কমিটি গঠনের আগে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তোফায়েল আহমেদ জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।
তবে ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সক্রিয় সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ৬৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে চারুকলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান (মামুন সরকার)কে সদস্য সচিব করা হয়।
কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদের নাম প্রকাশের পরই বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ছাত্রলীগের কমিটির ৭ নম্বর সহ-সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং নতুন কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।
এদিকে একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মো. মহিন উদ্দিন অভিযোগ করেন, তোফায়েল আহমেদ তার বিরুদ্ধে মামলা করার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেছেন এবং মামলা না দেওয়ার শর্তে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তোফায়েল আহমেদ। তার দাবি, অভিযোগগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
নিজের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে তিনি বলেন, সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রভাব ছিল। ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলের বাস্তবতার কারণে কৌশলগতভাবে কিছু কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রেই ছাত্রত্ব রক্ষার স্বার্থে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়েছে, এমনকি কখনো জোরপূর্বকও কর্মসূচিতে নেওয়া হতো।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২২ সাল থেকেই তিনি প্রকাশ্যে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে ফেসবুক পোস্ট, ভিডিও বার্তাসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, কমিটি গঠনের আগে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তোফায়েল আহমেদ জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।
তবে ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সক্রিয় সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন