নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সাইনবোর্ড সরিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টানানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদমজী মুন লাইট সিনেমা হলের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
কার্যালয়টি সংসদ সদস্যের অনুসারীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আজহারুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে গত ১০ জানুয়ারি এই কার্যালয়টি ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা’ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছিল। কার্যালয়ের প্রধান ফটকে জেলা বিএনপির সাইনবোর্ডের পাশাপাশি ভেতরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ এবং জেলার অন্যান্য সংসদ সদস্য—মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া (নারায়ণগঞ্জ-১), নজরুল ইসলাম (নারায়ণগঞ্জ-২), আজহারুল ইসলাম (নারায়ণগঞ্জ-৩) ও আবুল কালামের (নারায়ণগঞ্জ-৫) ছবি টাঙানো ছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের অনুসারী ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন নেতাকর্মী কার্যালয়ে আসেন। তারা জেলা বিএনপির মূল সাইনবোর্ডটি সরিয়ে সেখানে ‘মাননীয় সংসদ সদস্য নারায়ণগঞ্জ-৩–এর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কার্যালয়’ লেখা নতুন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে ভেতরে শুধু আজহারুল ইসলামের ছবি রেখে বাকি তিন সংসদ সদস্যের ছবি অপসারণ করা হয়।
সাইনবোর্ড ও ছবি সরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মনির হোসেন বলেন,
"এমপি সাহেব সপ্তাহে একদিন এখানে বসে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলবেন। ভেতরে কাজ চলছে, তাই অন্য এমপিদের ছবি সরানো হয়েছে।" তবে জেলা বিএনপির সাইনবোর্ডটি পরবর্তীতে আবার রাখা হবে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিক, সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান কার্যালয়টি জেলার নয় দাবি করে বলেন,
"জেলা বিএনপির অফিস জেলার ভেতরে থাকবে, সেখানে কোনো এমপির ছবি থাকবে না। থানা কার্যালয়ে স্থানীয় এমপি হিসেবে আমার ছবি থাকতেই পারে, এটা দোষের কিছু নয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বলেন, কার্যালয়টি জেলা বিএনপির নামেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল এবং তা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। এটি কোনো ব্যক্তির একক কার্যালয় হতে পারে না।
বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত’ আখ্যা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ বলেন:
"কার্যালয়টি দলীয় সবার জন্য উন্মুক্ত। দল মনোনীত ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সেখানে বসতেই পারেন, তবে এটি কারো ব্যক্তিগত কার্যালয় নয়। যেভাবে বাকি সংসদ সদস্যদের ছবি নামানো হয়েছে এবং জেলা বিএনপির সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সাইনবোর্ড সরিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টানানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদমজী মুন লাইট সিনেমা হলের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
কার্যালয়টি সংসদ সদস্যের অনুসারীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আজহারুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে গত ১০ জানুয়ারি এই কার্যালয়টি ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা’ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছিল। কার্যালয়ের প্রধান ফটকে জেলা বিএনপির সাইনবোর্ডের পাশাপাশি ভেতরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ এবং জেলার অন্যান্য সংসদ সদস্য—মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া (নারায়ণগঞ্জ-১), নজরুল ইসলাম (নারায়ণগঞ্জ-২), আজহারুল ইসলাম (নারায়ণগঞ্জ-৩) ও আবুল কালামের (নারায়ণগঞ্জ-৫) ছবি টাঙানো ছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের অনুসারী ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন নেতাকর্মী কার্যালয়ে আসেন। তারা জেলা বিএনপির মূল সাইনবোর্ডটি সরিয়ে সেখানে ‘মাননীয় সংসদ সদস্য নারায়ণগঞ্জ-৩–এর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কার্যালয়’ লেখা নতুন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে ভেতরে শুধু আজহারুল ইসলামের ছবি রেখে বাকি তিন সংসদ সদস্যের ছবি অপসারণ করা হয়।
সাইনবোর্ড ও ছবি সরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মনির হোসেন বলেন,
"এমপি সাহেব সপ্তাহে একদিন এখানে বসে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলবেন। ভেতরে কাজ চলছে, তাই অন্য এমপিদের ছবি সরানো হয়েছে।" তবে জেলা বিএনপির সাইনবোর্ডটি পরবর্তীতে আবার রাখা হবে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিক, সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান কার্যালয়টি জেলার নয় দাবি করে বলেন,
"জেলা বিএনপির অফিস জেলার ভেতরে থাকবে, সেখানে কোনো এমপির ছবি থাকবে না। থানা কার্যালয়ে স্থানীয় এমপি হিসেবে আমার ছবি থাকতেই পারে, এটা দোষের কিছু নয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বলেন, কার্যালয়টি জেলা বিএনপির নামেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল এবং তা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। এটি কোনো ব্যক্তির একক কার্যালয় হতে পারে না।
বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত’ আখ্যা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ বলেন:
"কার্যালয়টি দলীয় সবার জন্য উন্মুক্ত। দল মনোনীত ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সেখানে বসতেই পারেন, তবে এটি কারো ব্যক্তিগত কার্যালয় নয়। যেভাবে বাকি সংসদ সদস্যদের ছবি নামানো হয়েছে এবং জেলা বিএনপির সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত।

আপনার মতামত লিখুন