ফুটবল কেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর, রোমাঞ্চকর আর 'ক্রেজি' খেলা—তার নিখুঁত প্রমাণ মিলল গত রাতে। যখন ম্যাচের ঘড়িতে ৭৮ মিনিট, স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে ২-০; মিশরের জয় তখন কেবল সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। গ্যালারি জুড়ে আলবিসেলেস্তেরা ভক্তদের স্তব্ধতা। কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন লিখে রেখেছিলেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক মহাকাব্য। মাত্র ১২ মিনিটের অবিশ্বাস্য টর্নেডোতে মিশরকে ৩-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘কামব্যাক’ বা ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
মিশরের স্বপ্নিল শুরু ও আর্জেন্টিনার স্তব্ধতা
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিল মিশর। প্রথমার্ধেই সুসংগঠিত ডিফেন্স আর কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর ভর করে আর্জেন্টিনাকে কোণঠাসা করে ফেলে তারা। একের পর এক আক্রমণে নীল-সাদা শিবিরকে ব্যস্ত রেখে দুই গোল আদায় করে নেয় মিশরীয়রা। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল আর্জেন্টিনা। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের যে চিত্র ছিল, তাতে আর্জেন্টিনার বিদায় প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছিলেন ফুটবল বোদ্ধারা। মাত্র ১২ মিনিটে পাশার দান উল্টে দিল আর্জেন্টিনা
কিন্তু হার মানতে রাজি ছিল না আর্জেন্টিনা। ৭৮তম মিনিটে স্কোয়াডের আক্রমণের ধার বাড়তেই প্রথম গোলটি শোধ করে আর্জেন্টিনা। আর এই এক গোলেই যেন প্রাণ ফিরে পায় পুরো দল। এরপরের গল্পটা কেবলই জাদুকরী। মিশরের রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে পরের কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি গোল করে বসেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডরা।
৭৮ থেকে ৯০—এই ১২ মিনিটের ঝড়ে ২-০ স্কোরের ম্যাচ রূপ নেয় ৩-২ ব্যবধানে! রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।
অনবদ্য লড়াইয়ের পর মিশরের ট্র্যাজেডি।অন্যপক্ষে, পুরো ম্যাচ জুড়ে অসাধারণ ও বীরত্বপূর্ণ ফুটবল খেলেও ট্র্যাজিক হিরো হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিশরকে। আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বশক্তিকে পুরো ৮০ মিনিট পর্যন্ত বোতলবন্দী করে রাখা এবং ২ গোলের লিড নেওয়া কোনো সাধারণ বিষয় ছিল না। অনবদ্য লড়াই করেও শেষ মুহূর্তের এই পরাজয় নিশ্চিতভাবেই মিশরীয় ফুটবলারদের দীর্ঘকাল পুড়াবে।
এই অবিশ্বাস্য জয়ের পর ফুটবল দুনিয়ায় এখন একটাই আওয়াজ—"ফুটবল ইজ ট্রুলি ক্রেজি, ফুটবল ইজ দ্য গ্রেটেস্ট!" মিশরের স্বপ্নভঙ্গ করে রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
ফুটবল কেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর, রোমাঞ্চকর আর 'ক্রেজি' খেলা—তার নিখুঁত প্রমাণ মিলল গত রাতে। যখন ম্যাচের ঘড়িতে ৭৮ মিনিট, স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে ২-০; মিশরের জয় তখন কেবল সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। গ্যালারি জুড়ে আলবিসেলেস্তেরা ভক্তদের স্তব্ধতা। কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন লিখে রেখেছিলেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক মহাকাব্য। মাত্র ১২ মিনিটের অবিশ্বাস্য টর্নেডোতে মিশরকে ৩-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘কামব্যাক’ বা ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
মিশরের স্বপ্নিল শুরু ও আর্জেন্টিনার স্তব্ধতা
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিল মিশর। প্রথমার্ধেই সুসংগঠিত ডিফেন্স আর কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর ভর করে আর্জেন্টিনাকে কোণঠাসা করে ফেলে তারা। একের পর এক আক্রমণে নীল-সাদা শিবিরকে ব্যস্ত রেখে দুই গোল আদায় করে নেয় মিশরীয়রা। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল আর্জেন্টিনা। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের যে চিত্র ছিল, তাতে আর্জেন্টিনার বিদায় প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছিলেন ফুটবল বোদ্ধারা। মাত্র ১২ মিনিটে পাশার দান উল্টে দিল আর্জেন্টিনা
কিন্তু হার মানতে রাজি ছিল না আর্জেন্টিনা। ৭৮তম মিনিটে স্কোয়াডের আক্রমণের ধার বাড়তেই প্রথম গোলটি শোধ করে আর্জেন্টিনা। আর এই এক গোলেই যেন প্রাণ ফিরে পায় পুরো দল। এরপরের গল্পটা কেবলই জাদুকরী। মিশরের রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে পরের কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি গোল করে বসেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডরা।
৭৮ থেকে ৯০—এই ১২ মিনিটের ঝড়ে ২-০ স্কোরের ম্যাচ রূপ নেয় ৩-২ ব্যবধানে! রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।
অনবদ্য লড়াইয়ের পর মিশরের ট্র্যাজেডি।অন্যপক্ষে, পুরো ম্যাচ জুড়ে অসাধারণ ও বীরত্বপূর্ণ ফুটবল খেলেও ট্র্যাজিক হিরো হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিশরকে। আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বশক্তিকে পুরো ৮০ মিনিট পর্যন্ত বোতলবন্দী করে রাখা এবং ২ গোলের লিড নেওয়া কোনো সাধারণ বিষয় ছিল না। অনবদ্য লড়াই করেও শেষ মুহূর্তের এই পরাজয় নিশ্চিতভাবেই মিশরীয় ফুটবলারদের দীর্ঘকাল পুড়াবে।
এই অবিশ্বাস্য জয়ের পর ফুটবল দুনিয়ায় এখন একটাই আওয়াজ—"ফুটবল ইজ ট্রুলি ক্রেজি, ফুটবল ইজ দ্য গ্রেটেস্ট!" মিশরের স্বপ্নভঙ্গ করে রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

আপনার মতামত লিখুন