ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হিজাব ছাড়া গান গেয়ে বিপাকে ইরানি গায়িকা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬

হিজাব ছাড়া গান গেয়ে বিপাকে ইরানি গায়িকা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের তরুণ সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি (২৯) দেশটির আদালতের কঠোর রায়ে ৭৪টি দোররা ও একাধিক নিষেধাজ্ঞার শাস্তি পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউটিউব লাইভে ‘আজ খুনে জাভানানে ওয়াতান’ শিরোনামের একটি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন তিনি। সেই পরিবেশনায় তিনি হিজাব ছাড়াই অংশ নেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে ইরানি কর্তৃপক্ষ সেটিকে “অশ্লীল ও অনৈতিক কনটেন্ট” হিসেবে আখ্যা দেয়। এরপর পারাস্তু আহমাদি এবং তার কয়েকজন সহকর্মীকে আটক করা হয়। পরে তারা জামিনে মুক্তি পেলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলতে থাকে।

সম্প্রতি কোম প্রদেশের আদালত রায়ে জানান, পারাস্তু আহমাদি এবং তার দলের আট সদস্যকে ৭৪টি করে দোররা মারা হবে। পাশাপাশি গায়িকাকে দুই বছরের জন্য সংগীত পরিবেশনা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তার দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রায় প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। মানবাধিকারকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীরা এটিকে মতপ্রকাশ ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর দমনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

ইরানি অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি এবং নির্বাসিত অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকিসহ অনেকেই এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন Center for Human Rights in Iran-এর অ্যাডভোকেসি পরিচালক বাহার ঘান্দেহারি বলেন, কেবল গান গাওয়া ও হিজাব ছাড়া উপস্থিত থাকার কারণে এমন শাস্তি অত্যন্ত কঠোর এবং উদ্বেগজনক।

আইন বিশেষজ্ঞ মইন খাজায়েলির মতে, ইরানের প্রচলিত আইনে নারীদের গান গাওয়াকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই এই ঘটনাকে “অশ্লীলতা” হিসেবে ব্যাখ্যা করা আইনের অপপ্রয়োগ বলেই মনে করছেন তিনি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও ইরানে শিল্পীদের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


হিজাব ছাড়া গান গেয়ে বিপাকে ইরানি গায়িকা

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

ইরানের তরুণ সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি (২৯) দেশটির আদালতের কঠোর রায়ে ৭৪টি দোররা ও একাধিক নিষেধাজ্ঞার শাস্তি পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউটিউব লাইভে ‘আজ খুনে জাভানানে ওয়াতান’ শিরোনামের একটি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন তিনি। সেই পরিবেশনায় তিনি হিজাব ছাড়াই অংশ নেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে ইরানি কর্তৃপক্ষ সেটিকে “অশ্লীল ও অনৈতিক কনটেন্ট” হিসেবে আখ্যা দেয়। এরপর পারাস্তু আহমাদি এবং তার কয়েকজন সহকর্মীকে আটক করা হয়। পরে তারা জামিনে মুক্তি পেলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলতে থাকে।

সম্প্রতি কোম প্রদেশের আদালত রায়ে জানান, পারাস্তু আহমাদি এবং তার দলের আট সদস্যকে ৭৪টি করে দোররা মারা হবে। পাশাপাশি গায়িকাকে দুই বছরের জন্য সংগীত পরিবেশনা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তার দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রায় প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। মানবাধিকারকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীরা এটিকে মতপ্রকাশ ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর দমনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

ইরানি অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি এবং নির্বাসিত অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকিসহ অনেকেই এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন Center for Human Rights in Iran-এর অ্যাডভোকেসি পরিচালক বাহার ঘান্দেহারি বলেন, কেবল গান গাওয়া ও হিজাব ছাড়া উপস্থিত থাকার কারণে এমন শাস্তি অত্যন্ত কঠোর এবং উদ্বেগজনক।

আইন বিশেষজ্ঞ মইন খাজায়েলির মতে, ইরানের প্রচলিত আইনে নারীদের গান গাওয়াকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই এই ঘটনাকে “অশ্লীলতা” হিসেবে ব্যাখ্যা করা আইনের অপপ্রয়োগ বলেই মনে করছেন তিনি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও ইরানে শিল্পীদের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ