ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নাম পরিবর্তন করেছেন। ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি এখন থেকে ‘ইয়োনাতান হোন’ নামে পরিচিত হবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ‘নেতানিয়াহু’ পদবিকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের নেতিবাচক প্রভাব এড়াতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হারেৎজ জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কর-সংক্রান্ত নথিতে তার নাম ‘ইয়াইর নেতানিয়াহু’ ছিল। তবে চলতি বছরের একই পরিচিতি নম্বরের নথিতে নতুন নাম ‘ইয়োনাতান হোন’ দেখা যায়। ওই নথিতে ঠিকানা হিসেবে ‘বেলফোর ০’ নামে একটি কাল্পনিক ঠিকানাও ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও এই পদবি ইয়াইরের জন্য একেবারে নতুন নয়। এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের নামের সঙ্গে ‘হোন’ পদবি ব্যবহার করেছিলেন। এটি তার মা সারা নেতানিয়াহুর বাবার পারিবারিক নাম, যা পরবর্তীতে পরিবর্তন করে ‘বেন আর্টজি’ রাখা হয়।
এমন সময়ে এই তথ্য সামনে এলো, যখন গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেও ‘নেতানিয়াহু’ নামটি রাজনৈতিকভাবে আগের তুলনায় বেশি বিতর্কের মুখে রয়েছে।
ইয়াইর নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং ধনকুবেরদের সঙ্গে তার পরিবারের সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। ২০১৮ সালে ইসরাইলি টেলিভিশনে প্রকাশিত একটি অডিও রেকর্ডে ইয়াইরকে একটি স্ট্রিপ ক্লাবের বাইরে বলতে শোনা যায়, তার বাবা এক তেল ব্যবসায়ীকে বিলিয়ন ডলারের গ্যাস চুক্তি পেতে সহায়তা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর ডানপন্থী বিভিন্ন ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সঙ্গেও যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেতানিয়াহু পরিবারে নাম পরিবর্তনের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে ইয়াইরের ভাই আভনের নেতানিয়াহুও নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘আভি সেগাল’ রাখেন। সংবাদমাধ্যমের দাবি, তিনি সংবাদমাধ্যমের নজর এবং আইনি যাচাই-বাছাই এড়াতে নতুন পরিচয়ে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে ৫ লাখ ২ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন।
সেগাল পদবিটিও পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। এটি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মা জিলার পারিবারিক নাম। অন্যদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময় ‘বেন নিতাই’ নাম ব্যবহার করেছিলেন।
ইসরাইলে নাম পরিবর্তনের এই প্রবণতার শিকড় আরও পুরোনো। ১৯২০-এর দশকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাবা বেনজিয়ন মিলেইকোভস্কি পোল্যান্ড থেকে তৎকালীন ফিলিস্তিনে এসে নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘বেনজিয়ন নেতানিয়াহু’ রাখেন। সে সময় ইউরোপীয় পরিচয়ের পরিবর্তে হিব্রু নাম গ্রহণ জায়নবাদী আন্দোলনের একটি প্রচলিত সংস্কৃতি ছিল। ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়ন, গোল্ডা মেয়ার, শিমন পেরেজ এবং অ্যারিয়েল শ্যারনসহ আরও অনেক শীর্ষ নেতা একইভাবে নিজেদের আদি নাম পরিবর্তন করেছিলেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নাম পরিবর্তন করেছেন। ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি এখন থেকে ‘ইয়োনাতান হোন’ নামে পরিচিত হবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ‘নেতানিয়াহু’ পদবিকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের নেতিবাচক প্রভাব এড়াতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হারেৎজ জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কর-সংক্রান্ত নথিতে তার নাম ‘ইয়াইর নেতানিয়াহু’ ছিল। তবে চলতি বছরের একই পরিচিতি নম্বরের নথিতে নতুন নাম ‘ইয়োনাতান হোন’ দেখা যায়। ওই নথিতে ঠিকানা হিসেবে ‘বেলফোর ০’ নামে একটি কাল্পনিক ঠিকানাও ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও এই পদবি ইয়াইরের জন্য একেবারে নতুন নয়। এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের নামের সঙ্গে ‘হোন’ পদবি ব্যবহার করেছিলেন। এটি তার মা সারা নেতানিয়াহুর বাবার পারিবারিক নাম, যা পরবর্তীতে পরিবর্তন করে ‘বেন আর্টজি’ রাখা হয়।
এমন সময়ে এই তথ্য সামনে এলো, যখন গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেও ‘নেতানিয়াহু’ নামটি রাজনৈতিকভাবে আগের তুলনায় বেশি বিতর্কের মুখে রয়েছে।
ইয়াইর নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং ধনকুবেরদের সঙ্গে তার পরিবারের সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। ২০১৮ সালে ইসরাইলি টেলিভিশনে প্রকাশিত একটি অডিও রেকর্ডে ইয়াইরকে একটি স্ট্রিপ ক্লাবের বাইরে বলতে শোনা যায়, তার বাবা এক তেল ব্যবসায়ীকে বিলিয়ন ডলারের গ্যাস চুক্তি পেতে সহায়তা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর ডানপন্থী বিভিন্ন ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সঙ্গেও যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেতানিয়াহু পরিবারে নাম পরিবর্তনের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে ইয়াইরের ভাই আভনের নেতানিয়াহুও নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘আভি সেগাল’ রাখেন। সংবাদমাধ্যমের দাবি, তিনি সংবাদমাধ্যমের নজর এবং আইনি যাচাই-বাছাই এড়াতে নতুন পরিচয়ে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে ৫ লাখ ২ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন।
সেগাল পদবিটিও পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। এটি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মা জিলার পারিবারিক নাম। অন্যদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময় ‘বেন নিতাই’ নাম ব্যবহার করেছিলেন।
ইসরাইলে নাম পরিবর্তনের এই প্রবণতার শিকড় আরও পুরোনো। ১৯২০-এর দশকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাবা বেনজিয়ন মিলেইকোভস্কি পোল্যান্ড থেকে তৎকালীন ফিলিস্তিনে এসে নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘বেনজিয়ন নেতানিয়াহু’ রাখেন। সে সময় ইউরোপীয় পরিচয়ের পরিবর্তে হিব্রু নাম গ্রহণ জায়নবাদী আন্দোলনের একটি প্রচলিত সংস্কৃতি ছিল। ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়ন, গোল্ডা মেয়ার, শিমন পেরেজ এবং অ্যারিয়েল শ্যারনসহ আরও অনেক শীর্ষ নেতা একইভাবে নিজেদের আদি নাম পরিবর্তন করেছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন