প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘দ্য পাথ টু বিকামিং অ্যা হেলথ এন্টারপ্রেনার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য তাদের প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ এবং উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাত, গবেষক, সামাজিক ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখবে এবং বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে। নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে উৎসাহিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার ধারণা ব্যাখ্যা করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, এটি শুধু ব্যবসা শুরু করা বা স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যিকীকরণের বিষয় নয়। বরং স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে সৃজনশীলতা, গবেষণা, প্রমাণভিত্তিক জ্ঞান এবং শৃঙ্খলার সমন্বয়ে মানুষের বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান বের করাই একজন স্বাস্থ্য উদ্যোক্তার মূল লক্ষ্য।
দেশে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশই মানুষকে নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হয়। ফলে অসুস্থতা অনেক পরিবারের জন্য দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সরকার এখন সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশ এখন অসংক্রামক রোগের বিস্তার, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং দ্রুত নগরায়নের মতো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব সমস্যা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা খাতের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন নতুন চিন্তাভাবনা, উদ্ভাবন এবং শক্তিশালী অংশীদারিত্ব।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘দ্য পাথ টু বিকামিং অ্যা হেলথ এন্টারপ্রেনার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য তাদের প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ এবং উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাত, গবেষক, সামাজিক ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখবে এবং বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে। নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে উৎসাহিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার ধারণা ব্যাখ্যা করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, এটি শুধু ব্যবসা শুরু করা বা স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যিকীকরণের বিষয় নয়। বরং স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে সৃজনশীলতা, গবেষণা, প্রমাণভিত্তিক জ্ঞান এবং শৃঙ্খলার সমন্বয়ে মানুষের বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান বের করাই একজন স্বাস্থ্য উদ্যোক্তার মূল লক্ষ্য।
দেশে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশই মানুষকে নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হয়। ফলে অসুস্থতা অনেক পরিবারের জন্য দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সরকার এখন সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশ এখন অসংক্রামক রোগের বিস্তার, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং দ্রুত নগরায়নের মতো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব সমস্যা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা খাতের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন নতুন চিন্তাভাবনা, উদ্ভাবন এবং শক্তিশালী অংশীদারিত্ব।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

আপনার মতামত লিখুন