ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দনিয়া কলেজের ছাত্রনেতা মিনহাজ হত্যা: 'রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতেই মাহফুজকে প্রধান আসামি করা হয়েছে'



দনিয়া কলেজের ছাত্রনেতা মিনহাজ হত্যা: 'রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতেই মাহফুজকে প্রধান আসামি করা হয়েছে'
মাহফুজ

রাজধানীর দনিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা মিনহাজ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মাহফুজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মাহফুজ এখন নিজেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। মিনহাজ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল খুনিদের খুঁজে বের করতে এবং মাহফুজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া মাহফুজ অভিযোগ করেন, তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন:

"জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই আমাকে বিভিন্ন সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমাকে সরাসরি হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি চাই, এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং প্রকৃত দোষীরা বিচারের মুখোমুখি হোক।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মাহফুজ বলেন, "মিনহাজ শুধু আমার বন্ধু ছিল না, ছিল আমার দীর্ঘদিনের রাজপথের সহযোদ্ধা। আমরা দুজন একসাথে ছাত্র রাজনীতি করেছি। অথচ মিনহাজ হত্যার কিছুদিন আগেই আমি বিদেশ থেকে ফিরি। কার ইশারায় দনিয়া কলেজের সামনে মিনহাজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো, তা আজও আমাদের কাছে অজানা।"

তিনি আরও বলেন, ১১ মাস জেলে থাকার সময় তার মনে একটাই প্রশ্ন ছিল—কারা মিনহাজকে মারল? আর কেনই বা তার মতো একজন ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধার নাম এই মামলায় জড়িয়ে তাকে ফাঁসানো হলো?

সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা, দনিয়া কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে গভীর কোনো সত্য চাপা পড়ে আছে।

শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে:

  • মাহফুজ একজন স্বচ্ছ ছাত্রনেতা, তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এই হত্যাকাণ্ডকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

  • তাকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

  • এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন যাতে প্রকৃত খুনিরা শনাক্ত হয়।

এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু মাহফুজকে হয়রানি করলেই মিনহাজ হত্যার বিচার হবে না। তারা চান প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে।

তাদের একটাই চাওয়া—“যেন মিনহাজের মতো আর কারো প্রাণ অকালে এইভাবে না ঝরে? প্রশাসনের কাছে আমাদের আহ্বান, আসল খুনিদের বের করুন, মাহফুজকে ষড়যন্ত্রমূলক এই মামলা থেকে মুক্তি দিন এবং এমন বিচার নিশ্চিত করুন যেন ভবিষ্যতে আর কাউকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।”

মাহফুজ এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


দনিয়া কলেজের ছাত্রনেতা মিনহাজ হত্যা: 'রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতেই মাহফুজকে প্রধান আসামি করা হয়েছে'

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজধানীর দনিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা মিনহাজ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মাহফুজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মাহফুজ এখন নিজেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। মিনহাজ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল খুনিদের খুঁজে বের করতে এবং মাহফুজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া মাহফুজ অভিযোগ করেন, তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন:

"জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই আমাকে বিভিন্ন সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমাকে সরাসরি হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি চাই, এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং প্রকৃত দোষীরা বিচারের মুখোমুখি হোক।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মাহফুজ বলেন, "মিনহাজ শুধু আমার বন্ধু ছিল না, ছিল আমার দীর্ঘদিনের রাজপথের সহযোদ্ধা। আমরা দুজন একসাথে ছাত্র রাজনীতি করেছি। অথচ মিনহাজ হত্যার কিছুদিন আগেই আমি বিদেশ থেকে ফিরি। কার ইশারায় দনিয়া কলেজের সামনে মিনহাজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো, তা আজও আমাদের কাছে অজানা।"

তিনি আরও বলেন, ১১ মাস জেলে থাকার সময় তার মনে একটাই প্রশ্ন ছিল—কারা মিনহাজকে মারল? আর কেনই বা তার মতো একজন ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধার নাম এই মামলায় জড়িয়ে তাকে ফাঁসানো হলো?

সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা, দনিয়া কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে গভীর কোনো সত্য চাপা পড়ে আছে।

শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে:

  • মাহফুজ একজন স্বচ্ছ ছাত্রনেতা, তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এই হত্যাকাণ্ডকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

  • তাকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

  • এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন যাতে প্রকৃত খুনিরা শনাক্ত হয়।

এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু মাহফুজকে হয়রানি করলেই মিনহাজ হত্যার বিচার হবে না। তারা চান প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে।

তাদের একটাই চাওয়া—“যেন মিনহাজের মতো আর কারো প্রাণ অকালে এইভাবে না ঝরে? প্রশাসনের কাছে আমাদের আহ্বান, আসল খুনিদের বের করুন, মাহফুজকে ষড়যন্ত্রমূলক এই মামলা থেকে মুক্তি দিন এবং এমন বিচার নিশ্চিত করুন যেন ভবিষ্যতে আর কাউকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।”

মাহফুজ এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ