ইরানকে ঘিরে কয়েক মাসের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তির আভাস দেখা যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশায় দ্রুত কমছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ফলে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২২ ডলার বা ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ৭২ দশমিক ৫২ ডলারে নেমেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ০২ ডলার বা ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৩২ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উভয় ধরনের তেলের দামই এখন ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে, প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ৭০২ টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)। এক ব্যারেল সমান প্রায় ১৫৯ লিটার হওয়ায় প্রতি লিটার অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম পড়ছে প্রায় ৫৪ টাকা ৭৩ পয়সা।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সেপ্টেম্বরের তুলনায় কম। সেপ্টেম্বরের জন্য চুক্তিভিত্তিক মূল্য ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৫৯ ডলার। সাধারণত ভবিষ্যৎ মাসের তুলনায় নিকটবর্তী মাসের তেলের দাম কমে যাওয়া বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং পরিবহন ঝুঁকি কমে আসায় বাজারে স্বস্তি ফিরছে। এর প্রভাব সরাসরি তেলের দামে প্রতিফলিত হচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন) এক জ্বালানি বিষয়ক ফোরামে মার্কিন জ্বালানি সচিব Chris Wright জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল এখন প্রায় যুদ্ধ-পূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
তার মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২ কোটি ব্যারেল তেল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করেছে। তবে প্রণালিটি পুরোপুরি মাইনমুক্ত করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ফলে শতভাগ স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে।
তবে সামগ্রিকভাবে তেলের বাজারে যে চাপ কমছে, তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
ইরানকে ঘিরে কয়েক মাসের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তির আভাস দেখা যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশায় দ্রুত কমছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ফলে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২২ ডলার বা ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ৭২ দশমিক ৫২ ডলারে নেমেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ০২ ডলার বা ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৩২ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উভয় ধরনের তেলের দামই এখন ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে, প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ৭০২ টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)। এক ব্যারেল সমান প্রায় ১৫৯ লিটার হওয়ায় প্রতি লিটার অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম পড়ছে প্রায় ৫৪ টাকা ৭৩ পয়সা।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সেপ্টেম্বরের তুলনায় কম। সেপ্টেম্বরের জন্য চুক্তিভিত্তিক মূল্য ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৫৯ ডলার। সাধারণত ভবিষ্যৎ মাসের তুলনায় নিকটবর্তী মাসের তেলের দাম কমে যাওয়া বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং পরিবহন ঝুঁকি কমে আসায় বাজারে স্বস্তি ফিরছে। এর প্রভাব সরাসরি তেলের দামে প্রতিফলিত হচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন) এক জ্বালানি বিষয়ক ফোরামে মার্কিন জ্বালানি সচিব Chris Wright জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল এখন প্রায় যুদ্ধ-পূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
তার মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২ কোটি ব্যারেল তেল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করেছে। তবে প্রণালিটি পুরোপুরি মাইনমুক্ত করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ফলে শতভাগ স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে।
তবে সামগ্রিকভাবে তেলের বাজারে যে চাপ কমছে, তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন