ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হরমুজে আবার যুদ্ধের আগুন


প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬

হরমুজে আবার যুদ্ধের আগুন

দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির পর এবার সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার মুখে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে শনিবার (২৭ জুন) একটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ট্যাংকারটির ব্রিজ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। ঘটনার পর আন্তর্জাতিক নৌ-জোট পরিচালিত যৌথ সামুদ্রিক তথ্য কেন্দ্র হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।

দুই সপ্তাহ আগে চার মাসের সংঘাতের অবসান ঘটাতে যে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি হয়েছিল, তার পর এটিকেই সবচেয়ে গুরুতর সামরিক উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে একে অপরকে দোষারোপ করছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা রাতভর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে।

যদিও নির্দিষ্ট ট্যাংকারে হামলার বিষয়ে ইরান সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি, দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) অনুমোদিত যোগাযোগ চ্যানেল ব্যবহার না করা কয়েকটি অজ্ঞাত জাহাজের উদ্দেশ্যে 'সতর্কতামূলক গুলি' ছুড়েছে। ফলে হরমুজ অতিক্রমের আগে অনেক জাহাজ এখন ইরানের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের সামরিক পদক্ষেপ ছিল মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। অন্যদিকে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর জানিয়েছে, তাদের স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলা হয়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ওয়াশিংটন কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। যদিও শুক্রবার (২৬ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে নতুন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তবে মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব এখনো সীমিত।

শনিবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকায় নতুন করে ইসরাইলি ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মহসেন রেজাই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করে সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করেছে।

ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির দাবি, বন্দরনগরী সিরিকের একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাব দিয়েছে আইআরজিসি। তবে বন্দরের মূল অবকাঠামো অক্ষত রয়েছে।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ যুদ্ধ শুরুর পর কয়েক মাস ধরে কার্যত অচল ছিল। শান্তি চুক্তির পর গত দুই সপ্তাহে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে নেমে আসে। তবে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে সেই পরিস্থিতি আবারও বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণ রুট ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিপরীতে ইরান চায়, জাহাজগুলো তাদের নিয়ন্ত্রিত উত্তর রুট ব্যবহার করুক এবং ভবিষ্যতে এ জন্য ফি আদায়ের পরিকল্পনাও করছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের শিপিং নির্দেশনা অমান্য করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ পরিস্থিতিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলছে। নতুন কোনো সংঘাতের দায় ইরানকেই নিতে হবে এবং যেকোনো সহিংসতার জবাব দেওয়া হবে কঠোরভাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার বন্ধ থাকার সময় এমন উত্তেজনা অতীতেও দেখা গেছে। তবে রোববারের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সোমবার বিশ্ববাজার খুলতেই তেলের দামে নতুন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


হরমুজে আবার যুদ্ধের আগুন

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image

দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির পর এবার সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার মুখে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে শনিবার (২৭ জুন) একটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ট্যাংকারটির ব্রিজ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। ঘটনার পর আন্তর্জাতিক নৌ-জোট পরিচালিত যৌথ সামুদ্রিক তথ্য কেন্দ্র হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।

দুই সপ্তাহ আগে চার মাসের সংঘাতের অবসান ঘটাতে যে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি হয়েছিল, তার পর এটিকেই সবচেয়ে গুরুতর সামরিক উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে একে অপরকে দোষারোপ করছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা রাতভর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে।

যদিও নির্দিষ্ট ট্যাংকারে হামলার বিষয়ে ইরান সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি, দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) অনুমোদিত যোগাযোগ চ্যানেল ব্যবহার না করা কয়েকটি অজ্ঞাত জাহাজের উদ্দেশ্যে 'সতর্কতামূলক গুলি' ছুড়েছে। ফলে হরমুজ অতিক্রমের আগে অনেক জাহাজ এখন ইরানের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের সামরিক পদক্ষেপ ছিল মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। অন্যদিকে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর জানিয়েছে, তাদের স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলা হয়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ওয়াশিংটন কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। যদিও শুক্রবার (২৬ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে নতুন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তবে মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব এখনো সীমিত।

শনিবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকায় নতুন করে ইসরাইলি ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মহসেন রেজাই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করে সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করেছে।

ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির দাবি, বন্দরনগরী সিরিকের একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাব দিয়েছে আইআরজিসি। তবে বন্দরের মূল অবকাঠামো অক্ষত রয়েছে।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ যুদ্ধ শুরুর পর কয়েক মাস ধরে কার্যত অচল ছিল। শান্তি চুক্তির পর গত দুই সপ্তাহে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে নেমে আসে। তবে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে সেই পরিস্থিতি আবারও বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণ রুট ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিপরীতে ইরান চায়, জাহাজগুলো তাদের নিয়ন্ত্রিত উত্তর রুট ব্যবহার করুক এবং ভবিষ্যতে এ জন্য ফি আদায়ের পরিকল্পনাও করছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের শিপিং নির্দেশনা অমান্য করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ পরিস্থিতিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলছে। নতুন কোনো সংঘাতের দায় ইরানকেই নিতে হবে এবং যেকোনো সহিংসতার জবাব দেওয়া হবে কঠোরভাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার বন্ধ থাকার সময় এমন উত্তেজনা অতীতেও দেখা গেছে। তবে রোববারের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সোমবার বিশ্ববাজার খুলতেই তেলের দামে নতুন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ