জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ কর্মসূচি’ শুরু করেছে। বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর রায়েরবাজারে শহীদদের গণকবর জিয়ারতের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে দলের শীর্ষ নেতারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
গণকবর জিয়ারতের পর এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন এখনো পূর্ণতা পায়নি। তার ভাষায়, গণহত্যার বিচার এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য ছিল, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, এই রায়ে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত আন্দোলনকারী এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাননি। তার মতে, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত ঘটনায় ইনু প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তাই ঘোষিত সাজা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি এবং রাষ্ট্রপক্ষকে উচ্চ আদালতে আপিল করে আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ বিদেশে অবস্থানরত অন্যান্য অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা। তার মতে, পূর্ণ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, কাঠামোগত সংস্কার এবং গণভোটের প্রতিশ্রুতি কার্যকর করা এখনো তাদের প্রধান দাবি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় যে সংস্কার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তব অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জুলাই জাতীয় জাদুঘর চালু না হলে জনগণ নিজেরাই তা খুলে নেবে।
এ সময় তিনি আন্দোলনে নিহত প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদসহ আহত, ছাত্র-শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী, আলেম এবং প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ কর্মসূচি’ শুরু করেছে। বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর রায়েরবাজারে শহীদদের গণকবর জিয়ারতের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে দলের শীর্ষ নেতারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
গণকবর জিয়ারতের পর এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন এখনো পূর্ণতা পায়নি। তার ভাষায়, গণহত্যার বিচার এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য ছিল, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, এই রায়ে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত আন্দোলনকারী এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাননি। তার মতে, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত ঘটনায় ইনু প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তাই ঘোষিত সাজা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি এবং রাষ্ট্রপক্ষকে উচ্চ আদালতে আপিল করে আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ বিদেশে অবস্থানরত অন্যান্য অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা। তার মতে, পূর্ণ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, কাঠামোগত সংস্কার এবং গণভোটের প্রতিশ্রুতি কার্যকর করা এখনো তাদের প্রধান দাবি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় যে সংস্কার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তব অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জুলাই জাতীয় জাদুঘর চালু না হলে জনগণ নিজেরাই তা খুলে নেবে।
এ সময় তিনি আন্দোলনে নিহত প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদসহ আহত, ছাত্র-শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী, আলেম এবং প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

আপনার মতামত লিখুন