গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর রুটে চলাচলকারী ‘মৌমিতা পরিবহন’র বাসে চাঁদাবাজি ও চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ার মিশনপাড়া এলাকায় মৌমিতা পরিবহনের কয়েকটি বাস থামিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
মৌমিতা পরিবহনের কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ায় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সদস্য মাহবুব উল্লাহ তপন, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিরা সর্দার, বরকত ও বুদ্ধিসহ তাদের অনুসারীরা বাস চলাচলে বাধা দেন এবং শ্রমিকদের মারধর করেন।
তারা আমাদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। চাঁদা না দেওয়ায় আমাদের ওপর অত্যাচার করা হলো, মারধর করা হলো। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, কর্ম করে খেতে চাই। কোনো অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা করছি না। আমাদের ওপর কেন এই অত্যাচার করা হবে?"
চাঁদাবাজি ও মারধরের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তবে তিনি পাল্টা অভিযোগ তুলে ঘটনার পেছনে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেছেন।
টিপু বলেন:
"মৌমিতা পরিবহনের মালিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির সঙ্গে মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সমিতির নাম করে একটি পক্ষ অর্থ আদায় করছে এবং সেই টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। মূলত নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণেই আমাদের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন মহানগর ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বরকত উল্লাহ ও সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন বুদ্ধি। তাদের দাবি, কথিত যুবদল নেতার নেতৃত্বে মেট্রোহল স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিকারী শ্রমিক লীগ সভাপতি কালা তাদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বরকত উল্লাহ বলেন: "মৌমিতা বাসের কারণে শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম যাতে মৌমিতা পরিবহন এই রুটে না আসে। কিন্তু এই ভালো উদ্যোগকে কেন্দ্র করে কালা ও তার চক্র আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।"
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিরা সরদার, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাদশা মিয়া বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল হোসেন, ১২ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম এবং যুবদল নেতা সাইদুজ্জামান শহিদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
চাঁদাবাজির এই নাটকীয় মোড় ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়ে মৌমিতা পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার আমিনুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিন্ন তথ্য দেন। আমিনুর রহমান জানান: "আমরা ২০২৪ সালের পর থেকে কাউকে কোনো টাকা দিইনি। চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমার জানা নেই।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আজ চাষাড়ায় আমাদের কয়েকটি বাস থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল এটা সত্য, তবে কারা এটি করেছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ধারণা করছি, বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে আমাদের শ্রমিকদের ব্যবহার করে এসব অভিযোগ করাচ্ছে।"
বাস থামানো এবং চাঁদা দাবির এই ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও সাধারণ যাত্রীদের মাঝে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর রুটে চলাচলকারী ‘মৌমিতা পরিবহন’র বাসে চাঁদাবাজি ও চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ার মিশনপাড়া এলাকায় মৌমিতা পরিবহনের কয়েকটি বাস থামিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
মৌমিতা পরিবহনের কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ায় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সদস্য মাহবুব উল্লাহ তপন, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিরা সর্দার, বরকত ও বুদ্ধিসহ তাদের অনুসারীরা বাস চলাচলে বাধা দেন এবং শ্রমিকদের মারধর করেন।
তারা আমাদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। চাঁদা না দেওয়ায় আমাদের ওপর অত্যাচার করা হলো, মারধর করা হলো। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, কর্ম করে খেতে চাই। কোনো অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা করছি না। আমাদের ওপর কেন এই অত্যাচার করা হবে?"
চাঁদাবাজি ও মারধরের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তবে তিনি পাল্টা অভিযোগ তুলে ঘটনার পেছনে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেছেন।
টিপু বলেন:
"মৌমিতা পরিবহনের মালিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির সঙ্গে মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সমিতির নাম করে একটি পক্ষ অর্থ আদায় করছে এবং সেই টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। মূলত নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণেই আমাদের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন মহানগর ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বরকত উল্লাহ ও সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন বুদ্ধি। তাদের দাবি, কথিত যুবদল নেতার নেতৃত্বে মেট্রোহল স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিকারী শ্রমিক লীগ সভাপতি কালা তাদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বরকত উল্লাহ বলেন: "মৌমিতা বাসের কারণে শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম যাতে মৌমিতা পরিবহন এই রুটে না আসে। কিন্তু এই ভালো উদ্যোগকে কেন্দ্র করে কালা ও তার চক্র আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।"
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিরা সরদার, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাদশা মিয়া বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল হোসেন, ১২ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম এবং যুবদল নেতা সাইদুজ্জামান শহিদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
চাঁদাবাজির এই নাটকীয় মোড় ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়ে মৌমিতা পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার আমিনুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিন্ন তথ্য দেন। আমিনুর রহমান জানান: "আমরা ২০২৪ সালের পর থেকে কাউকে কোনো টাকা দিইনি। চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমার জানা নেই।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আজ চাষাড়ায় আমাদের কয়েকটি বাস থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল এটা সত্য, তবে কারা এটি করেছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ধারণা করছি, বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে আমাদের শ্রমিকদের ব্যবহার করে এসব অভিযোগ করাচ্ছে।"
বাস থামানো এবং চাঁদা দাবির এই ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও সাধারণ যাত্রীদের মাঝে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন