ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রামেকে ৩ দিনের পরীক্ষা এখন হবে দুই ঘণ্টায়


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬

রামেকে ৩ দিনের পরীক্ষা এখন হবে দুই ঘণ্টায়
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর ও মরণাপন্ন রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত হলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। নতুন একটি যন্ত্রের মাধ্যমে এখন ‘ব্লাড কালচার অ্যান্ড সেনসিভিটি’ পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে মাত্র দুই ঘণ্টায়। ফলে রোগীর শরীরে কোন জীবাণুর সংক্রমণ হয়েছে এবং কোন অ্যান্টিবায়োটিক সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা দ্রুত নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

এতদিন এই পরীক্ষার ফল পেতে চিকিৎসকদের অপেক্ষা করতে হতো প্রায় ৭২ ঘণ্টা। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটত। নতুন প্রযুক্তি সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে।

রোববার (২৮ জুন) রামেক হাসপাতালের আইসিইউ মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে আনুষ্ঠানিকভাবে সংযোজন করা হয়েছে ‘বায়োফায়ার ফিল্মঅ্যারে’ নামের অত্যাধুনিক এই যন্ত্র।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এটি মাল্টিপ্লেক্স পিসিআর প্রযুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ। একটি মাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও পরজীবীসহ ১০০টিরও বেশি রোগজীবাণু দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম এই যন্ত্র। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সরকারি বা বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই এর আগে এ প্রযুক্তি চালু ছিল না।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মুস্তফা কামাল জানান, প্রায় চার বছর ধরে সরকারি প্রক্রিয়ায় যন্ত্রটি সংগ্রহের চেষ্টা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে এর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হাসপাতালের আইসিইউতে এটি সরবরাহ করেছে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, নতুন প্রযুক্তির এই যন্ত্রটির বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। প্রতিটি পরীক্ষায় রোগীর ব্যয় হতে পারে ১৬ হাজার থেকে ২১ হাজার ৫০০ টাকা।

যন্ত্রটির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক দেবকিশোর গুপ্ত। তিনি বলেন, গুরুতর সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত রোগজীবাণু শনাক্তের মাধ্যমে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চিকিৎসাসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগজীবাণু শনাক্ত করা গেলে সময়মতো কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। এতে অপ্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবহার কমবে, চিকিৎসার সফলতা বাড়বে এবং অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সহজ হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


রামেকে ৩ দিনের পরীক্ষা এখন হবে দুই ঘণ্টায়

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর ও মরণাপন্ন রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত হলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। নতুন একটি যন্ত্রের মাধ্যমে এখন ‘ব্লাড কালচার অ্যান্ড সেনসিভিটি’ পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে মাত্র দুই ঘণ্টায়। ফলে রোগীর শরীরে কোন জীবাণুর সংক্রমণ হয়েছে এবং কোন অ্যান্টিবায়োটিক সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা দ্রুত নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

এতদিন এই পরীক্ষার ফল পেতে চিকিৎসকদের অপেক্ষা করতে হতো প্রায় ৭২ ঘণ্টা। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটত। নতুন প্রযুক্তি সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে।

রোববার (২৮ জুন) রামেক হাসপাতালের আইসিইউ মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে আনুষ্ঠানিকভাবে সংযোজন করা হয়েছে ‘বায়োফায়ার ফিল্মঅ্যারে’ নামের অত্যাধুনিক এই যন্ত্র।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এটি মাল্টিপ্লেক্স পিসিআর প্রযুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ। একটি মাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও পরজীবীসহ ১০০টিরও বেশি রোগজীবাণু দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম এই যন্ত্র। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সরকারি বা বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই এর আগে এ প্রযুক্তি চালু ছিল না।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মুস্তফা কামাল জানান, প্রায় চার বছর ধরে সরকারি প্রক্রিয়ায় যন্ত্রটি সংগ্রহের চেষ্টা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে এর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হাসপাতালের আইসিইউতে এটি সরবরাহ করেছে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, নতুন প্রযুক্তির এই যন্ত্রটির বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। প্রতিটি পরীক্ষায় রোগীর ব্যয় হতে পারে ১৬ হাজার থেকে ২১ হাজার ৫০০ টাকা।

যন্ত্রটির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক দেবকিশোর গুপ্ত। তিনি বলেন, গুরুতর সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত রোগজীবাণু শনাক্তের মাধ্যমে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চিকিৎসাসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগজীবাণু শনাক্ত করা গেলে সময়মতো কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। এতে অপ্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবহার কমবে, চিকিৎসার সফলতা বাড়বে এবং অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সহজ হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ