ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে রোয়াংছড়ি অর্ধশতাধিক পরিবার জলমগ্ন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় তীব্র মানবিক সংকট



টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে রোয়াংছড়ি অর্ধশতাধিক পরিবার জলমগ্ন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় তীব্র মানবিক সংকট
টানা কয়েকদিনের অবিরাম ও ভয়াবহ ভারী বর্ষণ এবং তৎসংলগ্ন পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়কর রূপ ধারণ করেছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক পরিবার সম্পূর্ণরূপ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গৃহহারা ও জলবন্দী এই বিপুলসংখ্যক মানুষ বর্তমানে চরম খাদ্য, পানীয় ও আশ্রয়ের সংকটে ভুগে সম্পূর্ণ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

রোয়াংছড়ি,প্রতিনিধিঃ চিংনুমং মারমা।

টানা কয়েকদিনের অবিরাম ও ভয়াবহ ভারী বর্ষণ এবং তৎসংলগ্ন পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়কর রূপ ধারণ করেছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক পরিবার সম্পূর্ণরূপ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গৃহহারা ও জলবন্দী এই বিপুলসংখ্যক মানুষ বর্তমানে চরম খাদ্য, পানীয় ও আশ্রয়ের সংকটে ভুগে সম্পূর্ণ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

​সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের প্রলয়ঙ্কারী প্রভাবে উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিখাতে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটায় উপদ্রুত এলাকায় সাধারণ যানচলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

​স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের সূত্রে জানা গেছে, ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে ১নং রোয়াংছড়ি ইউনিয়নের রোয়াংছড়ি নতুন পাড়া, জাদি পাড়া এবং তাইম্রং ছড়া পাড়া। এছাড়া ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ওয়াগয় পাড়া ও ৮নং ওয়ার্ডের বটতলি পাড়া এবং ২নং তারাছা ইউনিয়নের বেতছরাসহ ৪নং নোয়াপতং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও আবাসিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

​দুর্ভোগের মাত্রা আরও তীব্রতর করে তুলেছে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎহীনতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। বিগত সাত দিন ধরে সমগ্র রোয়াংছড়ি উপজেলা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। একই সাথে রবি, এয়ারটেল, গ্রামীণফোন ও টেলিটকসহ সকল প্রকার সেলুলার নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ায় বহির্বিশ্ব ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সাথে উপদ্রুত এলাকার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য প্রাপ্তি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​১নং রোয়াংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি সর্বসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

​এদিকে বন্যার পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপদ্রুত এলাকার আর্তনাদ বাড়ছে। দুর্গত মানুষের তাৎক্ষণিক বাঁচার তাগিদে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ সামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এই চরম মানবিক সংকটে বান্দরবান জেলা প্রশাসনসহ দেশের বিত্তবান ও বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিরন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিনীত ও জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তারিখ: ১১ জুলাই, ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে রোয়াংছড়ি অর্ধশতাধিক পরিবার জলমগ্ন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় তীব্র মানবিক সংকট

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

রোয়াংছড়ি,প্রতিনিধিঃ চিংনুমং মারমা।

টানা কয়েকদিনের অবিরাম ও ভয়াবহ ভারী বর্ষণ এবং তৎসংলগ্ন পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়কর রূপ ধারণ করেছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক পরিবার সম্পূর্ণরূপ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গৃহহারা ও জলবন্দী এই বিপুলসংখ্যক মানুষ বর্তমানে চরম খাদ্য, পানীয় ও আশ্রয়ের সংকটে ভুগে সম্পূর্ণ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

​সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের প্রলয়ঙ্কারী প্রভাবে উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিখাতে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটায় উপদ্রুত এলাকায় সাধারণ যানচলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

​স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের সূত্রে জানা গেছে, ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে ১নং রোয়াংছড়ি ইউনিয়নের রোয়াংছড়ি নতুন পাড়া, জাদি পাড়া এবং তাইম্রং ছড়া পাড়া। এছাড়া ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ওয়াগয় পাড়া ও ৮নং ওয়ার্ডের বটতলি পাড়া এবং ২নং তারাছা ইউনিয়নের বেতছরাসহ ৪নং নোয়াপতং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও আবাসিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

​দুর্ভোগের মাত্রা আরও তীব্রতর করে তুলেছে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎহীনতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। বিগত সাত দিন ধরে সমগ্র রোয়াংছড়ি উপজেলা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। একই সাথে রবি, এয়ারটেল, গ্রামীণফোন ও টেলিটকসহ সকল প্রকার সেলুলার নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ায় বহির্বিশ্ব ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সাথে উপদ্রুত এলাকার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য প্রাপ্তি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​১নং রোয়াংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি সর্বসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

​এদিকে বন্যার পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপদ্রুত এলাকার আর্তনাদ বাড়ছে। দুর্গত মানুষের তাৎক্ষণিক বাঁচার তাগিদে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ সামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এই চরম মানবিক সংকটে বান্দরবান জেলা প্রশাসনসহ দেশের বিত্তবান ও বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিরন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিনীত ও জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তারিখ: ১১ জুলাই, ২০২৬


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ